ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

কুমিরের সঙ্গে মিলেমিশে বাস করে যে গ্রামের মানুষ

  |   শুক্রবার, ০৫ মে ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   128 বার পঠিত

কুমিরের সঙ্গে মিলেমিশে বাস করে যে গ্রামের মানুষ

প্রাণীজগতে কুমিরের পরিচয় দুর্ধর্ষ শিকারি হিসেবে। স্বাভাবিকভাবেই যেসব নদী, লেক কিংবা পুকুরে কুমির থাকে, মানুষ সেগুলো এড়িয়ে চলে। তবে বুরকিনা ফাসোর ছোট্ট এক গ্রামে ব্যাপারটা একেবারেই আলাদা। এখানে মানুষ আর কুমিরে দারুণ সুসম্পর্ক। এমনকি সেখানে গিয়ে কোনো গ্রামবাসীকে বিশালাকার এসব সরীসৃপের কোনো একটির পিঠে চড়ে বসে থাকতে দেখে চমকে উঠতে পারেন।

বুরকিনা ফাসোতে শুষ্ক সাভানা অঞ্চল আর সবুজ অরণ্য দুটিই পাবেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির পাশাপাশি বাজৌলি গ্রামটি টানছে পর্যটকদেরও। বুরকিনা ফাসোর রাজধানী ওয়াগুদুগু থেকে বাজৌলি নামের গ্রামটির দূরত্ব মাইল বিশেক। সেখানে বেশ বড়সড় এক পুকুরে শ দুয়েক কুমিরের বাস। ওই পুকুরই ব্যবহার করে গ্রামবাসী। হঠাৎ বাইরে থেকে কেউ এলে চমকে ওঠেন এভাবে মিলেমিশে থাকা দেখে।

স্থানীয় কিংবদন্তি অনুসারে কুমিরের সঙ্গে এই সম্পর্কের সূচনা সেই পনেরো শতকের দিকে। গোটা গ্রামটি বড় এক খরার মুখে পড়েছিল তখন। এ সময়ই কুমিরেরা গ্রামের নারীদের পানিপূর্ণ গুপ্ত এক পুকুরের কাছে নিয়ে যায়। সেখানেই পিপাসা মেটায় গ্রামবাসী। বিষয়টি উদ্‌যাপন ও কুমিরদের ধন্যবাদ জানাতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গ্রামবাসী। কুম লাকরে নামের এ ধরনের একটি উৎসব হয়। এখন হয় প্রতিবছর। সেখানে কুমিরকে নানা ধরনের খাবার দেওয়া হয় উপঢৌকন হিসেবে। তেমনি নিজেদের স্বাস্থ্য, উন্নতি ও ভালো ফসলের জন্য প্রার্থনা করে গ্রামবাসী।

কুমির একটি প্রাণী, যেটি সাধারণত ভীতি তৈরি করে মানুষের মধ্যে। গোটা পৃথিবীতে প্রতিবছর মোটামুটি হাজার খানেক মানুষ মারা যায় কুমিরের আক্রমণে। এর প্রায় তিন ভাগের এক ভাগ আফ্রিকা মহাদেশে। প্রাণীটিকে আফ্রিকার বেশির ভাগ বড় নদীতে পাওয়া যায়। আক্রমণ হঠাৎ হঠাৎ হলেও মানুষ সতর্ক থাকে। তবে বাজৌলির কুমিরেরা মোটেই অন্য কুমিরদের মতো নয়।

বাজৌলির এই কুমিরদের নীল ক্রোকোডাইলের দূর সম্পর্কের আত্মীয় বলতে পারেন। ক্রোকোডিলাস সুচাস নামের আলাদা একটি প্রজাতি তারা। ওয়েস্ট আফ্রিকান ক্রোকোডাইল বা পশ্চিম আফ্রিকান কুমির নামেও এরা পরিচিত।

কুমির আর গ্রামবাসীদের এমন সম্পর্কের কথা শুনে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকেরা আসেন। এতে এখানকার মানুষেরও দু-পয়সা রোজগার হয়। ‘একটু দূর থেকে দেখতে দারুণ লাগে। তবে পিঠে চড়ে বসাটা কেমন উদ্ভট লাগে।’ বলেন বুরকিনা ফাসোতে দাদা-দাদিকে দেখতে আসা ফরাসি তরুণ টমাস বাসপিন।

তবে পৃথিবীর উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়ছে গ্রামটির ওপরও। বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমছে এই এলাকায়। কুমিরের বাসা হিসেবে পরিচিত বিখ্যাত পুকুরটিতেও পানি কমে যায় কোনো কোনো ঋতুতে। যদি কখনো এটি শুকিয়ে যায়, তবে সরীসৃপ বন্ধুরা কি আবার মানুষকে দেবে নতুন পুকুরের সন্ধান?

Facebook Comments Box
বিষয় :

Posted ৫:৫৩ এএম | শুক্রবার, ০৫ মে ২০২৩

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।