নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 298 বার পঠিত

দেশের বিমান ব্যবস্থাপনা এখন এক মারাত্মক ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেকশনে বড় ধরনের অনিয়মের চিত্র। সেখানে ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেক্টরদের (এফওআই) একটি বড় অংশেরই লাইসেন্স বৈধ নয়। শুধু তাই নয়, অনেকেরই নেই ফ্লাইং কারেন্সি বা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতাও। কিন্তু এই অবৈধ ও অযোগ্য পরিদর্শকদের হাতেই নির্ভর করছে দেশের পাইলটদের লাইসেন্স নবায়ন, প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের কাজ। বলা বাহুল্য, এমন পরিস্থিতি শুধু জাতীয় নিরাপত্তার জন্যই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের নীতিমালা অনুযায়ী, একজন ফ্লাইট অপারেশন ইন্সপেক্টরকে অবশ্যই বৈধ লাইসেন্সধারী হতে হবে এবং তার থাকতে হবে যথেষ্ট উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা। কিন্তু বেবিচকের বর্তমান পরিদর্শকদের মধ্যে অনেকেই এই মৌলিক শর্তগুলো পূরণ করেননি। কারও বয়স ৭৫, কারওবা ৮০ বছরের বেশি। এদের মধ্যে অনেকেই বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, এমনকি রয়েছে হার্টের সমস্যাও। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় হলো, কিছু উড়োজাহাজ পরিদর্শনে এমন পরিদর্শকও যাচ্ছেন, যাদের লাইসেন্স বা উড্ডয়ন অভিজ্ঞতা পর্যন্ত নেই।
বলার অপেক্ষা রাখে না, এহেন গুরুতর অনিয়মের কারণে দেশের বিমান চলাচল ব্যবস্থা এক অন্ধকার সুড়ঙ্গের দিকেই এগোচ্ছে। বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, অভিজ্ঞতার জন্য পুরোনো কর্মকর্তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে, কারণ নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘ এবং দক্ষ জনবল পাওয়া কঠিন। কিন্তু এই যুক্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলেই মনে করি আমরা। অভিজ্ঞতার অজুহাতের মতো খোঁড়া যুক্তি দেখিয়ে দেশের মানুষকে নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ফেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অযোগ্য পরিদর্শকদের হাতে যদি পাইলটদের লাইসেন্স নবায়ন হয়, তাহলে ভবিষ্যতে যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থেকেই যায়। এমন পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। বাংলাদেশ এখনো যে ‘ক্যাটাগরি ওয়ানে’ উন্নীত হতে পারেনি, তার পেছনে এ কারণটিও রয়েছে। ফলে দেশের কোনো এয়ারলাইন্স সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপের উন্নত দেশগুলোতে ফ্লাইট পরিচালনা করতে পারছে না। যদি দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না করা হয়, তাহলে অন্যান্য দেশও বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করতে পারে।
দুঃখজনক যে, যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা, তারাই অনিয়মের প্রধান কারণ। অভিযোগ আছে, দীর্ঘদিনের এই অনিয়মের পেছনে একটি অশুভ চক্রের গোপন কমিশন বাণিজ্য ও স্বজনপ্রীতি কাজ করছে। বাংলাদেশের এভিয়েশনকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে এই দুষ্টচক্র ভেঙে দেওয়ার বিকল্প নেই। এ খাতকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে জরুরি ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। প্রয়োজন রয়েছে জরুরি ভিত্তিতে পেশাদার ও যোগ্য নেতৃত্ব নিশ্চিত করাও। কর্তৃপক্ষের তরফে শুধু আশ্বাস নয়, দরকার যথাযথ তদন্তপূর্বক এই সিন্ডিকেটের স্বরূপ উন্মোচন করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী যোগ্যতাসম্পন্ন পরিদর্শক নিয়োগ দেওয়া। সরকার আকাশযাত্রাকে নিরাপদ করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।
Posted ২:১৫ পিএম | রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।