বুধবার ২১শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

হাজার বন্দিসহ ডুবেছিল যে জাহাজটি, ৮০ বছর পর সন্ধান লাভ

  |   রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   76 বার পঠিত

হাজার বন্দিসহ ডুবেছিল যে জাহাজটি, ৮০ বছর পর সন্ধান লাভ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে মার্কিন রণতরির ছোড়া টর্পেডোয় ডুবে গিয়েছিল একটি জাপানি ট্রান্সপোর্ট জাহাজ। এতে জাহাজে থাকা প্রায় এক হাজার অস্ট্রেলীয় বন্দি মারা গিয়েছিল ডুবে গিয়ে। ঘটনার আট দশক পর মন্টেভিডিও মারু নামের সেই জাহাজের ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার হলো ফিলিপাইনের গভীর সমুদ্রে। অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক গবেষণা সংস্থা সাইলেন্ট ওয়ার্ল্ড ফাউন্ডেশনের আয়োজনে ফুগ্রো নামের একটি ডাচ সমুদ্র জরিপকারী প্রতিষ্ঠান জাহাজটির ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছে আজ শনিবার।

বিবিসির খবরে জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী ইউএসএস স্টারজিওন জাপানি জাহাজটিতে টর্পেডো ছোড়ে। তারা জানত না যে জাহাজে করে পাপুয়া নিউগিনি থেকে আটক করা বন্দিদের স্থানান্তর করা হচ্ছিল। টর্পেডোর আঘাতের ১১ মিনিটের মধ্যেই ওটা ডুবে গিয়েছিল। রেজিস্ট্রার থেকে জানা যায়, ওই ঘটনায় মারা গিয়েছিল ৯৭৯ অস্ট্রেলীয়, ৩৩ জন নরওয়ের সেনা ও ২০ জন জাপানি গার্ড।

অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক বিপর্যয়ের ইতিহাসে এটাকেই সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি বিবেচনা করা হয়। তাই আধুনিক এ যুগে এসে ওই জাহাজটির ধ্বংসাবশেষ খুঁজে বের করা একটি মানবিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ‘দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর মন্টেভিডিও মারুতে হারিয়ে যাওয়া আত্মাদের চিরনিদ্রার স্থানটি পাওয়া গেল। আমরা আশা করি, আজকের এই খবরে যারা দীর্ঘদিন তাদের প্রিয়জনদের জন্য এ আশা জাগিয়ে রেখেছিলেন, তারা এবার সান্ত্বনা পাবেন।’
গত ৬ এপ্রিল ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপের ১১০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে দক্ষিণ চীন সাগরে অনুসন্ধান শুরু হয়।

১২ দিন পর সমুদ্রের প্রায় ৪ কিলোমিটার গভীরে স্বয়ংক্রিয় যান পাঠিয়ে একটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষের দেখা পায় সাইলেন্টওয়ার্ল্ডের কর্মীরা। পরীক্ষার পর এটা মন্টেভিডিও মারুর ধ্বংসাবশেষ বলে নিশ্চিত হন বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধারকারী জাহাজের বিশেষজ্ঞ সদস্য ক্যাপ্টেন রজার টার্নার বিবিসিকে জানিয়েছেন, ধ্বংসাবশেষের অনেকগুলো অংশের সঙ্গে ডুবে যাওয়া জাহাজের নকশার মিল পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এর পেছনে বহু বছর ব্যয় হয়েছে। তারচেয়েও বড় কথা, ডুবে যাওয়া মানুষগুলোর হাজারো উত্তরসুরী এখনো আছেন। তাদের মধ্যে দুজন আমাদের সঙ্গে ছিলেন বেশ খানিকটা সময়। ’ তিনি আরো জানান, স্বয়ংক্রিয় যানটি ধ্বংসাবশেষের ৪৫ মিটারের মধ্যে ছিল। জাহাজটিকে তুলে আনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান তিনি। যেভাবে এতদিন ছিল, সেই সলিল সমাধিতেই স্থায়ী ঠিকানা হবে মন্টেভিডিও মারুর।

উল্লেখ্য, মন্টেভিডিও মারুকে পাওয়া গেছে সমুদ্রের ১৩১২৩ ফুট গভীরে। আর টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গিয়েছিল ১৩ হাজার ফুট নিচে। সাগরের গভীরে পাওয়া ধ্বংসাবশেষের তালিকায় রেকর্ড বুকে নাম আছে একটি মার্কিন রণতরীর। ফিলিপাইনের সমুদ্রসীমায় ওটা পাওয়া গিয়েছিল ২২ হাজার ফুটেরও বেশি গভীরে।

Facebook Comments Box

Posted ৩:৩৮ এএম | রবিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৩

|

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।