নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 331 বার পঠিত

বিগত সরকারের আমলে পাচার হওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনার বহুল প্রত্যাশিত প্রক্রিয়ায় যে স্থবিরতা নেমে এসেছে, তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শনিবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-দেশের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) কার্যক্রমের শিথিলতা, তথ্য সংগ্রহে ধীরগতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নিয়ে ওঠা নানা গুরুতর অভিযোগ এ প্রক্রিয়াকে কার্যত থামিয়ে দিয়েছে। বলা বাহুল্য, এর ফলে দেশের দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার বড় প্রশ্নের মুখে পড়েছে। প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, লন্ডনে কিছু সম্পদ জব্দের পর পাচার করা টাকা ফেরানোর কাজে আর নতুন কোনো অগ্রগতি নেই। যেখানে সরকারের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা হিসাবে বিএফআইইউর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা, সেখানে সাবেক প্রধানের অপসারণ এবং উপদেষ্টা নিয়োগে জটিলতার মতো ঘটনাগুলো সংস্থার সার্বিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অপসারিত প্রধানের বিরুদ্ধে সংস্থাটির কার্যক্রমে শিথিলতা আনার অভিযোগ এবং একজন বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টার নিয়োগ বাতিল হওয়া-এসবই প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা ও অদক্ষতার ইঙ্গিত দেয়।
বিশেষ করে এস আলম গ্রুপসহ কয়েকটি বড় গ্রুপের বিপুল অঙ্কের পাচার হওয়া সম্পদের সুনির্দিষ্ট তথ্য মার্চ মাসে পাওয়া গেলেও পরবর্তী আড়াই মাস বা তারও বেশি সময় ধরে নতুন তথ্যের উল্লেখ না থাকা বিস্ময়কর। বিএফআইইউর প্রতিবেদনে সিঙ্গাপুর, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, সাইপ্রাস, কানাডা, মালয়েশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্পত্তির খোঁজ পাওয়ার তথ্য থাকা সত্ত্বেও ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টেন্স রিকোয়েস্ট’ (এমএলএআর) পাঠানোর কার্যক্রম কেন ঝুলে আছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের ‘অনিচ্ছা’ বা ‘জটিলতায়’ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে ধীরগতিই এর মূল কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
টিআইবি ও বিআইডিএসের সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ ও জটিল। এজন্য কৌশলগতভাবে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিএফআইইউর জনবল সংকট, দক্ষ জনবলের অভাব এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়া থমকে থাকায় এক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় থাকছে না। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সিদ্ধান্ত গ্রহণে বর্তমান সরকারের অনীহার বিষয়টিও একটি কারণ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ কথা অনস্বীকার্য যে, অবিলম্বে এ প্রক্রিয়ায় গতি আনা প্রয়োজন।
মনে রাখতে হবে, পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর এ কাজ কেবল অর্থ উদ্ধার নয়, এটি হবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের একটি দৃষ্টান্তও। এক্ষেত্রে স্থবিরতা কাটাতে হলে তাই বিএফআইইউর প্রধানের শূন্যপদে দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে একজন দক্ষ ও সৎ ব্যক্তিকে নিয়োগ দিতে হবে; অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক চুক্তি ও যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও জোরদার করতে হবে। অন্যথায়, পাচারকারীরা কেবল উৎসাহিতই হবে না, সরকারের দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকারও জনমানসে বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার পাশাপাশি অর্থ পাচার বন্ধে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সুসংগঠিত উদ্যোগ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।
Posted ৩:২৭ পিএম | রবিবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।