বিনোদন ডেস্ক | সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 44 বার পঠিত

অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব। ভিন্নভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে জয় করেছেন দর্শকদের হৃদয়। বছরজুড়ে নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও এবার তাকে দেখা যাবে ওয়েব ফিল্মে। নাম, ‘ফার্স্ট লাভ’। শুধু রোমান্স নয়, এই ফিল্মে আছে পরিবার, বন্ধুত্ব ও ছাত্রজীবনের স্মৃতি। রোববার নতুন ফিল্মসহ অভিনয়ের নানা বিষয় নিয়ে তিনি কথা বলেছেন সঙ্গে।
‘ফার্স্ট লাভ’ -এ আপনার চরিত্রটা কেমন?
‘ফার্স্ট লাভ’ হচ্ছে হাসিব হোসাইন রাখির সঙ্গে আমার দ্বিতীয় এবং ক্যাপিটাল ড্রামার সঙ্গে চতুর্থ কাজ। এখানে আমার চরিত্রের নাম প্রীতম। এই চরিত্রটার মধ্যে বেশ কয়েকটি লেয়ার আছে। তবে সবগুলোর সঙ্গে প্রেম, পরিবার, বন্ধুত্ব মিশে আছে। এখানে আমার সহশিল্পী শাম্মি আক্তার নীলা। ‘ফার্স্ট লাভ’ দিয়ে অভিনয়ে বড় পরিসরে তার পথচলা শুরু হচ্ছে। এর থেকে আর কিছু বলতে চাই না।
নতুন শিল্পী শাম্মি ইসলাম নীলার সঙ্গে কাজ…
গত রোজার ঈদে একটি পারিবারিক ইভেন্টে নীলার সঙ্গে আমার দেখা। তখন তাকে অভিনয়ের আসার কথা বলেছিলাম। সেও বেশ আগ্রহী ছিল। এরমাঝে বিভিন্ন গল্প আসছিল। এখন থেকে প্রায় ৬ মাস আগে যখন ‘ফার্স্ট লাভ’ গল্পটা আসলো তখন আমরা নীলা জানালাম। সেও গল্প শুনে রাজি হয়। দেখতে দেখতে কাজটাও শেষ হয়ে গেলো। আমার মনে হয় শুরুটা তার দারুণভাবে হলো। বাকিটা মুক্তির পর দর্শক বলতে পারবে।
বড় বাজেটের কাজে সচরাচর নতুনদের নিয়ে কেউ কাজ করতে চায় না…
দেখুন, এই ধারণাটা আসলে সঠিক নয়। আমিও এক সময় নতুন ছিলাম। আমাকে যদি কেউ অভিনয়ে না নিতো তাহলে তো আমি আজকে তৌসিফ হতে পারতাম না। নতুন পুরোতন বিষয় না। গল্পের সঙ্গে চরিত্র প্লে করার মত লোক লাগবে। হোক সেটা নতুন বা অভিজ্ঞ শিল্পী।
ভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ও ভিন্ন কাজের চ্যালেঞ্জ
খুব বেশি প্ল্যাটফর্মে আমার কাজ করা হয়নি। তবে আমি সব সময় চেষ্টা করি অভিনয়টা ঠিকঠাক করার। অসুস্থ ভিউ প্রতিযোগিতায় কখনো নামিনি। সব সময় চিন্তা করেছি কাজের মান যেন নষ্ট না হয়। তাই ভালো গল্প ও অর্থবহ কনটেন্টে কাজ করার চেষ্টা করেছি। ভালো কাজের জন্য যেকোনো ঝুঁকি বা চ্যালেঞ্জ নিতে আমি সবসময় প্রস্তুত। এর আগে আপনাররা ‘খোয়াবনামা’ দেখেছেন। এই গল্পটার জন্য প্রচুর পরিশ্রম করেছি, চ্যালেঞ্জ নিয়ে ভয়কে জয় করতে হয়েছে। ফলে দর্শকের অপূর্ণ ভালোবাসা পেয়েছি। এভাবেই কাজ করে যেতে চাই।
আগে একটা নাটক একদিনে শেষ করা হতো, এখন পরিবর্তনটা কেমন?
হ্যাঁ, এমনও দিন গেছে একদিনে আমি দুটি নাটকের শুটিংও শেষ করেছি। কিন্তু এখন বিষয়টা পাল্টে গেছে। এখন একটি প্রজেক্ট শেষ করতে সময় লাগে। এটার কারণ হল- অভিনেতা, নির্মাতা ও প্রযোজক দর্শককে ভালোকিছু দিতে চাচ্ছে। ‘ফার্স্ট লাভ’-এর কথাই যদি ধরি, আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে ৬ মাস আগে। এছাড়া রিহার্সেল করেছি ৬ দিনের বেশি। এরপর শুটিংয়ে নেমেছি। শেষ করতে আমাদের সময় লেগেছে প্রায় ১০ দিন। এতে খরচ বাড়লেও কাজটা ভালো হয়। সময় নিয়ে কাজ করলে কাজের কোয়ালিটি ভালো থাকে।
টিভি নাটক ও ওয়েব কনটেন্টের মধ্যে কাজের অভিজ্ঞতার পার্থক্য?
টিভি নাটকে কাজের সময়সীমা কম থাকে, তাই দ্রুত শেষ করতে হয়। কিন্তু ওয়েব সিরিজে চরিত্র গড়ে তোলার জন্য সময় ও সুযোগ বেশি থাকে। ফলে চরিত্রে গভীরতা আনার সুযোগ মেলে।
পরিণত ও ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয়ের পরিকল্পনা কি ব্যক্তিগত প্রচেষ্টা?
হ্যাঁ, আমি সচেতনভাবেই চেষ্টা করছি একই ধরনের চরিত্রে আটকে না থাকতে। প্রতিটি চরিত্রে নতুন কিছু শেখার সুযোগ থাকে। তাই ভিন্নতা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আসলে যেমন গল্প আমি করতে চাই তেমন গল্পই তো পছন্দ করি। এটা বজায় রাখব।
দীর্ঘ দুই বছরের বেশি সময় বিরতি নিয়ে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর পঞ্চম মৌসুমে ফেরার কারণ?
দর্শকের ভালোবাসাই আমাকে (নেহাল) ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকে ফেরত আনতে বাধ্য করেছে। যারা নেহালকে ভুলেনি সবাইকে ধন্যবাদ। আমি নিজেও অপেক্ষা করেছিলাম ফেরার জন্য। এমনভাবেই ফিরতে চেয়েছিলাম।
নাটক, ওয়েবের পর আপনার সিনেমায় জার্নি কবে শুরু হচ্ছে…
কয়েক বছর হল আমি বহুবার এই প্রশ্নের মুখে পড়েছি। এখন কেমন জানি মনে হয়, সিনেমা আমাকে ডাকছে। একবছর আগেও আমি বলেছি, সিনেমার জন্য আমি প্রস্তুত নই। কিন্তু এখন আমি সিনেমার জন্য মানসিকভাবে পুরোপুরি প্রস্তুত। এখন যদি কেউ পরিকালক-প্রযোজক আমাকে সিনেমার জন্য ভাবেন তাহলে করা হবে, না হলে না। এটা এখন নির্ভর করছে তাদের ওপর।
Posted ৩:১৫ পিএম | সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।