নিজস্ব প্রতিবেদক | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 14 বার পঠিত

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী ভোটারদের ব্যাপক অংশগ্রহণের আশা প্রকাশ করলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা কম হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সোমবার নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে আয়োজিত এক পর্যালোচনা কর্মশালায় তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান। নির্বাচন কমিশনের ইলেক্টোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের (ইটিআই) সম্মেলন কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
সিইসি বলেন, ‘আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী ভোটারদের বিপুল অংশগ্রহণ হবে। তবে নারী প্রার্থী কম হবে।’ সামাজিক সংস্কৃতি ও প্রচলিত বিশ্বাসকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘পরিবর্তন মানুষ সহজে চায় না। পরিবর্তন করতে গেলে আমরা ১০ বার ভাবি। এজন্য সচেতনতা প্রয়োজন, বড় ক্যাম্পেইন করতে হবে। জনগোষ্ঠীর অর্ধেককে বাইরে রেখে আমরা গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে পারব না। বিশ্বাসযোগ্য গণতন্ত্রের জন্য নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে।’
নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে ব্যাপক সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও তথ্যনির্ভর নীতি প্রণয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি বড় পরিসরে প্রচারাভিযান চালাতে হবে।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন কমিশনের জন্য প্রস্তুত করা খসড়া ‘জেন্ডার সমতা কৌশল’ নিয়ে আলোচনা এবং তা চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া। নির্বাচনি ব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালায় নারীসহ সব লিঙ্গের মানুষের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জাতিসংঘ বাংলাদেশ ও সংস্থাটির ‘ইউএন ইলেক্টোরাল প্রজেক্ট ব্যালট অ্যান্ড ড্রিপ’-এর সহায়তায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।
জাতিসংঘের ইউএন উইমেনের কান্ট্রি প্রতিনিধি গীতাঞ্জলি সিং বলেন, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত করতে হলে তাদের আর্থিক, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বাধা দূর করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নারীদের যুক্ত হওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে। স্থানীয় সরকারে নারীদের জন্য সংরক্ষিত পদ রয়েছে। সেখানে ভালো করতে পারলে জাতীয় রাজনীতিতেও ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি হয়।
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে গত জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী কম ছিল। দলীয় ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে প্রার্থীর সংখ্যাও বাড়বে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের বিরুদ্ধে ছড়ানো ভুয়া তথ্য ও অপতথ্য বন্ধে উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করতে নারী ভোটারদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে। পাশাপাশি নারী ভোটার ও প্রার্থীদের হয়রানি বন্ধ এবং নারী প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
নির্বাচন কমিশনার তাহমিদা আহমেদ বলেন, দেশে নারীর অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক আইন থাকলেও বাস্তবে নিরাপত্তা ও সুশাসনের ঘাটতি রয়েছে। নারীদের বৃহত্তর পরিসরে নির্বাচনি প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করতে হলে সমস্যার গভীরে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘পাঁচ তারকা হোটেলে বসে কোনো কৌশল নির্ধারণ করলে ফল পাওয়া যাবে না। সমস্যার গভীরে যেতে হবে, গ্রামে যেতে হবে।’
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নারীদের সুরক্ষায় দেশে শক্ত আইন রয়েছে। তবে নারীর অধিকার সুরক্ষায় শুধু আইন যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি সামাজিক পরিবর্তনও প্রয়োজন।
Posted ৭:৫৫ এএম | সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।