নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 371 বার পঠিত

রাজধানীর নাগরিক সম্প্রদায়ের জীবন কতটা নিরাপদ? বাসাবাড়ি থেকে বের হওয়ার পর কেউ কি এতটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন যে, তিনি পরদিন থাকবেন না পৃথিবীতে? এ প্রশ্ন শুধু নিজেকে নয়, করতে হবে রাজধানীর সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে। কাণ্ডটা দেখুন।
তখন ব্যস্ত দুপুর। গতকালের কথা, রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ছোটাছুটি করছে মানুষ যার যার কাজের গন্তব্যে। কিন্তু পথচারী আবুল কালাম জানতেন না, কিছুক্ষণ পরই নিভে যাবে তার জীবন প্রদীপ। হঠাৎ করেই মেট্রোরেলের অতি উঁচু পিলার থেকে দেড়শ কেজি ওজনের একটি বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ল নিচে। পড়বি পড়, মালির ঘাড়ে। আবুল কালামের ওপর প্যাডটি পড়তেই নিমিষে তার জীবন হয়ে গেল অতীত। তিনি বেরিয়েছিলেন রোজগারের আশায়, হয়ে পড়লেন চির রোজগারহীন। ওদিকে এ দুর্ঘটনার পর আড়াই ঘণ্টা মেট্রোরেল চলাচল বন্ধ থাকায় নিম্ন আয়ের নাগরিকদের গুনতে হয়েছে বাড়তি টাকা, নষ্ট হয়েছে শ্রমঘণ্টা। আবুল কালামের স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমার সন্তানরা এখনো বোঝেনি তাদের বাবা আর নেই। তারা মনে করছে তাদের বাবা ঠিকসময় চলে আসবে। কী মর্মান্তিক এই সংলাপ! আবুল কালামের মৃত্যুর পর একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। সেই রিপোর্ট পড়ার ধৈর্য নেই আমাদের। যে রিপোর্ট কারও জীবন ফিরিয়ে দিতে পারবে না, সেই রিপোর্ট পড়ে কী লাভ! তাছাড়া রিপোর্টিতে যে সত্য কথা থাকবে, তার গ্যারান্টি কোথায়?
রাজধানী ঢাকায় মৃত্যু এখন একটি সংখ্যামাত্র। মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যু হবে না, সে মরবে অব্যবস্থাপনার শিকার হয়ে, দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে, আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে, এটাই যেন নিয়তি। আমরা লক্ষ করছি, প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তার ব্যাপারে এতটা উদাসীন অথবা অদক্ষ যে, তা পরিমাপ করা যায় না। কোনো ভবনে আগুন লাগলেই দেখা যায়, সেখানে অগ্নিনিরাপত্তা বলতে কিছু ছিল না, কোনো ভবন ধসে পড়লে নির্মাণশৈলী ঠিক ছিল না। এত অপরিকল্পিত একটা শহর পৃথিবীর আর কোথাও আছে বলে আমাদের জানা নেই। এই শহরের ট্রাফিক সিস্টেমের দুর্বলতার কারণেও নিহত হচ্ছেন নাগরিকরা।
এখন তাহলে উপায় কী? আমরা মনে করি, রাজধানীর প্রতিটি স্থাপনা নিয়মমতো তৈরি হয়েছে কিনা এবং নির্মিত হওয়ার পর সেগুলো নিয়মমতো পরিচালিত হচ্ছে কিনা, তা সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের দাবি রাখে। মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাডগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না নিশ্চয়ই। আমরা নিহত আবুল কালামের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই এবং মৃত্যুর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না জেনেও পরিবারটির জন্য প্রতিশ্রুত সহযোগিতা প্রদান করা হবে বলে আশা রাখি।
Posted ৬:৩২ পিএম | মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।