ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 2 বার পঠিত

৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়ন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার একটি এয়ারবাস এ-৩২০ নিও বিমানের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিকল হয়ে যায়। এতে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। হঠাৎ বিমানটি ৩৭২ ফুট ওপরে উঠে আবার ২৯২ ফুট নিচে নেমে আসে। এ ঘটনায় ২৪ জন যাত্রী ও কেবিনকর্মী আহত হন।
ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ২৩৭৯ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। ভারতের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরো (এএআইবি) প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভিটি-ইএক্সও নিবন্ধনের বিমানটি ২০১৮ সালে তৈরি। ঘটনার সময় এতে ১৩৭ জন যাত্রী, ছয়জন কেবিনকর্মী ও দুজন পাইলট ছিলেন। ফুকেট থেকে উড্ডয়নের সময় বিমানে কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি।
স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিট ৪৩ সেকেন্ডে বিমানটি ৩৬ হাজার ফুট উচ্চতায় থাকা অবস্থায় প্রথমে সবুজ হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় চাপ কমে যাওয়ার সংকেত পাওয়া যায়। মাত্র চার সেকেন্ড পর নীল ও হলুদ হাইড্রোলিক ব্যবস্থাও বিকল হয়ে যায়।
এয়ারবাস এ-৩২০ বিমানে সবুজ, নীল ও হলুদ—তিনটি পৃথক হাইড্রোলিক ব্যবস্থা থাকে। বিমানের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ পরিচালনায় এসব ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় শক্তি সরবরাহ করে। একটি ব্যবস্থা বিকল হলেও অন্য দুটি সচল থাকার কথা। তাই তিনটি ব্যবস্থা একই সময়ে বিকল হয়ে যাওয়াকে অত্যন্ত বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হওয়ার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে সতর্কসংকেত বাজতে থাকে। এর তিন সেকেন্ড পর দুই সেকেন্ডের জন্য ‘স্টল’ সতর্কসংকেতও চালু হয়।
এএআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ সময় বিমানটির উচ্চতায় অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটে। নির্ধারিত ৩৬ হাজার ফুটের চেয়ে প্রথমে ৩৭২ ফুট ওপরে উঠে যায় বিমানটি। পরে আবার ২৯২ ফুট নিচে নেমে আসে।
ঘটনার সময় সিটবেল্ট বাঁধার সংকেত বন্ধ ছিল। ফলে আকস্মিক উচ্চতা পরিবর্তনের সময় কয়েকজন যাত্রী ও কেবিনকর্মী আসন থেকে ছিটকে গিয়ে বিমানের ছাদ ও মাথার ওপরের মালপত্র রাখার তাকের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে ২৪ জন আহত হন। কেবিনের বিভিন্ন অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তবে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই হাইড্রোলিক ব্যবস্থাগুলো আবার সচল হতে শুরু করে। প্রথমে নীল, এরপর হলুদ ও সবুজ ব্যবস্থা কার্যকর হয়। ফলে বিমানের উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও স্বাভাবিক হয়ে আসে।
ঘটনার সময় বিমানটি চালাচ্ছিলেন সহকারী পাইলট। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর প্রধান পাইলট নিয়ন্ত্রণ নেন। পরে তাঁরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। পথে কাছাকাছি কোনো বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করা হয়নি।
কেন একসঙ্গে বিকল হলো তিন হাইড্রোলিক ব্যবস্থা?
তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কী কারণে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বিকল হয়েছিল, তার কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি এএআইবি। একইভাবে এত দ্রুত সেগুলো আবার কীভাবে সচল হলো, সেটিও স্পষ্ট নয়।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্তকারীরা বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থার বিভিন্ন যন্ত্রাংশ, হাইড্রোলিক তরল, জ্বালানি ও তেলের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন-সংক্রান্ত নথি এবং দিল্লি ও কলকাতার বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের তথ্যও সংগ্রহ করা হয়েছে।
বিমানের উড্ডয়ন তথ্য রেকর্ডার ও ককপিট ভয়েস রেকর্ডারও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। এয়ারবাসের নিয়োগ করা প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ১৩ থেকে ১৫ আগস্ট বিমানটি পরীক্ষা করেন।
এএআইবি জানিয়েছে, তদন্ত এখনো চলছে। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সম্ভাব্য কারণ ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে।
পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন
দিল্লিতে অবতরণের পর দুই পাইলটের উড্ডয়ন-পরবর্তী চিকিৎসা পরীক্ষা করা হয়। তাঁদের শ্বাস-পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক ছিল। পাশাপাশি বিশেষ কিটের মাধ্যমে মাদকজাতীয় পদার্থ শনাক্তের পরীক্ষাও করা হয়।
সহকারী পাইলটের দুটি পরীক্ষার ফলই নেতিবাচক আসে। তবে প্রধান পাইলটের প্রাথমিক পরীক্ষার ফল ‘নেতিবাচক নয়’ হিসেবে পাওয়া যায়। পরে নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাঁর রক্তের নমুনা পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।
তবে পাইলটের পরীক্ষার ফলের সঙ্গে বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা বিকল হওয়ার ঘটনার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, প্রাথমিক প্রতিবেদনে তা বলা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।
অন্তর্বর্তীকালীন নিরাপত্তা সুপারিশে এএআইবি পাইলটদের মাদকজাতীয় পদার্থের অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।
এদিকে এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তদন্তে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করছে। সংশ্লিষ্ট পরিচালন, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রযুক্তিগত নথিতে তদন্তকারীদের প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সব পাইলটের স্বেচ্ছামূলক শতভাগ পরীক্ষা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সাবেক পাইলট ও বিমান বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কীভাবে বিকল হলো—এটাই তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এর সুনির্দিষ্ট কারণ চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনেই জানা যাবে।
সূত্র: নিউজ১৮, টাইমস অব ইন্ডিয়া
Posted ৭:১৩ এএম | রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।