ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, প্যারিসে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ৪০০

ডেস্ক রিপোর্ট   |   রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   8 বার পঠিত

সংস্কারের দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, প্যারিসে সংঘর্ষ-অগ্নিসংযোগ, গ্রেপ্তার ৪০০

ফ্রান্সে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন লাখো মানুষ। শনিবার রাজধানী প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। দেশজুড়ে অন্তত ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে কর্তৃপক্ষ।

ফরাসি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভে সারা দেশে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভ করেন ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ।

প্যারিসে কাঁদানে গ্যাস, উত্তপ্ত রাজপথ

প্যারিসের প্রাণকেন্দ্র প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরে বিক্ষোভকারীদের বড় জমায়েত হয়। ফরাসি প্রজাতন্ত্রের প্রতীক ম্যারিয়ানের মূর্তির নিচে জড়ো হওয়া বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পুলিশ। এতে চত্বরজুড়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হলেও পরে এতে যোগ দেন শিক্ষক, নার্স, মানবাধিকারকর্মী, দমকলকর্মী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ। ২০১৮ সালে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গড়ে ওঠা ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকেরাও এতে অংশ নেন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং নিজেদের অধিকার ফিরিয়ে পেতে তাঁরা একত্র হয়েছেন। ভবিষ্যৎ নিয়ে তরুণদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও জানান তিনি।

ফরাসি মানবাধিকার সংগঠন লিগ দে দ্রোয়া দ্য লোমের সদস্য জ্যঁ-পিয়ের বলেন, তরুণেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের সমর্থকেরা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ। আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।

তিন সন্তানের এক মা বলেন, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সরকারকে চাপ দিয়ে যেতে হবে। তাঁদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব কেউ নিচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতেই তিনি বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন।

সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট

বিক্ষোভ ঘিরে প্যারিসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়। শনিবার দুপুরে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকেই কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগম বাড়লে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পুলিশকে লক্ষ্য করে আতশবাজির মর্টার ছোড়ে। একটি গাড়ি ও সংবাদপত্রের স্টলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আগুনের কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আশপাশের এলাকা। পরিস্থিতির কারণে অনেক ক্যাফে ও দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে অধিকাংশ বিক্ষোভকারী শান্তিপূর্ণভাবে মিছিলে অংশ নেন।

দক্ষিণাঞ্চলীয় মার্সেই শহরে বিক্ষোভকারীদের একটি দল নগর ভবনে ঢুকে পড়ে এবং বিভিন্ন দোকানে লুটপাট চালায়। লিওঁ শহরে একটি পর্যটন কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম।

ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্যারিস ছাড়াও মার্সেই, রেন, তুলুজ ও আঞ্জেসহ বিভিন্ন শহরে সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসব ঘটনার জন্য ‘অতি বামপন্থী’ গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে মন্ত্রণালয়।

শিক্ষা সংস্কারের দাবি থেকে বিস্তৃত আন্দোলন

গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিসের উপশহর ক্রেতেইয়ের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বিক্ষোভের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের সূচনা হয়। জরাজীর্ণ ভবন, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শিক্ষকসংকট ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্যের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থীরা।

পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হয়। ২০১৮ সালে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া ওই আন্দোলন পরবর্তী সময়ে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বৃহত্তর প্রতিবাদে রূপ নিয়েছিল।

প্যারিসভিত্তিক সেন্টার ফর পলিটিক্যাল রিসার্চের গবেষক ব্রুনো কত্রেসের মতে, উচ্চ কর, বিপুল সরকারি ঋণ ও বাজেট ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ শনিবারের বিক্ষোভে প্রকাশ পেয়েছে।

বিক্ষোভের আগের দিন শুক্রবার প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকার সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। তবে মানুষ ও সম্পত্তির প্রতি সম্মান দেখানো এবং ভাঙচুর থেকে বিরত থাকাও জরুরি।

অর্থনৈতিক সংকট ও রাজনৈতিক মেরুকরণে বাড়ছে চাপ

ফ্রান্সের ক্রমবর্ধমান সরকারি ঋণ কমানোর প্রচেষ্টা এখনও বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে পারেনি। ফলে দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সরকারি ঋণ গ্রহণের ব্যয় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আগামী বছরের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের আগে দেশটিতে রাজনৈতিক মেরুকরণও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে জনঅসন্তোষ মোকাবিলা এবং অর্থনৈতিক সংকট সামাল দেওয়া ফরাসি সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: আল-জাজিরা

Facebook Comments Box

Posted ৫:৪৬ এএম | রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।