ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল দেশের অর্থনীতি: রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   7 বার পঠিত

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে সচল দেশের অর্থনীতি: রাষ্ট্রপতি

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিকে সচল রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান অপরিসীম। তাই তাঁদের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (আরএমএমআরইউ) ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ‘সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। তাঁদের পাঠানো অর্থে দেশের অর্থনীতি সচল রয়েছে। তাই প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বও অনেক বেশি।

তিনি বলেন, রেমিট্যান্সের প্রতিটি ডলারের পেছনে রয়েছে একজন মানুষের শ্রম, ত্যাগ ও স্বপ্ন। তাঁদের অধিকার রক্ষা, মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং অর্জনকে দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।

দক্ষতার অভাবে বিদেশে গিয়ে দুর্ভোগ

বিদেশগামী কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ঘাটতি তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অনেক কর্মী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করেই বিদেশে যান। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই দেশ ছাড়েন। আবার নির্ধারিত কাজের দক্ষতা না থাকায় তাঁদের অনেকে মানবেতর জীবনযাপনে বাধ্য হন।

মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও মধ্যপ্রাচ্যে প্রবাসীদের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁরা অনেক কষ্ট করে উপার্জন করেন এবং সেই অর্থের প্রায় পুরোটাই দেশে পাঠিয়ে দেন। তাই দেশে তাঁদের সর্বোচ্চ সম্মান দেওয়া উচিত। কারণ, তাঁরাই দেশের অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স রাষ্ট্র পরিচালনা, দেশে কলকারখানা গড়ে তোলা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান দুটি খাত হলো তৈরি পোশাকশিল্প (আরএমজি) ও রেমিট্যান্স।

বিদেশ যেতে খরচ হচ্ছে ৫-৬ লাখ টাকা

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ব্যয় বৃদ্ধির প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি অতীতের একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একবার মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষে জানিয়েছিলেন, সৌদি আরব তাদের পৌরসভার জন্য ১০ হাজার শ্রমিক নেবে। তাঁদের শুধু পাসপোর্ট তৈরি করতে হবে; বাকি টিকিট ও অন্যান্য খরচ সৌদি আরব বহন করবে।

বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এখন বিদেশে যেতে কর্মীদের নিজেদের খরচের পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন ব্যয়ও বহন করতে হয়। সব মিলিয়ে অনেককে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে।

প্রবাসীদের এই ভোগান্তির জন্য বিভিন্ন মধ্যস্বত্বভোগী, প্রভাবশালী ব্যক্তি ও এজেন্সির ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অভিবাসন নিরাপদ ও পরিকল্পিত করার আহ্বান

বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিত করতে উপজেলা পর্যায়ে ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার চালু ও প্রবাসী কার্ড প্রবর্তনসহ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি।

এ সময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে তাঁদের ধন্যবাদ জানান তিনি। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ‘অভিবাসন দশক’ বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন, মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে। প্রবাসী ও প্রত্যাগত কর্মীদের জাতীয় উন্নয়নের সমান অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন বক্তব্য দেন।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি সাতটি ক্যাটাগরিতে ‘সোনার মানুষ’ সম্মাননা স্মারক ও ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন। আরএমএমআরইউর নির্বাহী পরিচালক ড. তাসনীম সিদ্দিকী নীতিনির্ধারণী বিষয় ও পরবর্তী বছরের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। সংগঠনটির উপনির্বাহী পরিচালক মোতাসিম বিল্লাহ স্বাগত বক্তব্য দেন।

Facebook Comments Box

Posted ৬:১৬ পিএম | বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।