রবিবার ৩১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

মন্দার কবলে শিল্প খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   411 বার পঠিত

মন্দার কবলে শিল্প খাত

বিগত সরকারের আমলে ব্যাংক খাতে নজিরবিহীন লুটপাটের ফলে ব্যাংকগুলো এখনো তারল্য সংকটে ভুগছে, যার জের টানতে হচ্ছে শিল্প খাতকেও। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রতিবেদনের বরাতে শুক্রবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-গত অর্থবছরেও শিল্প খাত বিকাশের মৌলিক উপকরণ শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি কমেছে। পাশাপাশি এলসি খোলার হারও কমেছে। ফলে আগামী কয়েক মাস শিল্পের যন্ত্রপাতির আমদানি কম হবে। অবশ্য শিল্পের কাঁচামাল আমদানি বাড়লেও এর বেশির ভাগই বেড়েছে রপ্তানিমুখী শিল্পের ক্ষেত্রে। তবে রপ্তানির বাইরে অন্য শিল্পের কাঁচামাল আমদানি না বেড়ে বরং কমেছে।

বৈশ্বিক করোনা মহামারি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি তো আছেই, গেল বছর দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও অস্থিরতার কারণে উদ্যোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে। এ কারণে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমছে। ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের কারণে বেসরকারি খাতের চাহিদা অনুযায়ী ঋণের জোগান দিতে পারছে না। এছাড়া টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণের মাধ্যমে ঋণের সুদের হার বাড়ানো হয়েছে, বাজারে টাকার প্রবাহ কমানো হয়েছে। মুদ্রানীতির এ ধারা চলতি অর্থবছরেও অব্যাহত রয়েছে। ফলে সুদের হার আগে যেখানে ছিল ৮ থেকে ৯ শতাংশ, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২ থেকে ১৮ শতাংশে। এসব কারণে শিল্প খাতের মন্দা কাটছে না।

উল্লেখ্য, যন্ত্রপাতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমদানি হয় গার্মেন্ট, বস্ত্র ও ওষুধশিল্পে। মোট যন্ত্রপাতি আমদানির ৬০ শতাংশই এই তিন খাতের। তবে এর মধ্যে শুধু গার্মেন্ট শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানি ও এলসি খোলা বেড়েছে। এদিকে শিল্পের উৎপাদনের প্রবৃদ্ধির হারও প্রত্যাশিত হারে বাড়ছে না। বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমার কারণে শিল্প খাতেও ঋণের জোগান কমেছে। পাশাপাশি ঋণ আদায়ও কম হচ্ছে।

আর্থিক পরিস্থিতির কারণেই যে শুধু শিল্প খাতের বিকাশ থমকে গেছে, তা নয়। আমরা দেখছি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার কারণেও এ খাত ক্রমেই খাদের কিনারায় যাচ্ছে। আর্থিক ও জ্বালানি খাতে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, আশু তার সমাধান হলেও শিল্পের এ নাজুক পরিস্থিতি কিন্তু সহসা কাটবে না। এ জন্য সময়ের প্রয়োজন হবে। সে পর্যন্ত শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হবে, শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা দিয়ে রক্ষা করতে হবে। এছাড়া বিশ্ব দরবারে দেশের সুনাম ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তো রয়েছেই। নানা সংকটে নিমজ্জিত শিল্প খাতকে রক্ষায় তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। ভুলে গেলে চলবে না, শিল্প খাতের এমন সংকটে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী দুষ্টচক্র যেমন তৃপ্তি পাবে, তেমনি পর্যায়ক্রমে পরনির্ভরশীল হয়ে এ খাত ধ্বংস হলে সরকারও হারাবে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব। এ শিল্পের ক্ষতি হলে শুধু দেশের অর্থনীতিতেই যে বিরূপ প্রভাব পড়বে তা নয়; সেই সঙ্গে হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে যাবে। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব বৃদ্ধি পেলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কাও রয়েছে। সরকার বিষয়গুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে শিল্প খাতকে বাঁচাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে, এটাই প্রত্যাশা।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৩০ পিএম | শনিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

test
(285 বার পঠিত)
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।