শুক্রবার ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

কল্পিত জাতীয়তাবাদ, মেসি-নেইমারের গোলে হোক শান্তি চুক্তি

জাতীয় ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   1 বার পঠিত

কল্পিত জাতীয়তাবাদ, মেসি-নেইমারের গোলে হোক শান্তি চুক্তি

‘এই গোল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য, এই গোল পুরো আফ্রিকার’। প্রতীকী, কিন্তু নিমিষেই প্রচণ্ড জাতীয়তাবাদ জাগানো কথাটি বলেছিলেন ব্রিটিশ ধারাভাষ্যকার পিটার ডুরি।

২০১০ সালে মেক্সিকোর বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকান মিডফিল্ডার সিফিওয়ে শাবালালা বিশ্বকাপের সূচনা গোল করেন ম্যাচের ৫৪ মিনিটে। যেটিকে পিটার ডুরি তুলনা করেছিলেন, পুরো আফ্রিকা অঞ্চলের মানুষের উদযাপনের উপলক্ষ্য হিসেবে।

প্রায় ১৬ বছর পর আবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকো। এর মধ্যে দিয়ে আমরা ঢুকছি বিশ্ব নাগরিক হয়ে ওঠার ৩৯ দিনের এক যাত্রায়। যেখানে একেকজন সমর্থক হয়ে উঠবেন একেকটি দেশের প্রতিনিধি।

আগামী এক মাস যেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে কেবল খেলার মাঠের লড়াই নয়, বরং এক অদ্ভুত ‘কল্পিত জাতীয়তাবাদ’ চর্চার সময়। বাসার ছাদে, বারান্দায় কিংবা অফিসের দেয়ালে ঝুলে থাকা পতাকাগুলো বলে দেয়, ওই বাড়ির মানুষ কার জয়গান গাইছে। একই ছাদের নিচে মা হয়তো আর্জেন্টিনার সমর্থক, আবার ছেলে ব্রাজিলের। এই ব্যবধান কেবল পছন্দের দলে সীমাবদ্ধ থাকে না, চলে ঝগড়া, বিদ্রূপ আর ভালোবাসার খুনসুটি।

বর্তমান বিশ্বে শান্তির যেন বড্ড সংকট। সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ব্যক্তি হিসেবে দাবি করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও দিনের পর দিন ভূ-রাজনৈতিক জটিলতায় ইরানের সঙ্গে এক টেকসই শান্তি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারছেন না। বিশ্বনেতাদের সেই ব্যর্থতার ভিড়ে, আগামী এক মাস যেন মেসি, রোনালদো কিংবা এমবাপ্পেদের সময়। তাদের একেকটি গোল হয়ে উঠতে পারে একেকটি অনানুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি বা উদযাপনের উপলক্ষ্য; যা মুহূর্তের জন্য হলেও গাজাবাসী কিংবা যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে একটু স্বস্তির পরশ বুলিয়ে দেবে।

বাংলাদেশের মানুষের অকৃত্রিম উন্মাদনাও হয়তো সেই বৈশ্বিক অস্থিরতার বিপরীতে ‘টিকে থাকার’ জন্য এক ধরনের মানসিক আশ্রয়। তবে এই আবেগের মুদ্রার উল্টো পিঠও আছে। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দুই দিন আগেই (৮ জুন) লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় পতাকা টানানো নিয়ে আর্জেন্টিনা সমর্থকের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলের এক সমর্থক।

এমন উদাহরণ আগের আসরগুলোতেও আছে। আর তাই আবেগে গা ভাসানোর সঙ্গে ‘স্পোর্টিং মানসিকতার’ বিষয়টিও সামনে আসে।

খেলার প্রতি সম্মান জানানোর মূল ভিত্তিই হলো প্রতিপক্ষকে সম্মান করা। আমরা যে দলগুলোর সমর্থন করি, সেই দেশের খেলোয়াড়রা নিজেরা কিন্তু মাঠের লড়াই শেষে করমর্দন করেন, একে অপরের জার্সিও অদলবদল করতে দেখা যায়। খেলার মাঠের সেই সৌজন্যবোধ যদি নিজের এলাকা, গ্রাম কিংবা সামাজিক মাধ্যমে চর্চা করা যায়, তবেই ফুটবল বিশ্বকাপ প্রকৃত অর্থে প্রতীকী ‘শান্তি চুক্তির’ উপলক্ষ্য হতে পারে।

আগামী ৩৯ দিনে বাংলাদেশে যে উৎসব হবে, তা কেবল খেলার মাঠের উত্তেজনা নয়; বরং এটি সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক পরিচয়ের এক নতুন রূপায়ন। পতাকাগুলো যখন বাতাসে ওড়ে, তখন সেগুলো কেবল ভিন্ন দেশের প্রতিনিধিত্ব করে না, বরং জানান দেয়- আমরা এই বিশ্বটাকে আপন করে নিতে ভালোবাসি। যেখানে বিষাদের মতো আনন্দের রংও আকাশি, সাদা কিংবা হলুদ।

Facebook Comments Box

Posted ৭:১৯ পিএম | বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(325 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।