জাতীয় ডেস্ক | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

বর্তমান সরকারের অন্যতম মিত্র দল বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সদস্য আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেছেন, অনেকে আওয়ামী লীগের ফিরে আসা নিয়ে কথা বলে। জুলাইকে অস্বীকার করে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। জুলাইকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাদের বাংলাদেশে রাজনীতি করার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
আন্দালিভ রহমান বলেন, আওয়ামী লীগের অত্যাচারের কথা গত ১৭ বছরে তরুণ সমাজের কাছে কানেক্ট করা যায়নি বলেই এখন তারা ৩৬ জুলাইয়ের কথা বলেন। এটা তাদের ব্যর্থতা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
খালেদা জিয়ার বিচারের রায় গণভবনের বারান্দায় লেখা হয়েছিল—অভিযোগ করে পার্থ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর রায়ও হয়তো গণভবনের কোনো করিডর থেকে লেখা হয়েছিল। বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা হয়েছিল। বিসিএস পরীক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের পেছনে ‘জাতির জনক’ লেখা না হলে পরীক্ষায় পাস করা যেত না। এরপর ডিএনএ টেস্ট করে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে বিসিএসে নিয়োগ হয়েছিল।
গণমাধ্যমের মালিকেরা রাতে ঘুমাতে পারতেন না বলে দাবি করে আন্দালিভ রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা একটি স্ট্যাটাস লিখে ১০ বার ডিলিট করতাম। এই বুঝি আইসিটি অ্যাক্টে আমাদের ধরল কিনা! বড় বড় ব্যবসায়ীদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা এও শুনেছি তারা ‘মা’, ‘আম্মু’ বলে সম্বোধন করেছে।
বিরোধী দলের উদ্দেশে পার্থ বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংস্কার পিছিয়ে গেলে গণঅভ্যুত্থানের প্রস্তুতি নিতে হবে। জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, গত ১৬ বছর জিয়া পরিবার থেকে দেশকে মুক্ত করতে গিয়ে শেখ হাসিনা হেলিকপ্টার দিয়ে পালিয়েছেন। তার এই বক্তব্যে বিরোধী দলীয় সদস্যরা হইচই শুরু করলে সংসদে সাময়িক উত্তেজনা দেখা দেয়।
‘ভালোবাসে’ সবাই কচলায়
‘ভালোবাসে’ সবাই কচলায় বলে মন্তব্য করেছেন সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পড়ছি মুশকিলে। সবাই আমাকে খুব ভালোবাসে তো! তাই আমাকে নিয়ে কচলায় সবাই। ‘জিয়া পরিবার থেকে মানুষকে মুক্ত করার’ বিষয়ে পার্থের বক্তব্যের জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এটা তিনি বলেননি।
জবাবে আন্দালিভ রহমান পার্থ বলেন, আমার হাতে ডকুমেন্ট আছে। জিয়া পরিবারকে, মানুষকে মুক্ত করার—এনসিপির এক নেতা বলেছেন।
এই বক্তব্যে বিরোধী দলের সদস্যরা হইচই শুরু করেন। এতে করে সংসদে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বিরোধী দলের উদ্দেশে সরকার দলীয় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, দেশ এখন ফ্যাসিস্টমুক্ত। এখন আমরা সরকারে, জনগণ ভোট না দিলে বিরোধী দলে যাব। কিন্তু আগামী দিনে ফ্যাসিস্টরা কোনোভাবে যাতে সুযোগ নিতে না পারে। সরকারপ্রধান সম্পর্কে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যদানকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে বিরোধী দলের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে রুহুল কুদ্দুস তালুকদার বলেন, তাহলে দূরত্ব কমে আসবে।
সাংবাদিকেরা বাঁচলে দেশের রাজনীতি বাঁচবে বলে মন্তব্য করে এই হুইপ বলেন, সাংবাদিকদের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ওয়েজবোর্ড হওয়া দরকার। মালিকদের কারণে নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার নামে যারা ইতিপূর্বে আমাদের চরিত্রহনন করেছে, এই সব সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যারা ওয়ান-ইলেভেন নিয়ে এসেছিল, যারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট করতে চেয়েছিল, যারা ইসলামকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল… এই সব সাংবাদিক আমাকে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা ব্যারিস্টার আমিনুল হককে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা মতিউর রহমান নিজামীকে জঙ্গি বানিয়েছিল, যারা দেলওয়ার হোসেন সাঈদীকে জঙ্গি বানিয়েছিল—এই সব সাংবাদিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা দরকার।
জানালা দিয়ে এস আলম চলে আসবে
অর্থমন্ত্রীর খুলে দেওয়া জানালা দিয়ে এস আলম চলে আসবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন জামায়াতের সদস্য ঢাকা-১২ আসনের সাইফুল আলম খান। মঙ্গলবার সংসদের বৈঠকে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান চিত্র বর্ণনা করে সাইফুল আলম ব্যাংক রেজুলেশন আইনে সরকারের সংশোধিত আইন পাস প্রসঙ্গ টেনে বলেন, গণমাধ্যমে এসেছে ইসলামী ব্যাংক থেকে এক দিনে ৭০৫ কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তিন দিনের টাকা জমা ও উত্তোলনের যে প্রতিবেদন, তাতে এটি নেতিবাচক দিকে যাচ্ছে। দেশের সব বেসরকারি ইসলামী ব্যাংকে লুটপাট করা হয়েছে। সেই লুটপাট করেছে এস আলম ও তার দোসররা। ব্যাংক রেজুলেশন আইন পাসের বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়েছে—‘জানালা খুলে দেওয়া হয়েছে।’ সেই জানালা দিয়ে সম্ভবত এস আলম এসে পড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই এমপি বলেন, এই ব্যাংককে বাঁচাতে হবে। ইসলামী ব্যাংক ধসে পড়লে দেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত আসবে।
তিনি বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ—এই দেশের মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে পারত। কিন্তু এই সংসদ তা অনুমোদন না করে বিলুপ্ত করে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি আইন বাতিলের বিষয় নয়; এটি আমাদের আবার একটি পুরোনো অকার্যকর ও জবাবদিহিবিহীন কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সাইফুল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সুপ্রিম কোর্টের সচিবালয়সংক্রান্ত অধ্যাদেশ স্থগিত করা হয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগকে আবার সেই পুরোনো দলীয় প্রভাবশালী কাঠামোর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ বছর ধরে এ দেশে নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বিচারব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে। তিনি বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, একটি শক্তিশালী স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের আহ্বান জানান।
এ ছাড়া তিনি কারওয়ান বাজারে চাঁদাবাজি বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘জাতি জামায়াতে ইসলামীকে এবারের নির্বাচনে আনুপাতিক ভোটের সংখ্যার দিক থেকে স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে যে আমরা দেশপ্রেমিক।’
বিরোধী দলের এই সদস্য দাবি করেন, ‘জামায়াতে ইসলামের ইতিহাস হচ্ছে যেখানে গণতন্ত্র নস্যাৎ হয়েছে, সেখানে গণতন্ত্র উদ্ধার করার জন্য জামায়াতে ইসলামী আন্দোলন করেছে। মরহুম শেখ মুজিবুর রহমান যখন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল, তখনকার জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তান ডেমোক্র্যাটিক মুভমেন্টের মাধ্যমে তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করেছিল। শেখ মুজিবকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তির জন্য সবচেয়ে বেশি অর্থের যোগান দিয়েছিল জামায়াতে ইসলামী।’
জামায়াতে ইসলামীর আরেক সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ও গণভোটের রায় বাতিলের সিদ্ধান্ত বিএনপির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল, আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এর মাধ্যমে জনআকাঙ্ক্ষা ও গণঅভ্যুত্থানকে পদদলিত করা হয়েছে। এর অর্থ হলো আরেকটি জুলাইকে স্বাগত জানানো, ফ্যাসিবাদের নতুন ধারার সূচনা করা।
একটি নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখবেন—এমন আশা ছিল উল্লেখ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, সংসদে ও সংসদের বাইরে সে পরিবেশ ধীরে ধীরে ক্ষীণ হয়ে আসছে। তিনি অভিযোগ করেন, একজন ঋণখেলাপি দলীয় লোককে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে বসানো হয়েছে। এটা জাতির জন্য লজ্জাজনক, দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।
Posted ১১:৩৪ এএম | মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।