ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠাতে পারবেন ট্রাম্প, স্থগিতাদেশ তুলে নিল সুপ্রিম কোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   5 বার পঠিত

তৃতীয় দেশে অভিবাসী পাঠাতে পারবেন ট্রাম্প, স্থগিতাদেশ তুলে নিল সুপ্রিম কোর্ট

নিজ দেশ ছাড়া তৃতীয় কোনো দেশে অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ওপর থাকা স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারের এ আদেশের ফলে সম্ভাব্য নিপীড়ন বা নির্যাতনের ঝুঁকি নিয়ে অভিবাসীদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাদের তৃতীয় দেশে পাঠাতে পারবে প্রশাসন।

সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের দ্রুত বহিষ্কার কার্যক্রম আরও জোরদার হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে নীতিটির চূড়ান্ত বৈধতা নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী ডিসেম্বরে এ বিষয়ে শুনানি করবে সর্বোচ্চ আদালত।

বোস্টনের মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক ব্রায়ান মারফি অভিবাসীদের তথাকথিত ‘তৃতীয় দেশে’ পাঠানোর বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। বিচার বিভাগের জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট বিচারক মারফির সেই রায় স্থগিত করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের নয় বিচারকের মধ্যে ছয়জন রক্ষণশীল ও তিনজন উদারপন্থি। চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে নির্বাসন কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন তিন উদারপন্থি বিচারক।

অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক মারফি ওই রায় দিয়েছিলেন। মামলায় বলা হয়, কোনো ধরনের পূর্ব নোটিশ ও সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই অভিবাসীদের তৃতীয় দেশে পাঠানো হচ্ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, গত বছর চালু হওয়া এই নীতির আওতায় ২৯টি দেশে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে পাঠানো হয়েছে। তাদের বেশিরভাগকেই পাঠানো হয়েছে মেক্সিকোতে।

ট্রাম্পের গণ-বহিষ্কারের লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রশাসনের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের মধ্যে এটি অন্যতম। গত বছর পুনরায় দায়িত্ব নেওয়ার পর অভিবাসনবিরোধী কঠোর পদক্ষেপকে অন্যতম অগ্রাধিকার দিয়েছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

প্রশাসন রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল দক্ষিণ সুদানেও অভিবাসীদের পাঠিয়েছে। অপরাধ, অপহরণ ও সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেশটিতে মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে থাকে। এছাড়া উগান্ডা, ইকুয়েটোরিয়াল গিনি, লাইবেরিয়া, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রসহ অন্যান্য দেশেও অভিবাসীদের পাঠানো হয়েছে।

আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী এবং উন্মুক্ত সীমান্তের সমর্থকদের জন্য একটি খারাপ দিন।’

অন্যদিকে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সে বাদীদের আইনজীবী ট্রিনা রিয়ালমুতো বলেন, আদালতের সিদ্ধান্ত প্রশাসনকে এমন তৃতীয় দেশে মানুষ পাঠানো পুনরায় শুরু করার সুযোগ দিয়েছে, যেখানে তারা নিপীড়ন বা নির্যাতনের মুখে পড়তে পারেন।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিচারক মারফি রায় দিয়েছিলেন, এই নীতি অভিবাসন আইনের প্রক্রিয়া এবং মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর অধীনে যথাযথ আইনি সুরক্ষা লঙ্ঘন করে। সাধারণত কোনো প্রতিকূল পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সরকারকে নোটিশ দেওয়া এবং শুনানির সুযোগ দেওয়াকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

২০২৫ সালে এ মামলার সূত্রপাত হয়। ওই সময় যেসব অভিবাসীকে তাদের বহিষ্কারের আদেশে উল্লেখ করা দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব হচ্ছিল না, তাদের দ্রুত নির্বাসনের উদ্যোগ নেয় ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি।

নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো তৃতীয় দেশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিপীড়ন বা নির্যাতন না করার বিষয়ে বিশ্বাসযোগ্য কূটনৈতিক নিশ্চয়তা দিলে সেখানে কোনো নোটিশ ছাড়াই অভিবাসীদের পাঠানো যেত। আর এমন নিশ্চয়তা না থাকলে গন্তব্য সম্পর্কে জানানো এবং ব্যক্তি আশঙ্কার কথা জানালে নিপীড়ন বা নির্যাতনের সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন করার কথা ছিল।

সুপ্রিম কোর্টে দেওয়া জরুরি আবেদনে বিচার বিভাগ বলেছে, তৃতীয় দেশে নির্বাসন ‘সবচেয়ে খারাপ অপরাধী অভিবাসীসহ নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি নাগরিককে অপসারণের একটি অপরিহার্য হাতিয়ার’।

তবে বিচারক মারফি ও প্রশাসনের সমালোচকেরা বলছেন, নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা পাওয়া অভিবাসীরাও এই নীতির আওতায় পড়ছেন।

আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বাদীরা অভিযোগ করেছেন, তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর কিছু অভিবাসীকে বেআইনিভাবে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অন্যদের কেউ মারধর, যৌন নির্যাতন, আটক কিংবা নিখোঁজ হওয়ার শিকার হয়েছেন বলেও নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর বোস্টনভিত্তিক প্রথম ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিল বিচারক মারফির বেশিরভাগ রায় বহাল রেখেছিল। শুরু থেকেই মামলাটি নিয়ে তীব্র আইনি বিতর্ক চলে আসছে।

মামলার পর্যবেক্ষণে বিচারক মারফি উল্লেখ করেছিলেন, প্রশাসন ‘বারবার তার আদেশ লঙ্ঘন করেছে বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছে’। ২০২৫ সালে একদল অভিবাসীকে দক্ষিণ সুদানে পাঠানোর আগে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে দেওয়া তার আদেশ প্রশাসন লঙ্ঘন করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box

Posted ৭:১২ এএম | বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।