ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

যে গ্রামের কেউ চোখে দেখতে পায় না

  |   বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   166 বার পঠিত

যে গ্রামের কেউ চোখে দেখতে পায় না

জগৎবিখ্যাত ঔপন্যাসিক হোসে সারামাগোর একটি উপন্যাসের নাম ‘ব্লাইন্ডনেস’। সে উপন্যাসে বর্ণনা করা হয় একটি শহরের সব নাগরিক অন্ধত্বের মহামারিতে আক্রান্ত। এরপর ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে পরিস্থিতি ৷ শুরু হয় একের পর এক খুন-ধর্ষণ-রাহাজানি৷ নোবেলজয়ী লেখকের অন্ধত্ব ছিল মেটাফোর বা রূপক। এই গ্রামের বিষয়টি তা নয়। এ হলো ঘোর বাস্তব। ডিবিসি

উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোর এ গ্রামটির নাম টিলটেপেক। গভীর অরণ্যে অবস্থিত এ গ্রামটি সভ্যতা ও উন্নয়ন থেকে আলোকবর্ষ দূরে। অবিশ্বাস্য লাগলেও সত্যি, এ গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে পাখি, গবাদি পশু, বন্যপ্রাণী কেউই চোখে দেখতে পায় না।

পৃথিবী নামক গ্রহের যেখানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিদ্যায় ব্যাপক অগ্রগতি, সেখানে এই পৃথিবীরই একটা গ্রামের কোনো মানুষ বা প্রাণী চোখে দেখতে পায় না। ভাবা যায়?

মেক্সিকোর গভীর অরণ্যে থাকা এই গ্রামে ‘জাপেটেক’ প্রজাতির বাস। প্রায় ৩০০ টিরও বেশি ‘জাপেটেক’ পরিবার এই গ্রামে বাস করেন। ‘টিলটেপেক’ গ্রামে প্রায় ৭০ টি কুঁড়েঘর রয়েছে। কিন্তু কোনো ঘরেই দরজা-জানালা নেই। যদিও আর পাঁচটা গ্রামের মতোই এ গ্রামের নবজাতকেরাও সুস্থ-সবল শরীরেই ভূমিষ্ট হয়, কিন্তু কীভাবে যেন সপ্তাহ খানেকের মধ্যে হারিয়ে ফেলে দৃষ্টিশক্তি!

এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, তাদের গ্রামে পাখি উড়ে না। পাখি উড়ার সময় বড় বড় গাছে ধাক্কা খেয়ে সেখানেই মারা যায়।

এই গ্রামের বাসিন্দারা মূলত শিম, বাজরা ও লঙ্কা খেয়ে দিনযাপন করেন। তারা প্রচুর পরিমাণে মদও পান করেন। মদ খেয়ে আগুনের চারপাশে নাচ করা এই গ্রামের অন্যতম উৎসব।

অজ্ঞাত কারণে দিনেও ‘অন্ধকার’ গ্রামটিকে নিয়ে প্রশাসনের উদ্যোগে গবেষণা শুরু করেন বিজ্ঞানীরা। স্থানীয়রাও তাদের অন্ধত্বের কারণ জানান।

‘টিলটেপেক’ গ্রামের মানুষ বা প্রাণীর অন্ধ হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে গেলে স্থানীয়রা জানান, একটি অভিশপ্ত গাছের কারণেই এই গ্রামের সব প্রাণী অন্ধ। তাদের বিশ্বাসমতে, এই অভিশপ্ত গাছের নাম ‘লাভজুয়েলা’। বিজ্ঞানীরা এখনও এই গাছের অস্তিত্ব না পেলেও স্থানীয়দের দাবি গাছটি গ্রামের মধ্যেই রয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘টিলটেপেক’ গ্রামের বাসিন্দাদের অন্ধ হওয়ার নেপথ্যে রয়েছে ‘ব্ল্যাক ফ্লাই’ নামক একটি বিষাক্ত মাছি। বিজ্ঞানীরা আবিস্কার করেছেন, মেক্সিকোর ওই জঙ্গলে প্রচুর পরিমাণে ব্ল্যাক ফ্লাই মাছি রয়েছে। এই বিষাক্ত মাছির কামড়ে সারা শরীরে জীবাণু ছড়ায়। জীবাণুর প্রভাব এতই বেশি যে, এর সরাসরি প্রভাব পড়ে চোখের স্নায়ুর ওপর। তবে এর বিপক্ষ মতও রয়েছে।

মেক্সিকো সরকার যখন প্রথম ‘টিলটেপেক’ গ্রাম সম্পর্কে জানতে পারে, তখন ওই গ্রামের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রামবাসীদের অনেকে অসুস্থ হয়ে যান। বেশ কয়েকজন মারাও যান। এরপর তাদের আবার ‘টিলটেপেক’ গ্রামে ফিরিয়ে দিয়ে আসা হয়।

Facebook Comments Box
বিষয় :

Posted ৩:১৭ এএম | বুধবার, ১৯ জুলাই ২০২৩

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।