ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 137 বার পঠিত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তিন বোনকে ৩০ দিনের জন্য আটক রাখার আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অবিলম্বে মুক্তির আবেদনও জানানো হয়েছে।
সোমবার দাখিল করা ওই আবেদনে ইমরান খানের বোন আলিমা খানের ছেলে শাহরাইজ খান বলেন, তার মা আলিমা খান এবং ইমরানের অন্য দুই বোন উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকের বিরুদ্ধে জারি করা আটকাদেশ আইনসম্মত নয়।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম দ্য এক্সপ্রেস ট্রিবিউন ও এএনআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরের ডেপুটি কমিশনার জনশৃঙ্খলা রক্ষা অধ্যাদেশের ৩ নম্বর ধারায় ৩০ দিনের আটকাদেশ জারি করেন। ওই আদেশে আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককে আটকের ব্যবস্থা করা হয়। আলিমা খানকে এর আগেই আটক করা হয়েছিল। পরে সোমবার উজমা খান ও নরিন নিয়াজিককেও আটক করা হয়।
আবেদনে শাহরাইজ খান দাবি করেন, ব্যক্তিগত কাজে যাওয়ার সময় আলিমা খানকে আটক করা হয়। ওই সময় জনশৃঙ্খলা বা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন কোনো জনসমাবেশ বা পরিস্থিতি ছিল না।
আবেদনে আরও বলা হয়, আলিমা খান ও তার গাড়িচালক মুহাম্মদ আমিরকে লাহোর সেন্ট্রাল জেলে রাখা হয়েছে। শাহরাইজ খানের দাবি, তার মা আইন মেনে চলা একজন নাগরিক এবং জননিরাপত্তা বা জনস্বার্থের ক্ষতি হতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন না।
আবেদনকারীর অভিযোগ, রাজনৈতিক বিরোধীদের চাপ এবং পুলিশের মৌখিক পরামর্শের ভিত্তিতে স্থানীয় প্রশাসন এই আটকাদেশ জারি করেছে। সরকারি নথিতেও আলিমা খান, উজমা খান ও নরিন নিয়াজিকের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উল্লেখ করা হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, লাহোরের ডেপুটি কমিশনার, লাহোর পুলিশের প্রধান এবং লাহোর সেন্ট্রাল জেলের কারা তত্ত্বাবধায়ককে বিবাদী করা হয়েছে।
এদিকে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের একের পর এক আটকের ঘটনায় তার ছেলে কাসিম খান ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তার খালা উজমা খান ও নরিন নিয়াজিক এবং চাচাতো ভাই শেরশাহ ও শাহরাইজ খানকে বাড়ি থেকে জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
তাদের কেন আটক করা হয়েছে বা কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা বা তথ্য দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন কাসিম খান। তিনি এসব ঘটনাকে ‘অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ বলে অভিযোগ করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পিটিআইয়ের ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে সামনে রেখে ইমরান খানের পরিবারের সদস্যদের আটকের ঘটনা ঘটল। আটকাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আবেদনটি এখন লাহোর হাইকোর্টে বিচারাধীন।
সূত্র: এএনআই
Posted ৮:০৪ এএম | মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।