সোমবার ২৫শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১১ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

আইসিজের সতর্কতার পরও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করেছে ৫১ দেশ

বিশ্ব ডেস্ক   |   শনিবার, ২৩ মে ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   8 বার পঠিত

আইসিজের সতর্কতার পরও ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ করেছে ৫১ দেশ

আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) গণহত্যার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও গাজায় যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত রেখেছিল বিশ্বের অন্তত ৫১টি দেশ ও অঞ্চল। আল জাজিরার কয়েক মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে এই তথ্য উঠে এসেছে।

ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) ডেটা ও শুল্ক রেকর্ডের ভিত্তিতে করা এই প্রতিবেদন বলছে, আইসিজের রায়ের পরে দেশটিতে অস্ত্র আমদানি বহুগুণ বেড়েছে।

২০২৪ সালের জানুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আইরিশ আইনজীবী ব্লিন নি গ্রালাইগ আইসিজেতে গাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেছিলেন। তিনি একে ‘ইতিহাসের প্রথম রিয়েল-টাইম সম্প্রচারিত গণহত্যা’ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বিচারকদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ফিলিস্তিনি জনগণকে ক্রমাগত হতাশ করে চলেছে।’

তিনি বলেন, ‘ইতিহাসে এটিই প্রথম গণহত্যা, যেখানে ভুক্তভোগীরা রিয়েল টাইমে (সরাসরি) নিজেদের ধ্বংসের দৃশ্য সম্প্রচার করছে এই ভেবে যে বিশ্ব হয়তো কিছু করবে।’

নি গ্রালাইগ আদালতকে বলেন, গাজায় প্রতিদিন গড়ে ২৪৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন। এর মধ্যে ৪৮ জন মা ও ১১৭ জনের বেশি শিশু রয়েছে। অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় গড়ে দুইজন মা এবং পাঁচজনের বেশি শিশু প্রাণ হারাচ্ছে।

তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিরে আসা চিকিৎসক ও সাহায্যকর্মীদের ব্যবহৃত একটি নতুন শব্দের কথা উল্লেখ করেন— ডব্লিউসিএনএসএফ। এ শব্দের অর্থ হলো- ‘আহত শিশু, পরিবারের আর কেউ বেঁচে নেই’। তখন পর্যন্ত ৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছিল।

নি গ্রালাইগ বলেন, এর চেয়ে স্পষ্ট বা অকাট্য কোনো যুক্তি উপস্থাপন হতে পারে না। এই তথ্যগুলোই প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট।

২০২৪ সালের ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালত রায় দেন, গাজায় গণহত্যার একটি ‘যুক্তিসঙ্গত ঝুঁকি’ রয়েছে এবং কিছু অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা জারি করেন। এছাড়া, আদালত জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী ১৫৩টি দেশকে তাদের বাধ্যবাধকতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়—অর্থাৎ গণহত্যা প্রতিরোধে কাজ করার নির্দেশ দেন।

কিন্তু এরপরও প্রায় ২২ মাস ধরে হত্যাযজ্ঞ চলতে থাকে। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়া পর্যন্ত ৭০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ আহত হন।

এই পুরো সময় জুড়েই ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত ছিল।

অস্ত্র রপ্তানি

আল জাজিরার কয়েক মাসব্যাপী এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজায় গণহত্যার ঝুঁকি নিয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত সতর্ক করার পরও অন্তত ৫১টি দেশ ও স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল থেকে সামরিক-সংশ্লিষ্ট পণ্য ইসরায়েলে প্রবেশ অব্যাহত ছিল।

মূলত ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের (আইটিএ) আমদানি তথ্য বিশ্লেষণ, শুল্ক রেকর্ড এবং তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই অনুসন্ধান করা হয়। এতে ইউরোপ, এশিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যুক্ত সামরিক সরবরাহ শৃঙ্খল চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব দেশই জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী।

কিছু ক্ষেত্রে, এসব সামরিক-সম্পর্কিত পণ্য এসেছে এমন দেশ থেকেও, যেগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বা আংশিকভাবে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করেছে।

আইটিএ-এর তথ্য অনুযায়ী, আইসিজে রায়ের পর ইসরায়েলে অস্ত্র আমদানি আরও বেড়েছে, যার বড় অংশ ছিল ‘মিউনিশন’ বা যুদ্ধাস্ত্র বিভাগে।

ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ করা শীর্ষ ৫ দেশ হলো- যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, রোমানিয়া, তাইওয়ান এবং চেক প্রজাতন্ত্র। এসব দেশ থেকে যুদ্ধের সময় চালান উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দেখা গেছে।

যদিও অনেক দেশই ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির পূর্ণ তথ্য প্রকাশ করে না, কিন্তু আইটিএ-এর তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত ২ হাজার ৬০৩টি সামরিক পণ্য-সম্পর্কিত চালান ইসরায়েলে প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ছিল গোলাবারুদ, বিস্ফোরক যুদ্ধাস্ত্র, অস্ত্রের যন্ত্রাংশ এবং সাঁজোয়া যান সংক্রান্ত উপাদান।

আইটিএ-র তথ্য অনুসারে, অস্ত্র আমদানির মোট মূল্য ছিল প্রায় ৮৮৫ মিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ৯১ শতাংশই আইসিজের রায়ের পর রেকর্ড করা হয়েছে।

এদিকে, ২০২৩ সালের অক্টোবরের আগের ২০ মাসে ইসরায়েলে সামরিক-সংশ্লিষ্ট আমদানির পরিমাণ ছিল মোট ৩৮৮ মিলিয়ন ডলার। এই তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে ইসরায়েল গাজায় তার সামরিক আক্রমণ অব্যাহত রাখতে বিদেশি অস্ত্র সরবরাহের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে।

এমনকি ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরেও অস্ত্রের প্রবাহ থামেনি। আইটিএ-এর তথ্য বলছে, ২০২৫ সালের শেষ দুই মাসে ইসরায়েল অতিরিক্ত ৮৯ মিলিয়ন ডলারের সামরিক পণ্য আমদানি করেছে।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৪৬ এএম | শনিবার, ২৩ মে ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।