বিনোদন ডেস্ক | মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 89 বার পঠিত

সামিরা খান মাহি। তারকা অভিনেত্রী ও মডেল। সম্প্রতি ওয়েব ফিকশন ‘থার্সডে’-এর পাশাপাশি ‘নীল ছাতা’, ‘দ্বিতীয় পত্র’, ‘বকুল ফুল’, ‘খুশবু’সহ আরও বেশ কিছু একক ও ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করে দর্শক মনোযোগ কেড়েছেন তিনি। অভিনয়ে নিজস্ব ভাবনা, এ সময়ের ব্যস্ততা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন রাসেল আজাদ বিদ্যুৎ
আগে দেখা মেলেনি, এমন সব চরিত্রে আজকাল বেশি দেখা যাচ্ছে। চরিত্র উপস্থাপন আর অভিনয় নিয়ে কী আগের চেয়ে বেশি সিরিয়াস?
অভিনয় নিয়ে সিরিয়াস না হয়ে উপায় ছিল না। কারণ, পরিণত শিল্পী হয়ে উঠতে হলে এমন কিছু কাজ করা প্রয়োজন, যা অনেক দিন দর্শক মনে বেঁচে থাকবে। অভিনয় জগতে পথ চলতে গিয়ে বুঝেছি, দর্শক তারকাদের মূল্যায়ন করেন নাটক, সিনেমা বা সিরিজের সংখ্যা দিয়ে নয়, অভিনয় দিয়ে। তাই চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত এমন সব গল্প ও চরিত্র বেছে নিতে, যা দর্শকের মনে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা যাবে। সেই ভাবনা থেকে ‘বকুল ফুল’ নাটকে প্রতিবন্ধী চরিত্রটি বেছে নেওয়া। ‘খুশবু’ নাটকে আমার উপস্থিতি কম সময়ের জন্য হলেও এর কাহিনি গড়ে উঠেছে এর নায়িকা চরিত্রটির জীবনযাপন ও বিষাদী ঘটনাকে কেন্দ্র করে। ওয়েব ফিকশন ‘থার্সডে’র আগেও একটি নাটকে পুলিশ চরিত্রে অভিনয় করেছি। কিন্তু সেই নাটকে পুলিশের চেয়ে ‘থার্সডে’ চরিত্রটি বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। ‘দ্বিতীয় পত্র’, ‘নীল ছাতা’সহ এই সময়ের আরও যেসব নাটকে অভিনয় করেছি, সেখানেও ছিল চেনা জীবনের ছায়া।
অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন ছিল না, অথচ একের পর এক নতুন গল্প, চরিত্রের অনুসন্ধান করে চলেছেন। ক্যারিয়ার নিয়ে আপনার চিন্তাভাবনা বদলে গেলে কীভাবে?
অভিনয়ের তৃষ্ণা থেকেই চিন্তা-ভাবনা বদলে গেছে। নিজ ভাবনা আর পাওয়া না পাওয়ার সঙ্গে সবকিছু মিলে যাবে– এই কথাটা সবার বেলায় সত্যি না। তাই স্বপ্ন লালন না করে আজ আমি অভিনেত্রী হিসেবেই পরিচিত। বছর চারেক হঠাৎ করেই অভিনয়ের সুযোগ এসেছিল। মডেলিং আর ডান্স পারফরমার হওয়ার সুবাদে সেই সুযোগ পাওয়া। এরপর একটি, দুটি করে নাটকে কাজ করতে গিয়ে দেখি, অভিনয়ের তৃষ্ণা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এরপর যখন অভিনয়ের সূত্রে দর্শকের ভালোবাসা পেতে শুরু করলাম, তখন মনে হলো, এটাই আমার নিয়তি নির্ধারিত কাজ; মনপ্রাণ ঢেলে এই কাজই করতে হবে। এরপর অল্প সময়ে রেকর্ডসংখ্যক নাটকে অভিনয়ের সুযোগ হয়েছে। কিন্তু একটা সময় এসে বুঝলাম, এই সংখ্যা আসলে ততটা গুরুত্বপূর্ণ নয়; বরং কী ধরনের কাজ করছি, সেটাই আসল।
পরিণত শিল্পী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে চান। কিন্তু সেই চাওয়া পূরণে কাঙ্ক্ষিত কাজের সুযোগ কতটুকু আছে?
সত্যি বলতে কী, বেশির ভাগ নাটকের গল্পই খুব হালকা ধাঁচের মনে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, কাহিনিতে তেমন কোনো গভীরতা নেই, চরিত্রেও নেই নতুনত্ব, তারপরও সেটি দর্শক পছন্দ করছেন। তাই কাজ শুরুর আগে এও অনুমান করা কঠিন, কোনো গল্প, কোনো চরিত্র কার মনে কীভাবে ছাপ ফেলবে। আবার এক ঠিক যে, ধারাবাহিকভাবে কাজ করতে গেলে সব সময় নিজের ভালো লাগা অনুযায়ী গল্প ও চরিত্রে কাজের সুযোগ মেলে না। তারপরও যতটা পারি, এমন কিছু গল্প ও চরিত্র বেছে নিতে যা অভিনেত্রী সত্তাকে খুশি করবে এবং দর্শকের মনে ছাপ ফেলার সম্ভাবনা থাকবে।
সমসাময়িক অভিনেতা-অভিনেত্রী অনেকে সিনেমায় অভিনয় করছেন। আপনাকে বড় পর্দায় কবে দেখা যাবে?
কাছের মানুষদের অনেকে এই প্রশ্ন করেন। ছোট পর্দার অনেক কিছু তারকা এখন সিনেমায় অভিনয় করছেন, তাহলে আমি কেন বসে আছি? এটাই তাদের প্রশ্ন। শুধু তাই নয়, ‘খুশবু’ নাটক দেখার পর ভক্ত, অনুরাগীদের অনেকে চাইছেন সিনেমায় অভিনয় করি। তাদের মতো এ নাটকের ‘খুশবু’ নামে সিনেমায় নায়িকার চরিত্রটি অনেকটা বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। আমার ডান্স পারফরম্যান্স দেখেও অনেকে বলেছে, আমার অবশ্যই সিনেমায় আসা উচিত। কিন্তু যে যা-ই বলুক, আমি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রস্তুত নই।
সিনেমায় অভিনয় নিয়ে অনীহার কারণ?
সিনেমা মানেই বড় ক্যানভাস, যার শুরু থেকে সমাপ্তি পর্যন্ত প্রতিটি ফ্রেম গুরুত্বপূর্ণ। এর ছোটখাটো দৃশ্যও দর্শক মনে দারুণভাবে আঁচড় কাটতে পারে, মুগ্ধতা আচ্ছন্ন করতে পারে, একইভাবে ভাবনার অতলেও ডুবিয়ে নিতে পারে। তাই সিনেমার জন্য নিজেকে আলাদাভাবে প্রস্তুত না করা পর্যন্ত বড় ক্যানভাবে নিজেকে দেখাতে চাই না। যদিও এর মধ্যে বেশ কিছু সিনেমার প্রস্তাব এসেছে, কিন্তু বেশির ভাগই ছিল বোল্ড লুক আর ভায়োলেন্সের গল্প। তাই প্রস্তাবে সাড়া দেইনি।
Posted ৫:০১ পিএম | মঙ্গলবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।