জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 38 বার পঠিত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কারফিউ দিয়ে গণহত্যায় উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের বিরুদ্ধে দুজনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়েছে। পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৩ মার্চ দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইবুনাল-১ এ আজ রোববার সাক্ষ্যগ্রহণ হয়।
ট্রাইব্যুনালে আজ প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন রাজশাহী পুঠিয়ার বাসিন্দা ইমরান হোসেন। ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মিরপুর-১০ নম্বর এলাকায় ছোড়া গুলিতে গুলিবিদ্ধ হন তিনি। প্রায় ৪০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে তার ডান পা কেটে ফেলতে হয়। বিভীষিকাময় সেসব দিনের বর্ণনা তুলে ধরেন এই সাক্ষী।
ক্লাচে ভর করে আসা এ ওয়ান কোম্পানির টেকনিশিয়ান ইমরান জানান, চাকরির সুবাদে ওই দিন মিরপুর-১১ নম্বর আলফালাহ ব্যাংক থেকে ১০-এ আসছিলেন। গোলাগুলি দেখে আত্মরক্ষায় আন্দোলনকারীদের মধ্যে আশ্রয় নেন তিনি। যেন পুলিশের গুলি না লাগে। মিরপুর-১০ এ আসতেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও পুলিশের এলোপাতাড়ি ছোড়া একটি গুলি তার পেছন দিক দিয়ে ডান পায়ে লাগে।
জবানবন্দিতে ইমরান বলেন, শেখ হাসিনা ছাত্রদের রাজাকারের বাচ্চা বলার প্রেক্ষিতে আন্দোলন ও গোলাগুলি শুরু হয়েছিল। আজ আমার এ অবস্থার জন্য তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের বড় বড় নেতাদের মধ্যে ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, সালমান এফ রহমানরা দায়ী।
এছাড়া দ্বিতীয় সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন শহীদ শিক্ষার্থী সিফাতের বাবা মাদারীপুর কালকিনি উপজেলার বাসিন্দা কামাল হাওলাদার। নিজের চোখের সামনেই গুলিবিদ্ধ হন তার ছেলে। ট্রাইব্যুনালে সিফাত হত্যার বিবরণ দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সহিদুল ইসলাম সরদার, সাইমুম রেজা তালুকদারসহ অন্যরা।
সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আসামিপক্ষে জেরা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যৈষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। সঙ্গে ছিলেন পলাশ চন্দ্র রায়সহ অন্যান্য আইনজীবী।
এদিকে, আজ সকালে সালমান ও আনিসুলকে কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের সামনেই সাক্ষ্য দেন সাক্ষীরা।
এর আগে, ১০ ফেব্রুয়ারি এ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। গত ১২ জানুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগে বলা হয়, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতেন সালমান ও আনিসুল। এর প্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই ফোনে কথা বলেন তারা। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনায় বহু ছাত্র-জনতার প্রাণহানি ঘটলেও নির্যাতন বন্ধে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
এছাড়া ২৩ জুলাই মিরপুরে হত্যাকাণ্ড, ২৮ জুলাই মিরপুর-১০ এ মারণাস্ত্র ব্যবহার, ৪ আগস্ট মিরপুর-১ এ ১২ জন এবং ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচি ঘিরে মিরপুর-২, ১০ ও ১৩ নম্বর এলাকায় ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনাকে তাদের পরিকল্পনা ও নির্দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
গত বছরের ৪ ডিসেম্বর এসব অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। একই দিন ফরমাল চার্জ দাখিল করে প্রসিকিউশন। বর্তমানে বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন এক সময়ের প্রভাবশালী এই দুই নেতা।
Posted ৫:৪৬ পিএম | রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।