নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 4 বার পঠিত

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র পেয়েছে। দুর্বল অর্থনীতি, বিভক্ত প্রশাসন এবং ভঙ্গুর শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার মধ্য থেকেই দেশকে ঘুরে দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র ও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। বিগত দিনের অপরিকল্পিত পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলো আমাদের জ্বালানি খাতকে বিপদের মুখে ফেলেছে। সরকার এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের মাধ্যমে দেশকে সংকট থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছে।’
স্বাস্থ্য খাতে বড় সংস্কারের পরিকল্পনা
স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্যসেবা নীতির মূল লক্ষ্য—‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’।
রোগ প্রতিরোধে জনগণকে সচেতন করতে দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের নেতৃত্বে এসব স্বাস্থ্যকর্মী সাধারণ মানুষকে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক করবেন।
চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের রাজনীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত সবকিছুকে প্রভাবিত করে। তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবীদের রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সংগঠিত হওয়া অযৌক্তিক নয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, সেদিকে চিকিৎসকদের সতর্ক থাকতে হবে।
৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের দাবি বিবেচনায়
ড্যাবের পক্ষ থেকে উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, স্বল্পতম সময়ে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, সরকারি চাকরিতে চিকিৎসকদের প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ বছরে উন্নীত করা, অবসরের বয়সসীমা ৬১ থেকে ৬৫ বছর করা, স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত চিকিৎসকদের বিশেষ ভাতা এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য সুনির্দিষ্ট ও ন্যায্য বেতন কাঠামো নির্ধারণের দাবিগুলো অযৌক্তিক নয়। এসব বিষয় সরকারের বিবেচনায় থাকা উচিত।
স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য
দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো স্বাস্থ্য খাতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দের লক্ষ্য নিয়ে সরকারকে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, দ্রুত ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারি-বেসরকারি সব চিকিৎসকের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করে তারেক রহমান বলেন, এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কাউকে বিদেশে যেতে হবে না।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ।
Posted ১:২২ পিএম | শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।