ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 8 বার পঠিত

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ২২ বছর পর সাবেক প্রেমিকা ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার অভিযোগ উঠেছে নোয়াখালীর শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে। ইতালির রাজধানী রোমে গত ২৬ জুন রাতে সাবেক প্রেমিকা আরজু আক্তার, তার স্বামী কামাল উদ্দিন বাবুল ও তাদের পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে আরিশাকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ইতালির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন, পুলিশ সূত্র ও নিহতদের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আরজু আক্তারের সঙ্গে শাহাদাতের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে শাহাদাতের বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিবার ইতালিপ্রবাসী কামাল উদ্দিন বাবুলের সঙ্গে আরজুর বিয়ে দেয়।
বিয়ের পর বাবুল স্ত্রীকে নিয়ে ইতালিতে চলে যান। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন তারা। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের তিন সন্তানের জন্ম হয়। তবে সাবেক প্রেমিকার বিয়ে মেনে নিতে পারেননি শাহাদাত। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি আরজুর পরিবারের খোঁজখবর রাখছিলেন এবং প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজছিলেন বলে অভিযোগ।
শাহাদাত ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর ইংল্যান্ডে যান। পরে অবৈধভাবে ইতালির রোমে প্রবেশ করে কৌশলে আরজুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নিজেকে দূর সম্পর্কের আত্মীয় পরিচয় দিয়ে পরিবারের বিশ্বাস অর্জন করেন তিনি।
যেভাবে হত্যাকাণ্ড
তদন্তকারীদের ধারণা, ২৬ জুন রাতে আরজুর বাসায় গিয়ে প্রথমে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন শাহাদাত। মাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে বা চিৎকার করলে পাঁচ বছরের শিশু আরিশাকেও হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।
এরপর ঘরের রক্তের দাগ পরিষ্কার করে লাশ লুকিয়ে রাখেন শাহাদাত। কিছুক্ষণ পর আরজুর স্বামী বাবুল কাজ থেকে বাসায় ফিরলে তাকেও ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়।
সবশেষে বাসায় ফেরেন তাদের ২০ বছর বয়সী ছেলে আয়ান। তদন্তকারীদের কাছে আয়ান জানান, ঘরে ঢুকে তিনি শাহাদাতকে স্বাভাবিকভাবে বসে থাকতে দেখেন। শাহাদাত তাকে বলেন, তার মা-বাবা ঘুমাচ্ছেন।
কিন্তু মা-বাবার কক্ষের সামনে গিয়ে আয়ান খাটের নিচ থেকে ছোট বোন আরিশার পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি চিৎকার শুরু করলে শাহাদাত ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।
আহত অবস্থায় আয়ান কোনোভাবে ঘর থেকে বেরিয়ে প্রতিবেশীদের ডাকেন। তার চিৎকারে শাহাদাত পালিয়ে যান।
পালিয়ে কোথায় শাহাদাত?
হত্যাকাণ্ডের পর থেকে শাহাদাতের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ইতালির সংবাদমাধ্যম ইল মেসাজ্জেরো জানিয়েছে, তিনি ইতালির সীমানা পেরিয়ে ইংল্যান্ডে পালানোর চেষ্টা করতে পারেন। সেখানে তার স্ত্রী ও মেয়ে বসবাস করেন। আবার বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।
এ ঘটনায় রোমের বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ইতালি পুলিশ বাংলাদেশের সহযোগিতা চেয়েছে।
আত্মহত্যার আশঙ্কাও তদন্তে
ইতালির সংবাদমাধ্যম ফ্যানপোস্ট জানিয়েছে, তদন্তকারীরা শাহাদাতের আত্মহত্যার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছেন। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টা আগে তার ফেসবুক পোস্টকে এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ওই পোস্টে কিশোর কুমারের ‘মেরা জীবন কোরা কাগজ’ গান শেয়ার করার পাশাপাশি রহস্যময় একটি বার্তা দেন শাহাদাত। সেখানে তিনি লেখেন, একজন মানুষ শুধু নিজে একা মরে না, অন্যদেরও মরার মতো করে রেখে যায়—এমন ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য।
এদিকে, রোমের আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। শাহাদাতকে গ্রেপ্তারে ইতালির পুলিশ বিভিন্ন দেশে তার সম্ভাব্য অবস্থান খুঁজছে।
Posted ১০:১৮ এএম | সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।