ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 2 বার পঠিত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার প্রদেশের বারা এলাকায় এ সংঘর্ষের সময় বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে প্রাদেশিক প্রশাসন।
প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিত করে কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পিটিআই নেতাদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ব্যবহার করেছে।
জঙ্গি সহিংসতা বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে গত রোববার খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। এর মাধ্যমে প্রদেশটির প্রশাসনের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে ইমরান খানের দল এ পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের অজুহাত হিসেবে অভিহিত করেছে।
প্রাদেশিক প্রশাসনের তথ্য ব্যবস্থাপক সামার হারুন বিলুর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, পুলিশের সরাসরি গুলিবর্ষণের অভিযোগ ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি ভিডিও ব্যবহার করে বেনামি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট থেকে এসব অভিযোগ ছড়ানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ পরিকল্পিত দাঙ্গা ও ভাঙচুরের জবাব দিয়েছে। এ ঘটনায় প্রায় ৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইমরান খানের সহযোগী ও পিটিআইয়ের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ভিডিওগুলোতে বারা এলাকার প্রধান বাজারে সংঘটিত সহিংসতার চিত্র উঠে এসেছে। জরুরি অবস্থা জারি ও গভর্নরের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপকে অভ্যুত্থান হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সতর্ক করেছেন, এর প্রভাব অন্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
পিটিআই কর্মকর্তাদের দাবি, সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। সবচেয়ে গুরুতর ঘটনার খবর পাওয়া গেছে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ার থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের বারা এলাকায়।
পিটিআইয়ের তথ্যসচিব ইকরাম খাটানা অভিযোগ করেন, অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা বারায় জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের (নাদরা) একটি কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া আশপাশের কয়েকটি কার্যালয়েও হামলা চালানো হয়েছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, তা ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তদন্ত করে নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সামার হারুন বিলুর।
তবে সংঘর্ষের ভিডিও এবং গুলি চালানোর অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স।
খাইবার পাখতুনখোয়ায় পিটিআই নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম স্থগিতের ঘটনা ইমরান খানের রাজনৈতিক সংকটকে আরও গভীর করেছে। ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী।
সামরিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় উসকানি ও দুর্নীতিসহ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইমরান খান দাবি করে আসছেন, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা করতেই মামলাগুলো করা হয়েছে। তাঁর স্ত্রী, তিন বোন এবং দলের বহু নেতাকর্মীও বিভিন্ন সময়ে আটক হয়েছেন।
সূত্র: রয়টার্স
Posted ৬:৫৬ এএম | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।