ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

মিয়ানমারের বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যে দেশটির সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৫৮ জন। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।
মঙ্গলবার নিউইয়র্কে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফান দুজারিক এ উদ্বেগের কথা জানান।
স্টিফান দুজারিক বলেন, মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা প্রমাণ করছে যে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি। সর্বশেষ এই বিমান হামলা সেই বাস্তবতাকে আরও স্পষ্ট করেছে।
হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে মিয়ানমারের সব পক্ষকে অবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এর আগে সোমবার বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইন রাজ্যের কিয়াউকতাও শহরে বিমান হামলাটি চালানো হয়। জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি জানিয়েছে, হামলায় ৫০ জন নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সাহায্যকর্মী ওয়াই হুন অংও এ সংখ্যা নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে নারী ও শিশুসহ অনেকের মরদেহ দেখা গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থু খা অভিযোগ করেছেন, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে জনবহুল বাজার, স্কুল ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এ হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণাও দিয়েছে আরাকান আর্মি।
২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে দেশব্যাপী গৃহযুদ্ধ চলছে। আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দেশটির সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সংঘাতের কারণে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং ৩৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে মালয়েশিয়া। মিয়ানমারের সঙ্গে করা একটি প্রত্যাবাসন পরিকল্পনার আওতায় এটি প্রথম ধাপ। মালয়েশিয়ার দাবি, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটি স্বেচ্ছামূলক। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ উদ্যোগের সমালোচনা করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স
Posted ৭:১১ এএম | বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।