ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | 2 বার পঠিত

জাপানের ব্যাংকিং খাতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত ও সাইবার নিরাপত্তা সংকট দেখা দিয়েছে। প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে দেশটির ১২৮টি ব্যাংকের লেনদেন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। অন্যদিকে, পৃথক এক সাইবার হামলায় ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরপর এ দুই ঘটনায় জাপানের পাশাপাশি ইউরোপের ব্যাংকিং নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
গত ৫ নভেম্বর জাপানের এসএমবিসি কনজ্যুমার ফাইন্যান্স জানায়, হ্যাকাররা তাদের ঋণের জামিনসংক্রান্ত ব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ করেছে। এতে ১৫টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ৩ লাখ ২০ হাজার ১১৮ জন গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছে।
ঝুঁকিতে থাকা তথ্যের মধ্যে রয়েছে গ্রাহকদের নাম, বাসার ঠিকানা, ফোন নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিবরণ, কর্মসংস্থানের তথ্য ও বার্ষিক আয়। এসব তথ্য ব্যবহার করে পরিচয় জালিয়াতি ও আর্থিক প্রতারণার আশঙ্কা রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি ডোকোমো এসএমটিবি নেট ব্যাংক জানিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ ১ লাখ ২২ হাজার ৬৩৫ জন গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়ে থাকতে পারে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আর্থিক ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে বন্ধ ১২৮ ব্যাংকের সেবা
তথ্য চুরির ঘটনার এক দিন পর, ৬ নভেম্বর জাপানের ১২৮টি শিনকিন ব্যাংকের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটে। এসব ব্যাংক মূলত স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ব্যাংকিং সেবা দিয়ে থাকে।
ব্যাংকগুলোর যৌথ নেটওয়ার্ক কেন্দ্রে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে স্থানীয় সময় বেলা দেড়টার দিকে বিপর্যয় শুরু হয়। এতে অর্থ উত্তোলন, অর্থ স্থানান্তর ও শাখাভিত্তিক লেনদেন ব্যাহত হয়। কয়েক ঘণ্টার ভোগান্তির পর সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে সেবা স্বাভাবিক হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কোনো সাইবার হামলা নয়। আগের তথ্য চুরির ঘটনার সঙ্গেও এ বিপর্যয়ের কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি।
ইউরোপের ব্যাংকগুলোও কি ঝুঁকিতে?
জাপানের এ ঘটনা স্পেন ও যুক্তরাজ্যের মতো ইউরোপীয় দেশগুলোর জন্যও সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এসব দেশের ব্যাংকিং কার্যক্রম ক্রমেই ডিজিটাল নেটওয়ার্ক ও তৃতীয় পক্ষের প্রযুক্তিসেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে।
ফলে কোনো একটি যৌথ প্রযুক্তি ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে একসঙ্গে একাধিক ব্যাংকের সেবা ব্যাহত হতে পারে। এতে গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেন থেকে শুরু করে পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
এ ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও আর্থিক খাতের সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত স্থিতিশীলতা জোরদারে কাজ করছে।
জাপানের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো আবারও দেখিয়েছে, আধুনিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শুধু অর্থ ও গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখাই যথেষ্ট নয়। নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর নিরাপত্তা, বিকল্প ব্যবস্থা এবং দ্রুত সংকট মোকাবিলার সক্ষমতাও জরুরি।
তবে জাপানের এ দুই ঘটনার সঙ্গে ইউরোপের কোনো ঘটনার সরাসরি যোগসূত্রের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ইউরো উইকলি নিউজ
Posted ৮:০২ এএম | শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।