ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 3 বার পঠিত

পারমাণবিক অস্ত্র সংক্রান্ত সাংবিধানিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আরও এক ধাপ এগিয়েছে ন্যাটো সদস্য লিথুয়ানিয়া। এর মাধ্যমে দেশটির ভূখণ্ডে বিদেশি পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের পথ সুগম হতে পারে। তবে এমন সিদ্ধান্তের গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে ইতোমধ্যে সতর্ক করেছে রাশিয়া।
গত মঙ্গলবার লিথুয়ানিয়ার পার্লামেন্টে সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন ৯৯ জন আইনপ্রণেতা। বিপক্ষে ভোট দেন ১৩ জন এবং পাঁচজন ভোটদানে বিরত থাকেন।
প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদনের জন্য আরও দুটি ভোটাভুটি প্রয়োজন। আগামী ৬ অক্টোবর এবং ২০২৭ সালের ১২ জানুয়ারি এসব ভোট অনুষ্ঠিত হবে। উভয় ভোটেই ১৪১ সদস্যের পার্লামেন্টে অন্তত ৯৪ জনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
প্রস্তাবটি পাস হলে সংবিধানের ১৩৭ নম্বর অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত হবে। এই অনুচ্ছেদে দেশটির ভূখণ্ডে গণবিধ্বংসী অস্ত্র ও বিদেশি সামরিক ঘাঁটি স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিলটির সমর্থকদের দাবি, পুরোনো এই বিধান বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের মতে, পরমাণু অস্ত্র গ্রহণের সুযোগ তৈরি হলে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লিথুয়ানিয়ার প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
তবে বিরোধীরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রস্তাবটি নিয়ে গণভোটেরও দাবি জানিয়েছেন। লিথুয়ানিয়ার প্রেসিডেন্ট গিতানাস নাউসেদা অবশ্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন।
রাশিয়ার কড়া হুঁশিয়ারি
লিথুয়ানিয়ার এই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাকারোভা প্রস্তাবিত পরিবর্তনকে ‘পুরোপুরি দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ন্যাটো সদস্যরা উসকানিমূলক নীতি অনুসরণ করছে এবং লিথুয়ানিয়াকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহারের সম্ভাব্য একটি এলাকায় পরিণত করছে।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সতর্ক করে বলেছেন, লিথুয়ানিয়া যদি তাদের ভূখণ্ডে বিদেশি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের অনুমতি দেয়, তাহলে দেশটি রাশিয়ার পারমাণবিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
তবে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে ন্যাটো দেশগুলোতে হামলার কোনো পরিকল্পনা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।
ইউরোপে বাড়ছে পারমাণবিক প্রতিরোধ নিয়ে আলোচনা
ইউরোপজুড়ে নতুন পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনার মধ্যেই লিথুয়ানিয়ায় এই বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গত মার্চে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশটির পারমাণবিক নীতিতে কিছু পরিবর্তনের ঘোষণা দেন। এর মধ্যে সাময়িকভাবে ইউরোপের অন্য কোনো দেশে ফরাসি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের সম্ভাবনাও ছিল।
এরপর ফিনল্যান্ড বিদেশি পারমাণবিক অস্ত্র রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। একই উদ্যোগে অংশ নিতে প্যারিসের সঙ্গে আলোচনা শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে লাটভিয়াও।
ন্যাটোর পারমাণবিক অংশীদারিত্ব ব্যবস্থার আওতায় বর্তমানে বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও তুরস্কে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন রয়েছে।
এদিকে গত জুনে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, ইউরোপের আরও কয়েকটি ন্যাটো সদস্য দেশে পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের বিষয় বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন।
সূত্র: আরটি
Posted ৮:০৬ এএম | বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।