নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 3 বার পঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার ‘খদর’-এ আস্ত খাসি না থাকায় বিয়ে না করেই কনের বাড়ি থেকে ফিরে গেছেন জাপানপ্রবাসী বর জুনায়েদ। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার শেষ মুহূর্তে খাসি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বিয়ে করবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। আত্মীয়-স্বজন ও কনেপক্ষের লোকজন অনেক বুঝিয়েও তার চলে যাওয়া ঠেকাতে পারেননি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জুনায়েদ কসবা উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা উপলক্ষে সোমবার বরযাত্রীসহ কনের বাড়িতে পৌঁছান জুনায়েদ। সেখানে ফুল দিয়ে তাকে বরণ করা হয়। তবে ফুলের আয়োজন নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে উপস্থিত লোকজনের সামনে বিরূপ মন্তব্য করেন জুনায়েদ। পরে গেট ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে বসানো হয়।
একপর্যায়ে আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়া-দাওয়া শেষে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বরপক্ষের জন্য স্থানীয়ভাবে পরিচিত ঐতিহ্যবাহী ‘খদর’ খাবার পরিবেশন করা হয়। এতে আস্ত খাসি না থাকায় বাধ সাধেন জুনায়েদ। খাসি ছাড়া খাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। বলেন, খাসি দেওয়া না হলে বিয়েও করবেন না।
তখন কনেপক্ষের আত্মীয়-স্বজনসহ উপস্থিত অনেকে তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনোভাবেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না করেই একা কনের বাড়ি থেকে ফিরে যান এই জাপানপ্রবাসী।
কনের বাবা শফিক মিয়া বলেন, “খাসির বিষয়টি আগে জানানো হলে অবশ্যই খাসির ব্যবস্থা করতাম। আমাকে আগে এ বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি। পরে আত্মীয়-স্বজনসহ সবাই মিলে ছেলেটিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই রাজি হননি।”
স্থানীয় ইউপি সদস্য আশিক মিয়া বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কোনো বাবা-মা চান না মেয়ের বিয়েতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হোক। খাসির বিষয়টি সামনে আসার পর তাকে অনেকভাবে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি খাসি ছাড়া বিয়ে করতে রাজি হননি। এমন আচরণে তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ মনে হয়েছে।”
Posted ১০:০০ এএম | মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।