মঙ্গলবার ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

নারীদের পোশাক নিয়ে বিএনপি এমপির বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা, পরে এক্সপাঞ্জ

জাতীয় ডেস্ক   |   রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   5 বার পঠিত

নারীদের পোশাক নিয়ে বিএনপি এমপির বক্তব্যে সংসদে উত্তেজনা, পরে এক্সপাঞ্জ

বোরকা নিয়ে কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যে আজ রোববার সংসদের বৈঠকে উত্তেজনা ছড়ায়। সভাপতির আসনে থাকা ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বোরকা সংক্রান্ত বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করেন। বিরোধীদলীয় জোট এই বক্তব্যকে ব্যক্তি ও ধর্মীয় স্বাধীনতার লঙ্ঘন এবং বর্ণবাদী আখ্যা দিয়ে প্রতিবাদ জানায়। সরকারি দলের পক্ষে বলা হয়, বোরকা বা পর্দাকে কটাক্ষ নয়, মনিরুল হক হাস্যরস করেছিলেন মাত্র।

মনিরুল হক চৌধুরী বাজেটের সম্পূরক আলোচনায় অংশ নিয়ে একপর্যায়ে বলেন, ‘ওনাদের (জামায়াতের সংসদ সদস্য) সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক। ১৯৬৮ সালে গোলাম আযমের ডাকে ঢাকায় আন্দোলন করেছি, হরতাল কমিটির আহ্বায়ক ছিলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। তিনি দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমার পক্ষে জামায়াতের প্রার্থী প্রত্যাহার করেছিলেন। এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ। আমি স্বীকার করি, জামায়াত ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠক, লেখাপড়া করে, রাজনীতি করেন, কিন্তু আপনারা যা পড়েন তা ইতিহাসের সত্য, তা ঠিক নয়। আর আপনাদের চেনা আরও কঠিন ‘

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য আমাকে উদ্দেশে করে কথা বলুন।’ তখন মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘একটু সম্পর্কটা ক্লোজ করলাম, না হয় খেপে যাবে।’ মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘২০০১ সালে এমপি তাহের ভাই (বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের) বৌ নিয়ে গেছেন দাওয়াতে। গিয়ে দেখি একটা কিছু হাঁটতেছে। আমি বলি, তাহের ভাই ভাবী কই? উনি বলেন, “এই যে”। তখন বলি আপনি যে বদলায়ে আনেন নাই এটা কেমনে বুঝুমু।’

এই পর্যায়ে জামায়াতের বোরকা-নিকাব পরা নারী এমপিদের উদ্দেশে বলেন, ‘সবাই মেধাবী। দুইজনের বক্তৃতা শুনেছি, আগামীতে কিছু করতে পারবে, ভবিষ্যৎ আছে, লেখাপড়া জানা। কিন্তু বুঝলাম না তো কারা আপনারা?’

এ সময় বিএনপির এমপিরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন করে। হাস্যরস সৃষ্টি হয়। এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলা উচিত না।’ বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। ডেপুটি স্পিকার বিরোধীদলীয় এমপিদের বসার অনুরোধ করেন। তবে হৈচৈ চলতে থাকে। তখন মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি কাউকে কিছু বলিনি। অতীতের একটি ঘটনার গল্প বলেছি।’

এ সময় বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ উচ্চস্বরে কিছু বলতে গেলে, তাকেসহ বিরোধীদলীয় সদস্যদের ডেপুটি স্পিকার তাকে বসার অনুরোধ করেন।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমি কাউকে ছোট করিনি। যদি ছোট হয়ে থাকেন তাহলে ক্ষমা চাইছি।’

ডেপুটি স্পিকার মনিরুল হক চৌধুরীকে উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, এই অংশটুকু এক্সপাঞ্জ করা হল।’ তখন বিরোধীদলীয় এমপিরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান। ডেপুটি স্পিকারকে ধন্যবাদ জানান মনিরুল হক চৌধুরীও।

আসরের নামাজের বিরতির পর বিরোধীদল আবারও প্রসঙ্গটি উত্থাপন করে। বিরোধীদলীয় চিফহুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রীকে নিয়ে কটাক্ষ করেছেন, তা অমার্জনীয় অপরাধ।’

এ সময় ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে রুলিং দিয়েছি। যতটুকু অসংসদীয় তা এক্সপাঞ্জ করেছি।’

এ পর্যায়ে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ফ্লোর নিয়ে বলেন, ‘সংসদে হাসি ঠাট্টা করে অনেক কথা হয়। গত পরশু বিদ্যুৎমন্ত্রীর বিয়ে নিয়ে কথা হয়েছে। বিরোধীদলীয় উপনেতার স্ত্রী নিয়ে কথা তেমনই হালকা কথা।’

তখন ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘এ বিষয়ে স্পিকারের আসন থেকে একটি রুলি দেওয়া হয়েছে। এটা এখানেই শেষ।’

এ সময় চিফহুইপ নূরুল ইসলাম মনি ডেপুটি স্পিকারকে অনুরোধ করেন, মনিরুল হক চৌধুরীকে ফ্লোর দিতে। এই পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার বলেন, যদি পরবর্তীতে প্রয়োজন বোধ করি, ফ্লোর দেওয়া হবে। স্পিকার তখন বসিয়ে দেন মনিরুল হক চৌধুরীকে।

এর আগে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সংসদ সদস্যরা একটু শুনুন দয়া করে। আমরা যদি আমাদের শালীনতা, আমাদের সম্মান-মর্যাদা না রাখি, জাতির কাছে-যারা আমাদের ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছেন, তাদের কাছে লজ্জিত হব। এই মহান সংসদ গণতান্ত্রিক কার্যক্রম পরিচালনার চারণক্ষেত্র, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে কেউ কোনো কথা ভবিষ্যতে বলবেন না।’

মনিরুল হক চৌধুরী ওই পর্যায়ে বলেছিলেন, ‘এ পরিস্থিতি প্রত্যাশা করিনি। যদি আমার কোনো বক্তব্য আকার-ইঙ্গিতে কারও লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ করব। আমার মনে হয় ওনারা ভুল বুঝেছেন। এটা বোঝার শক্তি সবার থাকে না।’

পরে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ৫ আগস্টের পরে বর্তমান সরকারি ও বিরোধীদলের মধ্যে সম্পর্ক কি কারণে নষ্ট হলো তা নিয়ে গবেষণা করা হোক। কি কারণে বিএনপির প্রতিপক্ষ হল? তারেক রহমান নীলকণ্ঠ বিষ খেয়ে বিষ হজম করেন।

বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি এত সুশৃঙ্খল কথা বলেন, যা অতীতে কখনো শুনিনি।

Facebook Comments Box

Posted ২:৩২ এএম | রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

(328 বার পঠিত)

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।