ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির, লক্ষ্য বাব আল-মানদেব

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   2 বার পঠিত

হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদির, লক্ষ্য বাব আল-মানদেব

ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধারে একাধিক পরিকল্পনা বিবেচনা করছে রিয়াদ।

আঞ্চলিক ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে। ইয়েমেনের মাটিতে সৌদি আরবের তত্ত্বাবধানে থাকা স্থানীয় বাহিনী স্থল অভিযান পরিচালনা করবে। তাদের সহায়তায় হামলা চালাবে সৌদি বিমানবাহিনী।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদির মিত্ররা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সৌদি অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। কয়েকটি আঞ্চলিক ও ইউরোপীয় দেশও রিয়াদকে প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে।

অভিযানের দুটি পরিকল্পনা

উপসাগরীয় ও ইয়েমেনি কর্মকর্তাদের মতে, সম্ভাব্য অভিযানের জন্য দুটি পরিকল্পনা বিবেচনা করছে সৌদি আরব।

প্রথম পরিকল্পনায় বাব আল-মানদেব প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় সীমিত অভিযান চালানোর কথা রয়েছে। দ্বিতীয় পরিকল্পনাটি আরও বিস্তৃত। এতে ইয়েমেনের আল-বাইদা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশে একই সময়ে সমন্বিত হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।

অভিযানের পরিসর অনুযায়ী এক লাখের বেশি ইয়েমেনি যোদ্ধাকে মোতায়েন করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তবে অভিযান কবে শুরু হবে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত ছয় ব্যক্তির দেওয়া সম্ভাব্য সময়সীমা আগামী এক সপ্তাহ থেকে শুরু করে নভেম্বরের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত বিস্তৃত।

এ বিষয়ে সৌদি ও ইয়েমেন সরকার, হুতি গোষ্ঠী এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রদের মন্তব্য চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

কেন গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব

বাব আল-মানদেব প্রণালি লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ। ভূমধ্যসাগর ও এশিয়ার মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এটি।

ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লোহিত সাগর ও বাব আল-মানদেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি হুতিরা উপকূল ধরে দ্রুত অগ্রসর হয়ে বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে সৌদি আরব। গত মাসে হুতিদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করাই সম্ভাব্য সৌদি অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

এক পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় এক কর্মকর্তার মতে, বাব আল-মানদেব হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে তাদের সঙ্গে নতুন করে ইয়েমেন শান্তি আলোচনা শুরু করা কঠিন বলে মনে করছে রিয়াদ। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কৌশলগত প্রভাব ও চাপ প্রয়োগের সুযোগ বাড়িয়েছে।

২০১৫ সালের যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি চায় না রিয়াদ

২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে একটি আরব জোটের নেতৃত্ব দেয় রিয়াদ। ওই সময় হুতিরা রাজধানী সানা দখল করে সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল।

২০২২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে চলতি বছর ইরানকে ঘিরে সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। হুতিরা সৌদি আরবের জাহাজ ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।

সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও সৌদি আরব বিশেষজ্ঞ মাইকেল র‌্যাটনি মনে করেন, এবার সৌদি অভিযান তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। ২০১৫ সালের মতো ব্যাপকভাবে হুতিদের পরাজিত করার চেষ্টা এবার নাও করা হতে পারে।

তার মতে, হুতিদের পুরোপুরি পরাজিত করার পাশাপাশি বাব আল-মানদেবের উপকূলীয় এলাকায় আগের পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনাও সৌদি আরবের অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উপকূলীয় এলাকা পুনর্দখল করে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করতে সীমিত অভিযান চালানো হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সহায়তা

সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্র। এক পশ্চিমা কূটনীতিক জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন সৌদি বিমান অভিযানে সহায়তার জন্য সামরিক উপদেষ্টা এবং লক্ষ্য নির্ধারণসংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে।

তবে এ সহায়তার পরিধি সীমিত হতে পারে। রয়টার্সের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সৌদি আরবের কার্যত শাসক যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান সরাসরি বিমান হামলাসহ সামরিক সহায়তা চাইলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাতে সাড়া দেননি।

অন্যদিকে, গত মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি করা তুরস্ক ও পাকিস্তানও রিয়াদকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানি ও আঞ্চলিক কর্মকর্তারা।

এক পাকিস্তানি সরকারি কর্মকর্তা জানান, গত মাসে চারটি কার্গো বিমানে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, হালকা কামান, ড্রোন ও ড্রোন প্রতিরোধী সরঞ্জাম ইয়েমেনের সৌদি-সমর্থিত সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এডেন বন্দরে পাঠিয়েছে পাকিস্তান।

পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা, এক উপসাগরীয় কর্মকর্তা ও এক পশ্চিমা কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি সামরিক উপদেষ্টারাও সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে ইয়েমেনে অবস্থান করছেন এবং স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তা করছেন। সৌদি আরবের আগে কেনা তুরস্কের তৈরি ড্রোনও ইয়েমেনের আকাশে মোতায়েন করা হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।

ইয়েমেনে সেনা পাঠাবে না পাকিস্তান

সম্ভাব্য অভিযানে সৌদি আরবের বড় উদ্বেগ হলো—হুতিদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে দেশটির তেল স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কীভাবে সুরক্ষিত রাখা হবে।

আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, এ বিষয়ে কয়েকটি মিত্র দেশের কাছে অতিরিক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা চেয়েছে রিয়াদ।

পাকিস্তানের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সৌদি আরবের স্থলসীমান্ত সুরক্ষা এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পাকিস্তান ৩০ হাজার থেকে ৪০ হাজার সেনা মোতায়েন করেছে। তবে ইয়েমেনে সরাসরি যুদ্ধ করার জন্য পাকিস্তানি সেনা পাঠানোর কোনো সিদ্ধান্ত ইসলামাবাদ নেয়নি।

এদিকে, লোহিত সাগরের বন্দরনগরী ইয়ানবু সুরক্ষায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা ও সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স।

অভিযানের সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন

সম্ভাব্য স্থল অভিযান বাস্তবায়নে সৌদি আরবকে ইয়েমেনের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন ও পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয়হীন সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওপর নির্ভর করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি ও বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য এসব বাহিনী কতটা প্রস্তুত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

ইয়েমেনবিষয়ক বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলবাশা বলেন, অনেক হুতিবিরোধী বাহিনী এখনও দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের জন্য যথেষ্ট সংগঠিত বা প্রস্তুত নয়। ফলে সুসংগঠিত হুতি বাহিনীকে পিছু হটাতে তাদের সক্ষমতা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

সৌদি রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলি শিহাবিও বলেছেন, সম্ভাব্য অভিযানের ফলাফল অনেকাংশে ইয়েমেনের স্থলবাহিনীগুলোর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করবে। এত দিন তাদের অগ্রাধিকার ছিল নিজেদের অবস্থান রক্ষা ও বিভিন্ন ফ্রন্ট স্থিতিশীল রাখা; এখন তারা আক্রমণাত্মক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইরান ও ইসরায়েলকে ঘিরে চলমান সংঘাত, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বাড়তে থাকা ঝুঁকির মধ্যে সৌদি আরবের সম্ভাব্য এই অভিযান ইয়েমেন সংঘাতকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের কেন্দ্র তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box

Posted ১২:২৯ পিএম | শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।