ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 1 বার পঠিত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে নারীদের মেধা ও বৈজ্ঞানিক প্রতিভা বিকাশে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে চালু করা হয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা ‘হাকিলি মুসো’। বিজ্ঞানে মেধাবী তরুণীদের উৎসাহিত করা, তাদের প্রতিভার স্বীকৃতি দেওয়া এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
সংবাদমাধ্যম ব্রিফলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুনে এক আদেশের মাধ্যমে দেশটিতে প্রচলিত সব ধরনের সুন্দরী প্রতিযোগিতা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক ঐতিহ্য ও মানবমর্যাদা রক্ষায় নতুন নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে। এ প্রক্রিয়া চলাকালে সুন্দরী প্রতিযোগিতাগুলো বন্ধ থাকবে।
এরপর গত আগস্টে এসব প্রতিযোগিতার বিকল্প হিসেবে নারীদের মেধা, বুদ্ধি ও বৈজ্ঞানিক দক্ষতাকে গুরুত্ব দিয়ে ‘হাকিলি মুসো’ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালুর সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
প্রতিযোগিতার প্রথম আসরেই অংশ নেন ৮৪ জন তরুণী। তারা সবাই ২০২৬ সালে বিজ্ঞানে ব্যাকালোরেট বা উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের ডিগ্রি অর্জন করেন। বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে মূল প্রতিযোগিতার আগে তাদের জন্য আয়োজন করা হয় সপ্তাহব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবির বা বুট ক্যাম্প।
প্রশিক্ষণ শেষে প্রতিযোগীরা গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের মতো বিষয়ে লিখিত ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশ নেন। প্রতিটি বিষয়ে সেরা পাঁচজনকে বিজয়ী নির্বাচিত করে পুরস্কার ও শিক্ষাবৃত্তি দেওয়া হয়।
প্রতিযোগিতায় প্রতিটি বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী তরুণীরা প্রত্যেকে পান ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঙ্ক, একটি উন্নতমানের মোটরসাইকেল, একটি ল্যাপটপ এবং বিভিন্ন উপহারসামগ্রী।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী তরুণীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ও সামরিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম ট্রাওরে। তিনি তাদের অভিনন্দন জানান এবং নিজেদের সামর্থ্য ও সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
বিজ্ঞানভিত্তিক পেশায় এগিয়ে যাওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট তরুণীদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তাঁর সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য বিজয়ীদের উৎসাহিত করেছে।
পশ্চিম আফ্রিকার সমাজে বিজ্ঞানভিত্তিক পেশাকে পুরুষদের ক্ষেত্র হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণা ভাঙাও এ প্রতিযোগিতার অন্যতম উদ্দেশ্য। বুরকিনা ফাসো সরকারের প্রত্যাশা, ‘হাকিলি মুসো’র মাধ্যমে আরও বেশি নারী বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী হবেন এবং নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবেন।
সূত্র: আফ্রিকা ডট ওয়ার্ল্ড
Posted ৮:৫৯ এএম | বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।