নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 222 বার পঠিত

রিকন্ডিশন্ড কার তথা দ্বিতীয়বার বিক্রীত গাড়ি ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘বারভিডা’ সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন প্রদর্শনীকেন্দ্রে হামলা ও চাঁদাবাজির যে অভিযোগ করিয়াছেন, উহা দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরই প্রতিফলন বলিয়া আমরা মনে করি। রবিবার সকাল হইতে দুপুর পর্যন্ত দেশের সকল গাড়ি বিক্রয়কেন্দ্র বন্ধ রাখিয়া রাজধানীর প্রগতি সরণি এলাকায় মানববন্ধন করেন গাড়ি ব্যবসায়ীরা। মানববন্ধন শেষে সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারিও প্রদান করা হইয়াছে– ৩০ অক্টোবরের মধ্যে অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গৃহীত না হইলে সমগ্র দেশে গাড়ি ছাড়, নিবন্ধন ফি ও রাজস্ব প্রদান বন্ধ করা হইবে। পরিস্থিতি কতটা অসহনীয় হইলে ব্যবসায়ীরা এহেন সিদ্ধান্তে উপনীত হন, উহা সহজেই অনুমেয়। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতিও শনিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে এক আলোচনা সভায় জাতীয় নির্বাচনকে উপলক্ষ করিয়া পরিবহন খাতের চাঁদাবাজ সক্রিয় হইয়া উঠিবার অভিযোগ করিয়াছেন। তাহারাও সরকারের প্রতি চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাইয়াছেন। স্মরণ করা যাইতে পারে, গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নেতা এবং নবগঠিত এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলমও গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বলিয়াছিলেন, বাজারে পূর্বের ন্যায় এখনও চাঁদাবাজি চলিতেছে, যাহার চূড়ান্ত ক্ষতি পোহাইতে হয় ভোক্তাসাধারণকে।
বারভিডার নেতাদের মতে, কয়েক মাস ধরিয়া একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ব্যবসায়ীদের হুমকি দিতেছে। কখনও কখনও দুবাই হইতেও ফোনে এই বলিয়া হুমকি প্রদান করা হয়– চাঁদা না মিলিলে ব্যবসা করিতে দেওয়া হইবে না। এমনকি দ্বিচক্রযানে আসিয়া শোরুমের সম্মুখে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। স্পষ্টতই, চাঁদাবাজরা খুবই বেপরোয়া হইয়া উঠিয়াছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, এই ব্যাপারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সন্তোষজনক নহে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও র্যাব তদন্ত চালাইলেও অদ্যাবধি কোনো অপরাধীকেই গ্রেপ্তার করিতে পারে নাই। অথচ উচিত ছিল দ্বিচক্রযান আরোহী এই চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে চত দ্রুতযান তৎপরতা। স্মরণে রাখিতে হইবে, সরকার এই খাত হইতে বৎসরে প্রায় ছয় সহস্র কোটি টাকা রাজস্ব পায়। তদুপরি কয়েক লক্ষ মানুষের জীবিকা এই খাতের সহিত যুক্ত। যদি সড়ক পরিবহনসহ চাঁদাবাজিকবলিত অন্য খাতগুলির কথা বিবেচনা করা হয়, তাহা হইলে রাজস্ব ক্ষতি, তৎসহিত জীবিকা হারাইবার হুমকিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা নিঃসন্দেহে বিপুল। শুধু আর্থিক সংকট নহে, সেই পরিস্থিতিতে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিসরেও যেই অস্থিরতার জন্ম লইবে, তাহা কল্পনাকেও অতিক্রম করিতে পারে। কিন্তু কেবল জীবিকার প্রশ্নে নহে, সার্বিক আইনশৃঙ্খলার স্বার্থেও এই চাঁদাবাজি বন্ধ আশু কর্তব্য।
স্বীকার্য, বিগত সরকারের সময়ও চাঁদাবাজির বিস্তর অভিযোগ ছিল। তখন সচেতন নাগরিকদের প্রায় সকলেই এই ধারণা পোষণ করিতেন, একদিকে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সেই সরকারের অনীহা, অন্যদিকে দলীয় নেতাকর্মীর অপরাধপ্রবণতাকে ক্ষমতার শীর্ষ মহলের প্রশ্রয় প্রদানের সম্মিলিত ফসল ঐ ভয়াবহ পরিস্থিতি। কিন্তু কার্যত নির্দলীয় হইবার পরও অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে কেন অনুরূপ কিংবা ক্ষেত্রবিশেষে অধিক মন্দ পরিস্থিতির সৃষ্টি হইবে? গত বৎসরের ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের সময় অন্তর্বর্তী সরকার নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা বিধানসহ সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকাররূপে যেই ঘোষণা দিয়াছিল, উহা কি নিছক বাগাড়ম্বর? আমাদের প্রত্যাশা বিলম্বে হইলেও প্রয়োজনে সকল রাজনৈতিক দলকে সঙ্গে লইয়া সরকার বিশেষত চাঁদাবাজি দমনে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে। জানমালের প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী যেই কোনো অপতৎপরতার প্রতি শূন্য সহিষ্ণুতা প্রদর্শন করিবে।
Posted ৩:০৮ পিএম | বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।