নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৯ জুলাই ২০২৫ | প্রিন্ট | 300 বার পঠিত

আগামী ১৯ জুলাই রাজধানীতে ‘জাতীয় সমাবেশ’ করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এ উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। ওইদিন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করছেন। ৭ দফা দাবিতে সমাবেশে লাখো নেতাকর্মী ও সমর্থক হাজির করার টার্গেট নিয়েছে জামায়াত। ইতোমধ্যে বিএনপিসহ বাম-ডান-ইসলামপন্থি ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আগামী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে সর্বোচ্চ শক্তি প্রদর্শন করবে জামায়াত। সে লক্ষ্যে ইসলামি দলগুলোকে পাশে চায় দলটি। একইসঙ্গে ইসলামিক ভোটগুলোকে একবাক্সে আনার প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন নেতারা। এছাড়া অমুসলিমদের ভোটকেও গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। বিগত সময়ে জামায়াত কোণঠাসা থাকলেও গণ-অভ্যুত্থানের পর স্বতঃস্ফূর্ত কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এরইমধ্যে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লাসহ নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনও ফিরে পেয়েছে। এখন আগামী নির্বাচনে জামায়াতের শক্তি প্রদর্শনের পালা। এই সমাবেশ থেকে জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দলের অবস্থান, দৃশ্যমান বিচার ও প্রয়োজনীয় সংস্কার এবং নিবন্ধিত- অনিবন্ধিত ইসলামি দলগুলোকে এক কাতারে আনাসহ গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর এ সমাবেশ হবে জামায়াতের সবচেয়ে বড় সমাবেশ। এ কর্মসূচি ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে চলছে ব্যাপক আলোচনা। কেউ কেউ এটিকে নির্বাচনপূর্ব একটি কৌশলগত অবস্থান হিসেবেও দেখছেন। যেখানে একটি বৃহৎ জনসমর্থনের ভিত্তিতে প্রভাব তৈরির চেষ্টা করছে দলটি। যদিও জামায়াত বলছে, ৭ দফার দাবিতে শুধু তাদের দলের নয়, বরং এ সমাবেশ হবে দেশের সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ন্যায্যতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। নেতারা জানান, জাতীয় সমাবেশ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ। ব্যাপক জনসমাগম ও শোডাউনের মধ্য দিয়েই দেশবাসীকে নির্বাচনি বার্তা দেওয়া হবে।
৭ দফা দাবির মধ্যে আছে-সব গণহত্যার বিচার; প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার; জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন; জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পুনর্বাসন; পিআর পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান; প্রবাসীদের ভোট প্রদানের ব্যবস্থা এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ।
জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, ‘সাত দফা দাবি সামনে রেখে আমাদের জাতীয় সমাবেশ। ১৯ জুলাই দুপুর ২টায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে সমাবেশের কার্যক্রম। ইতোমধ্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে আহ্বায়ক করে একটা বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি উপকমিটিও হয়েছে। সবগুলো কমিটি প্রস্তুতি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। এখন পর্যন্ত (৮ জুলাই) বাস্তবায়ন কমিটি ৫টি মিটিং করেছে। সর্বোচ্চ সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করার জন্য কাজ চলছে। জাতীয় সমাবেশ মূলত নির্বাচনকে ঘিরেই। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারাই ছিলেন তাদেরকে সমাবেশে দাওয়াত দেওয়া হবে।’
Posted ৪:১৭ এএম | বুধবার, ০৯ জুলাই ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।