ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

ভারতে বাঙালি ও বাংলা ভাষা নিয়ে হচ্ছে কী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   482 বার পঠিত

ভারতে বাঙালি ও বাংলা ভাষা নিয়ে হচ্ছে কী

একুশ বছর বয়সি আমির শেখ, পশ্চিমবঙ্গের মালদা জেলার বাসিন্দা। পেটের দায়ে মাসতিনেক আগে রাজস্থানে গিয়েছিল রাস্তার তৈরি কাজের শ্রমিক হয়ে। মাসখানেক সেখানে কাজ করার পর রাজস্থান পুলিশ তাকে আটক করে। ‘বাঙালি’ পরিচয় দেওয়ার পরই তাকে ‘বাংলাদেশি’ তকমা দিয়ে থানায় নিয়ে যায়। ভারতের নাগরিক প্রমাণের জন্য আধার কার্ড, জন্মসনদ দেখিয়েও লাভ হয়নি। চারদিন থানায় রাখার পর দু’মাসের জন্য আমিরকে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তার এ আটকের কোনো খবরই পুলিশ পরিবারকে জানায়নি। তারপর বিএসএফের কাছে তাকে হস্তান্তর করা হয়। বিএসএফ অন্যদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার বসিরহাটে আমিরকে নিয়ে যায়; তারপর বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলার সীমান্ত দিয়ে পুশইন করে। আমির শেখের পিতা জিয়েম শেখের অভিযোগ-বর্ডারে পুশইন করার সময় সে ভারতীয় নাগরিক বলে গলার স্বর উঁচু করে প্রতিবাদ করায় তার ছেলেকে অমানুষিক নির্যাতন করে বিএসএফ। তারপর গলায় বন্দুক ঠেকিয়ে বলেছে, ‘বাংলাদেশ জায়গা নাহি তো গোলি কার দেয়গা।’ জিয়েম শেখের প্রশ্ন, ভারতের নাগরিক হয়েও যদি আমাদের এ রকম অত্যাচার সহ্য করতে হয়, তাহলে কোথায় যাব আমরা? কোন দেশে আছি আমরা? বাংলায় কথা বলাটাই কি অপরাধ আমাদের? জিয়েম শেখ কলকাতা হাইকোর্টে হিবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করার পর যে শুনানি হয়, সে শুনানি শেষে সংবাদমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ কথাগুলো বলেছেন। হিবিয়াস কর্পাস পিটিশন হলো কোনো ব্যক্তির খোঁজ না পেলে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির করানোর দাবি জানিয়ে আবেদন। জিয়েম শেখ হিবিয়াস কর্পাস পিটিশন করার পরই ভারত সরকার নড়েচড়ে বসে এবং আমিরকে বাংলাদেশ থেকে ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ১৩ আগস্ট আমিরকে ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

উপরে যে ঘটনার বর্ণনা তুলে ধরা হলো, এটি শুধু আমির শেখের একার ঘটনা নয়। কয়েক মাস ধরেই নরেন্দ্র মোদির সরকার ভারতব্যাপী বাংলাভাষাভাষী নাগরিকদের সঙ্গে, বিশেষ করে বাঙালি মুসলিম নাগরিক হলে তো কথাই নেই এমন অমানবিক আচরণ করছে। বাঙালি মুসলিমদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেওয়া, বাস্তুচ্যুত করা, জেলে পুরে দেওয়া কিংবা ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেওয়া যেন নিত্যনতুন ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিজেপিশাসিত রাজ্যগুলোতেই এর প্রকোপ বেশি দেখা যায়। অনেক আগেই এসব অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত হলেও কট্টর হিন্দুত্ববাদী শাসকদল ইদানীং মুসলিম ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরেও বাংলাভাষী মাত্রই বাঙালিদের সঙ্গে এমন অমানবিক আচরণ শুরু করেছে। ভারতে এ বাঙালি বিদ্বেষের প্রথম বীজবপন হয় আসামে। ভারতের স্বাধীনতার পর থেকেই সেখানে বাঙালি মুসলিমদের বাস্তুচ্যুত করার ঘটনা শুরু। আসামে বাঙালি নিধন নতুন কোনো ঘটনা নয়। কুখ্যাত শিলাপাথর হত্যাকাণ্ড এর মধ্যে অন্যতম উদাহরণ। দেশভাগের সময় তৎকালীন পূর্ববাংলা থেকে শরণার্থী হয়ে যেসব বাঙালি আসামে আশ্রয় নিয়েছিল, তাদের হত্যা করাই ছিল দুর্বৃত্তদের মূল লক্ষ্য। ১৯৮৩ সালে তির-ধনুক, তলোয়ার-বর্শা ও বন্দুক নিয়ে অসমীয়রা আসামের অবিভক্ত লক্ষ্মীপুর জেলার শিলাপাথর এলাকায় আশ্রয়গ্রহণকারী বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সহস্রাধিক মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছিল।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৪২ পিএম | সোমবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।