বৃহস্পতিবার ১৪ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

সিনেমা আমাকে নতুন জন্ম দিয়েছে: আমিন খান

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   531 বার পঠিত

সিনেমা আমাকে নতুন জন্ম দিয়েছে: আমিন খান

বিনোদন জগতের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নোংরা পলিটিকসের শিকার হয়েছিলেন বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনেতা আমিন খান। মনোবল শক্ত ছিল, পরিবার পাশে ছিল; তাই হয়তো আত্মহত্যা করেননি বলে জানান তিনি। আমি আমার মতো করে লড়ে গেছি, সিনেমা জগতে জায়গা করে নিয়েছি বলেও জানান আমিন খান।

একসময়ে শুটিংয়ে অ্যাকশন-কাটে যার দিন কেটেছে, এখন তিনি পুরোদস্তুর চাকরিজীবনে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বড় দায়িত্বে আছেন অভিনেতা আমিন খান। মাঝে ২০২৩ সালে নতুন করে আলোচনায় আসেন আরাভ খানকাণ্ডে। পুরোনো এক সাক্ষাৎকারে সেই সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় সোনা ব্যবসায়ী আরাভ খানকে নিয়ে বেশ কিছু খবর। নামের মিল থাকায় অনেকে মনে করছেন, ওই আরাভ খান বাংলাদেশের ঢালিউড নায়ক আমিন খানের ভাই, যা নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয় খানের পরিবারকে।

সেই সময় একটি গণমাধ্যমে আমিন খান বলেছিলেন—দুবাইয়ের আরাভ খান আমার ভাই নন। কী যে এক ঝামেলায় পড়েছি, আরাভ খান নামের আমার কোনো ভাই নেই। যে আরাভ খান মনে করে অনেকেই আমার কাছে জানতে চাচ্ছেন, তিনি কি আমার ভাই, সেই আরাভ খানকে আমি চিনি না। গণমাধ্যমের খবরে জানতে পারলাম তার কথা। অনেকেই ভুল করে তাকে আমার ভাই মনে করছেন, জানতে চাইছেন—এ ঘটনায় বিব্রত বোধ করছি। আমার ভাইয়ের নাম আশরাফুল ইসলাম। সে একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিল। সেখানে তার নাম আরাভ থাকতে পারে। এখান থেকে কেউ কেউ মনে করছেন তিনিই আমার ভাই। এ ঘটনায় সবার ভুলটা ভাঙানো দরকার।

নব্বই দশকে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আমিন খানে যাত্রা। এই কার্যক্রমে নির্বাচিত হয়েও ফিল্মি পলিটিকসের কারণে দুই বছর কোনো সিনেমার কাজ করতে পারেননি তিনি। ১৯৯৩ সালে মুক্তি পায় প্রথম সিনেমা ‘অবুঝ দুটি মন’। মোহাম্মদ হোসেন পরিচালিত এ সিনেমা মুক্তির আগে বাদল খন্দকারের ‘দুনিয়ার বাদশা’ সিনেমায় কাজ করেন তিনি। সিনেমাটি সুপারহিট ব্যবসা করে। এ সিনেমাই তাকে অ্যাকশন ঘরানার আগ্রহী হওয়ার রাস্তা তৈরি করে দেয়, তার আগে মুখোমুখি হতে হয় অনেক ঘটনার।

চাচার উৎসাহে ১৯৯০ সালে এফডিসি আয়োজিত নতুন মুখের সন্ধানে কার্যক্রমে অংশ নেন আমিন খান। সেই সময় ২০ থেকে ২২ হাজার প্রতিযোগীর মধ্য থেকে নিজেকে সেরা হিসেবে সবার সামনে তুলে ধরেন তিনি। সেই সময়কার কথা মনে করে আমিন খান বলেন, খুলনা থেকে ঢাকায় আসি। গ্রাম থেকে আসা আমি কাউকে চিনি না ও জানি না। একমাত্র অভিভাবক আমার চাচা। তিনিও সিনেমার কেউ নন। ডানে যাব না, বাঁয়ে যাব— কিছুই জানি না। তারপরও অডিশনে টিকে গেলাম। অডিশনের পরই বাংলাদেশের স্বনামধন্য ও প্রভাবশালী একজন পরিচালক আমাকে দিয়ে সিনেমা বানানোর আগ্রহ প্রকাশ করলেন। প্রতিযোগিতা শেষে সিনেমার নামও ঘোষণা করলেন, কিন্তু আমাকে নিলেন না। আমি চুপচাপ রইলাম। সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস রেখে চলেছি। তা না হলে হয়তো আত্মহত্যা করতাম। এর মধ্যে সেই সময় সবচেয়ে মেগা হিট তিনটি সিনেমার প্রস্তাবও আমার কাছে আসে। কিন্তু পরিচালককে কথা দেওয়ার কারণে সিনেমাগুলো আমার করা হয়নি। ওই পরিচালকের একজন শিষ্য আমাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে চাইলেন, অজ্ঞাত কারণে তা–ও হলো না!

‘অবুঝ দুটি মন’ করার আগে তিনটি সিনেমার সাইনিং মানি নিয়েছিলাম। কোনোটিতে কাজ করা হচ্ছে না। এদিকে আমাকে প্রস্তাব দেওয়া সিনেমাগুলোও মুক্তি পেতে লাগল, মন খারাপ লাগা শুরু হলো। বুঝে গেছি, পলিটিকসে পড়ে গেছি। চাচার সঙ্গে ইস্কাটনে থাকতাম। লজ্জায় বাড়িতেও যেতে পারতাম না। দুই বছরে ঈদেও খুলনায় যেতে পারিনি।

তবে এই কষ্টের সময়ে সেই সময়ের সাংবাদিকদের খুব ভালোভাবে পাশে পেয়েছেন আমিন খান। তারা এই আমিন খান নামটিও দেন। সবার কাছে আমিন খান নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম ছিল আমিনুল ইসলাম খান, ডাকনাম আমিন। ঢাকার একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে পরিচিতি অনুষ্ঠানে নামটি দেন তারা।

Facebook Comments Box

Posted ৯:০৪ এএম | বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।