নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 5 বার পঠিত

খুলনার পাইকগাছায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে খাল-বিল, ডোবা ও বিভিন্ন জলাশয়ে পানি জমায় পাট জাগ দেওয়া ও ধোয়ার কাজও সহজ হয়েছে। ভালো ফলন ও বাজারে আশানুরূপ দাম পাওয়ায় সন্তুষ্ট কৃষকরা।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা নদী, খাল, বিল ও ডোবায় পাট জাগ দিচ্ছেন। কোথাও জাগ থেকে পাট তুলে আঁশ ছাড়ানো হচ্ছে, আবার কোথাও ধোয়া পাট রোদে শুকানোর জন্য বাড়ির উঠান, মাঠ ও রাস্তার পাশে রাখা হয়েছে। নারী-পুরুষ সবাই মিলে পাট প্রক্রিয়াজাতকরণের কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পাইকগাছায় ২৮৩ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। উপজেলার গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি, রাড়ুলী ও পৌর এলাকায় পাটের আবাদ বেশি হয়েছে। এসব এলাকায় দেশি, তোষাসহ বিভিন্ন জাতের পাট চাষ করা হয়েছে।
গদাইপুর গ্রামের পাটচাষি কেসমত সরদার বলেন, এবার পাটের ফলন ও আঁশ ভালো হয়েছে। প্রতি বিঘা জমিতে চাষ, সেচ, সার প্রয়োগ, পাট কাটা ও শুকানোসহ প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১২ মণ পাট পাওয়ার আশা করছেন তিনি। পাট ও পাটকাঠির ভালো দাম পাওয়ায় এবার লাভের আশাও করছেন কৃষকরা।
বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রতি মণ পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাট ব্যবসায়ীরা কৃষকদের বাড়ি বাড়ি গিয়েও পাট কিনছেন। এতে ভালো ফলন ও দাম পেয়ে কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
তবে পাট জাগ দেওয়ার জায়গার সংকট নিয়ে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। হিতামপুর গ্রামের পাটচাষি আব্দুস সামাদ বলেন, পাট জাগ দেওয়ার উপযুক্ত জায়গা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। মাছ চাষের কারণে অনেক পুকুর ও জলাশয়ে পাট জাগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ কিছুটা কমছে।
গোপালপুর গ্রামের পাটচাষি কেরামত সরদার বলেন, শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় পাট চাষে খরচ বেড়েছে। তবে পাটকাঠির ভালো দাম পাওয়ায় সেই বাড়তি খরচ কিছুটা পুষিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে ছোট আঁটি হিসেবে পাটকাঠি ৪০ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি হিসেবে স্থানীয়ভাবে এর ভালো চাহিদা রয়েছে।
পাইকগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. একরামুল হোসেন বলেন, সরকার পাটচাষিদের সার, বীজ ও প্রশিক্ষণ দেওয়ায় পাট চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে। চলতি মৌসুমে পাটের আবাদ ও ফলন ভালো হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার কৃষকরা ভালো দামও পাচ্ছেন। পাটকাঠি থেকেও তারা আশানুরূপ মূল্য পাচ্ছেন। পাটের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে সোনালি আঁশের সুদিন ধরে রাখা সম্ভব হবে।
Posted ১২:০২ পিএম | সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।