ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

নিউইয়র্কে ‘মাটির গান’-এর প্রথম সাধুসঙ্গ, লালন দর্শনে মুখর সাউথ ওজন পার্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   3 বার পঠিত

নিউইয়র্কে ‘মাটির গান’-এর প্রথম সাধুসঙ্গ, লালন দর্শনে মুখর সাউথ ওজন পার্ক

প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে বাংলার মাটি, মানুষ ও শেকড়ের সংস্কৃতিকে ধারণ করে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো ‘মাটির গান’-এর প্রথম সাধুসঙ্গ। লালন সাঁইজির গান, মানবতাবাদী দর্শন, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও লোকসংস্কৃতির আবহে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান হয়ে ওঠে বাঙালি সংস্কৃতির এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় নিউইয়র্কের সাউথ ওজন পার্কে সংগঠনের সদস্যদের বাসভবনে এ সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বালনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপমহাদেশের খ্যাতিমান তবলা শিল্পী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা দেবু চৌধুরী, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী যুক্তরাষ্ট্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক কল্লোল দাশ, প্রজ্ঞা নিউজের নির্বাহী সম্পাদক ও আবৃত্তিশিল্পী মুনমুন সাহা, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কাজী জালাল এবং সংগীতশিল্পী সূপর্ণা সরকার রিমি।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ‘মাটির গান’-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও পরিচালক এবং বাংলাদেশ ও নিউইয়র্কের জনপ্রিয় বাউলশিল্পী মো. শাহীন হোসেন। পরে অতিথিদের উত্তরীয় পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়।

সাধুসঙ্গের মূল আকর্ষণ ছিল ফকির লালন সাঁইজির গান। ‘মাটির গান’-এর পরিকল্পনা ও পরিচালনায় লালনের প্রেম, সাম্য, মানবতা ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার গান পরিবেশন করেন খৃষ্টিলা কুইয়া, তুলি বিশ্বাস, মলি ডেসা ও মহুয়া ভট্টাচার্য। তবলায় ছিলেন দেবু চৌধুরী, কিবোর্ডে রবিউল ইসলাম এবং পারকেশনে সুমন। অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন সূপর্ণা সরকার রিমি। এছাড়া গান পরিবেশন করেন কবিতা সরকার।

লালন দর্শনের অন্যতম মূল শিক্ষা—মানুষে মানুষে বিভেদ নয়, মানবিক পরিচয়ই বড়। জাতপাত, ধর্মীয় বিভাজন ও সামাজিক বৈষম্যের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক মর্যাদা ও মুক্তির কথা বলে লালনের দর্শন। সেই মানবিক বার্তা প্রবাসের নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং নিউইয়র্কে বাংলা লোকসংগীত ও বাউল সংস্কৃতির চর্চা আরও বিস্তৃত করার প্রত্যয় উঠে আসে এ আয়োজনে।

আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসে থেকেও শেকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলার লোকঐতিহ্য, বাউলগান ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচিত করা জরুরি। ‘মাটির গান’-এর এ সাধুসঙ্গ সেই সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতারই একটি প্রয়াস।

অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অমিত বিশ্বাস ও জসিম উদ্দিন। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং শিল্পী-অতিথিদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ।

শেষপর্বে ছিল আন্তরিক আড্ডা ও খাবারের আপ্যায়ন। গান, দর্শন, সংস্কৃতি ও সৌহার্দ্যের আবহে শেষ হয় ‘মাটির গান’-এর প্রথম সাধুসঙ্গ।

নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে ‘মাটির গান’-এর এ উদ্যোগ আলাদা গুরুত্ব বহন করে। কারণ এটি শুধু গান শোনার আয়োজন নয়; বরং লালন দর্শনের মানবিক বাণী, বাংলার লোকঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতিকে প্রবাসের মাটিতে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি প্রয়াস।

Facebook Comments Box

Posted ৩:১২ এএম | মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।