ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 22 বার পঠিত

অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রায় ১ হাজার ২০০ নতুন বসতি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ইসরায়েল। এ উদ্যোগের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও কানাডা। দেশগুলো ইসরায়েলকে পরিকল্পনাটি অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক যৌথ বিবৃতিতে পশ্চিমা দেশগুলো ইসরায়েলের এ উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছে।
আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলো অবৈধ। নতুন করে ‘ই-১’ এলাকায় বসতি নির্মাণের উদ্যোগ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে আরও সংকটে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পশ্চিমা দেশগুলোর বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি ইতোমধ্যে অত্যন্ত অস্থিতিশীল। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলা বেড়েছে এবং ফিলিস্তিনি অর্থনীতিও সংকটে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন বসতি নির্মাণের সিদ্ধান্ত উত্তেজনা আরও বাড়াবে এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ কঠিন করে তুলবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব ও বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও ‘ই-১’ পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এ প্রকল্প একটি অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা তৈরি করতে পারে।
গত বুধবার ইসরায়েল ১ হাজার ২৩৪টি নতুন বসতি নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। এটি গত আগস্টে অনুমোদিত ৩ হাজার ৪০১টি আবাসন ইউনিটের একটি অংশ।
প্রকল্পটি পূর্ব জেরুজালেম ও ‘মালে আদুমিম’ বসতির মধ্যবর্তী প্রায় ১২ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাস্তবায়নের কথা। ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এর আগে বলেছিলেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ধারণা ‘মুছে ফেলা হচ্ছে’।
দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৯ অক্টোবর। এর মাত্র আট দিন পর, ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। এরপর সেখানে প্রায় ১৬০টি বসতি গড়ে উঠেছে। এসব বসতিতে বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ ইহুদি বসবাস করছেন।
অন্যদিকে, পশ্চিম তীর, পূর্ব জেরুজালেম ও গাজা নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চান ফিলিস্তিনিরা। বর্তমানে এসব এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের পাশাপাশি প্রায় ৩৩ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করছেন।
‘ই-১’ প্রকল্পের বিরোধীদের আশঙ্কা, এটি পশ্চিম তীরের উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে বিচ্ছিন্ন করে দিতে পারে। একই সঙ্গে রামাল্লাহ, পূর্ব জেরুজালেম ও বেথলেহেমের মধ্যে অখণ্ড ফিলিস্তিনি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথও বাধাগ্রস্ত হবে।
সূত্র: বিবিসি
Posted ৬:৩৩ এএম | শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।