নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 2 বার পঠিত

রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর-টঙ্গী সড়কে গভীর রাতে মোটরসাইকেলে দুই তরুণের মাঝে এক তরুণীকে নিথর অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। আলোচিত মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরের একটির মালিকানা নিয়ে অসংগতি পাওয়া গেছে, অন্য নম্বরটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ থেকে ৩টা ২০ মিনিটের মধ্যে আব্দুল্লাহপুর থেকে টঙ্গী সড়কে মোটরসাইকেলটিকে দেখা যায়। ওমরাহ শেষে বগুড়ায় ফেরার পথে মুফতি মনোয়ার হোসেন নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি কিছুদূর অনুসরণ করেন।
মনোয়ারের দাবি, মোটরসাইকেলটিতে ছিলেন তিনজন। দুই তরুণের মাঝে থাকা তরুণীকে নিথর অবস্থায় দেখা যায়। পেছনে থাকা এক তরুণ তাকে জাপটে ধরে রেখেছিলেন। তরুণীর পায়ে কোনো জুতা ছিল না। দেখে তাকে মৃত বলে মনে হচ্ছিল বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করার চেষ্টা করলেও সংযোগ পাননি বলে দাবি করেন মনোয়ার। পরে মোটরসাইকেলটির নম্বর প্লেটসহ একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন তিনি। এরপর ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, নম্বর প্লেটের তথ্য যাচাই করে মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশনে কেরানীগঞ্জের আব্দুল্লাহপুর এলাকার একটি ঠিকানা পাওয়া গেছে। পাশাপাশি রেজিস্ট্রেশনে ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বরের সন্ধান মেলে।
এর একটি নম্বরের সঙ্গে এক শোরুম মালিকের পরিচয় পাওয়া গেলেও তিনি দাবি করেছেন, মোটরসাইকেলটি তার শোরুম থেকে বিক্রি হয়নি। রেজিস্ট্রেশনে তার নম্বর কীভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, সে বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না। অন্য নম্বরটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জারা চৌধুরী রাত্রি’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে দাবি করা হয়েছে, তরুণীটি উত্তরার একটি বারে মদ্যপান করে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। পরে তাকে হুইলচেয়ারে করে নিচে নামানো হয়। ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তরুণীর পোশাক দেখে তাকে শনাক্ত করেছেন।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করা এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। পুলিশও এখন পর্যন্ত ওই তরুণীর পরিচয় বা দাবিটির সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
ঘটনার রহস্য উদঘাটনে টঙ্গী পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলের মালিকানা, রেজিস্ট্রেশনের তথ্য এবং তিন আরোহীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। মোটরসাইকেলের নম্বর দেখে সংশ্লিষ্টদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
এখন পর্যন্ত মোটরসাইকেলে থাকা দুই তরুণ ও ওই তরুণীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
Posted ৮:০১ এএম | শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।