ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

ডেস্ক রিপোর্ট   |   মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   5 বার পঠিত

ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ সাবেক মিস সুইজারল্যান্ডের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছেন সাবেক মডেল ও মিস সুইজারল্যান্ড বিয়াত্রিস কিউল। তাঁর অভিযোগ, ১৯৯৩ সালে নিউইয়র্কের প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে হোয়াইট হাউস।

সোমবার প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এক প্রতিবেদনে কিউলের এ অভিযোগ উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের সঙ্গে যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের সম্পর্ক এবং এপস্টেইনের অপরাধে ট্রাম্পের কথিত সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্তের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। খবর দ্য টেলিগ্রাফের।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে কিউল অভিযোগ করেছিলেন, ১৯৯৩ সালের নভেম্বরে প্লাজা হোটেলে ট্রাম্প তাঁকে যৌন হয়রানি করেছিলেন। এবার তিনি দাবি করেছেন, ওই ঘটনায় তাঁকে ধর্ষণও করা হয়েছিল।

কিউল জানান, তাঁর বয়স যখন ২৪ বছর, তখন প্লাজা হোটেলে একটি সুন্দরী প্রতিযোগিতার সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। সে সময় হোটেলটির মালিক ছিলেন ট্রাম্প। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প তাঁকে ভিসার ব্যবস্থা এবং নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

প্রতিবেদনে কিউলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ট্রাম্প তাঁকে বলেছিলেন, ‘আমি তোমার দেখভাল করব।’

কিউলের দাবি, ট্রাম্পের সঙ্গে কথা শেষ হওয়ার পরপরই এপস্টেইন তাঁর কাছে আসেন। এপস্টেইন নিজেকে ট্রাম্পের ‘সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে তাঁকে মার-আ-লাগোতে একটি পার্টিতে আমন্ত্রণ জানান।

অন্যদিকে ট্রাম্প দাবি করে আসছেন, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হওয়ার আগেই তাঁদের বন্ধুত্বের অবসান হয়েছিল। এপস্টেইনকে তিনি ‘বিকৃত রুচির লোক’ বলে বর্ণনা করেছেন। পাশাপাশি তাঁকে মার-আ-লাগো ক্লাব থেকে বের করে দেওয়ার দাবিও করেছেন ট্রাম্প।

ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরে ট্রাম্পের এক প্রতিনিধি কিউলকে প্লাজা হোটেলের ওপরের তলায় ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণ জানান। সেখানে যাওয়ার পর ট্রাম্প তাঁকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন কিউল। এ সময় তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তপাত ও কালশিটে দাগ দেখা দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কিউলের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর ট্রাম্প তাঁকে বিছানার কিনারায় বসান এবং ভিসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি আবারও দেন। একই সঙ্গে ঘটনা গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি চান বলেও অভিযোগ তাঁর।
আগের অভিযোগে যা বলেছিলেন কিউল

২০২৪ সালের অক্টোবরে ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কিউল বলেছিলেন, ট্রাম্প তাঁর ঠোঁট ও ঘাড়ে চুমু দিয়েছিলেন, পোশাক ওপরে তোলার চেষ্টা করেছিলেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে তাঁকে স্পর্শ করেছিলেন। তবে সে সময় তিনি দাবি করেছিলেন, ঘটনা এর চেয়ে বেশি দূর গড়ায়নি। তিনি বাধা দেওয়ার পর ট্রাম্প শান্ত হয়ে যান বলেও জানিয়েছিলেন।

ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে কিউলের দীর্ঘদিনের এক বন্ধুর বরাতে বলা হয়, ট্রাম্পের অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের কথা কিউল প্রায় ২০ বছর আগেই তাঁকে জানিয়েছিলেন। বন্ধুটির দাবি, এত বছর পরও ঘটনাটি নিয়ে কিউলের বর্ণনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
অভিযোগ অস্বীকার হোয়াইট হাউসের

২০২৪ সালে কিউলের অভিযোগ সামনে আসার পর ট্রাম্পের তৎকালীন প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট সেগুলোকে ‘মিথ্যা’ বলে বর্ণনা করেছিলেন। এবারও হোয়াইট হাউস অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ট্রাম্পের এক মুখপাত্র ডেমোক্র্যাটদের প্রতিবেদনকে ‘উন্মত্ত ডেমোক্র্যাটদের মরিয়া চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, ট্রাম্পের সাফল্যের কারণে রিপাবলিকানদের প্রতি বাড়তে থাকা সমর্থন থেকে মার্কিন নাগরিকদের মনোযোগ সরাতেই এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এপস্টেইন-সংক্রান্ত বিষয়ে ট্রাম্পকে ‘সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত করা হয়েছে’ বলেও দাবি করেন তিনি।

প্রতিবেদনটিতে আরও চার নারীর বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়েছে। তাঁরাও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন। এতে আরও দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প, এপস্টেইন ও অন্যরা প্লাজা হোটেলে আয়োজিত সুন্দরী প্রতিযোগিতাকে অসহায় তরুণী ও কিশোরীদের লক্ষ্যবস্তু করার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতেন।

প্রতিবেদন প্রকাশের সঙ্গে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রতিনিধি পরিষদের কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য জেমি রাসকিন বলেন, পাঁচ নারী সরাসরি অভিযোগ করেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে থাকা অবস্থায় বা তাঁর উপস্থিতিতে ট্রাম্প তাঁদের ধর্ষণ কিংবা যৌন নিপীড়ন করেছেন। অন্য নারীরা জানিয়েছেন, এপস্টেইন বা ম্যাক্সওয়েল তাঁদের ট্রাম্পের কাছে পাচার করার চেষ্টা করেছিলেন।

রাসকিন আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্পকে রক্ষা করতে তাঁর বিচার বিভাগ এসব অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে ট্রাম্পের ভূমিকা এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়গুলো রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্প নিজে প্রার্থী নন।

Facebook Comments Box

Posted ৭:৩১ এএম | মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।