মঙ্গলবার ১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

যে শহরে ডলারের জন্ম

বিশ্ব ডেস্ক   |   শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   188 বার পঠিত

যে শহরে ডলারের জন্ম

মার্কিন ডলার বিশ্বের সর্বাধিক ব্যবহৃত মুদ্রা। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের মতে, পৃথিবীর আর্থিক রিজার্ভের ৫৮ শতাংশ মার্কিন ডলারে সংরক্ষিত। ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইউরো, জাপানের ইয়েন ও চীনের রেনমিনবির চেয়ে অনেক বেশি দেশে এটি প্রচলিত। ৩১টি দেশ এটিকে তাদের সরকারি মুদ্রা হিসেবে গ্রহণ করেছে, অথবা এর নামে তাদের মুদ্রার নামকরণ করেছে। ৬৫টি দেশ তাদের মুদ্রার মূল্য এর সঙ্গে সামঞ্জস্য করেছে। এটি এখন উত্তর কোরিয়া, সাইবেরিয়া ও উত্তর মেরুর গবেষণা কেন্দ্রগুলোর মতো পৃথিবীর দূরতম স্থানেও গ্রহণযোগ্য।

মজার বিষয় হলো, এ ডলারের জন্ম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অনেক দূরে ইউরোপের ছোট্ট শহর জাচিমভে। ছবির মতো সুন্দর প্রত্যন্ত ওই শহরে যাওয়া যায় কেবল একটি সড়ক ধরেই। চেক রিপাবলিকের ছোট্ট শহর এটি। বোহেমিয়ার ক্রুশনে হোরি পর্বতমালার জঙ্গলের গভীরে এর অবস্থান। পাহাড়ের ঢালে সুদৃশ্য ঘর। প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন না করেই সেখানে গড়ে উঠেছে বসতি। অনেক ভবন নতুন হলেও কোনো কোনোটি সময়ের ক্ষত ধারণ করে আছে বুকে। এই জাচিমভেই ডলারের উৎপত্তি হয় ৫০০ বছর আগে ১৫২০ সালে।

পরিহাসের বিষয়, ডলারের সেই জন্মস্থানেই এখন ডলার চলে না। জাচিমভে জর্জ ওয়াশিংটনের ছবি সংবলিত ডলারের আদৌ কোনো মূল্য নেই। ষোড়শ শতকের জাচিমভ রয়্যাল মিন্ট হাউস জাদুঘরের পরিচালকের হাতে এ ডলার দিতে গেলে তিনি ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। দুই সহকর্মীকে ডেকে বলেন, ‘আমি অনেক দিন ধরে এর একটিও দেখিনি। জাচিমভে, আমরা কেবল কোরুনা, ইউরো বা কখনও কখনও রুশ মুদ্রা রুবেল গ্রহণ করি। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আপনিই প্রথম মার্কিনি যিনি এখানে এসেছেন।’

জার্মান সীমান্তের কাছে চেক রিপাবলিকের এ শহরে বাসিন্দা মাত্র দুই হাজার ৩০০ জন। বলা হয়, এ শহরটি ঘুমায় না। অনেকে হয়তো এর নাম শোনেননি। কিন্তু এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের অংশ। আর যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলনের অনেক আগে সেখানেই জন্ম পুরো বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো মুদ্রা ডলারের। এখন শহরটিকে ব্যাংকের চেয়ে বিনোদন কেন্দ্রই বেশি।

প্রকৃতপক্ষে, জাচিমভের প্রধান আকর্ষণ এর প্রকৃতি। পরিচ্ছন্ন ছোট্ট সড়ক চলে গেছে পাহাড়ের গাঁ ঘেষে। শহরে এমন সব ভবন আছে, যেগুলো ইতিহাসের সাক্ষী। আছে ষোড়শ শতাব্দীর দুর্গও। তবে আধুনিক স্থাপনারও দেখা মেলে। রয়েছে বিলাসবহুল ডে স্পা সেন্টার থেকে শুরু করে বিনোদন কেন্দ্র।

পার্বত্যাঞ্চল উন্নয়ন বিষয় অলাভজনক সংস্থা ক্রুশনে হোরি এরজগেবার্গের পরিচালক মাইকেল আরবান বলেন, জাদুঘরের নিচতলায় গিয়ে দেখা মিলল প্রাচীন মুদ্রার। এগুলোই সেই ডলার। আরবান বলেন, বিশ্বের আর কোনো খনির শহর জাচিমভের মতো এত প্রভাবশালী ছিল না। কিন্তু আমরা ইতিহাস ভুলে গেছি।

জাচিমভের অস্তিত্বের অনেক আগেই ওই এলাকার পাহাড় শাসন করত নেকড়ে ও ভালুকরা। ১৫১৬ সালে যখন বিপুল পরিমাণে রুপা আবিষ্কৃত হয়, তখন স্থানীয় উদ্যোক্তা কাউন্ট হিয়েরোনিমাস শ্লিক সন্ত যিশুর দাদার নামানুসারে অঞ্চলটির নামকরণ করেন জোয়াকিমস্থাল (জোয়াকিমের উপত্যকা)। স্থানীয় ইতিহাসবিদ জারোস্লাভ ওচেক বলেন, তখন ইউরোপ ছিল নগর-রাজ্যের মহাদেশ। স্থানীয় শাসকরা ক্ষমতার জন্য প্রতিযোগিতা করছিলেন। তাদের মধ্যে কোনো মানক মুদ্রা ইউনিট না থাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে কার্যকর উপায় ছিল নিজস্ব মুদ্রা তৈরি। হিয়েরোনিমাস শ্লিকই তা করেছিলেন। ১৫২০ সালের ৯ জানুয়ারি শাসক বোহেমিয়ান ডায়েট শ্লিককে রৌপ্য মুদ্রা তৈরির অনুমতি দেন।

Facebook Comments Box

Posted ৫:১১ পিএম | শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

|

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।