ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 6 বার পঠিত

লাতিন আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের চার দিন পরও ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান। সোমবারের ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২৬৫ জন নিহত ও ৩ হাজার ৪৯৪ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৪৯৬ জন।
বুধবার দেশটির প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়া এ তথ্য জানিয়ে বলেন, উদ্ধার অভিযান এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করেছে।
উদ্ধারকারীরা জানান, ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের উদ্ধারে প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই সময় পেরিয়ে গেলেও জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হয়ে যায় না।
ভূমিকম্পে ৯ হাজার ৫৫০টির বেশি বাড়িঘর ধ্বংস হয়েছে। কফি উৎপাদন অঞ্চলের কেন্দ্র পেরেইরায় ৮৩ জন এবং দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর কালিতে ৭৪ জন নিহত হয়েছেন।
পেরেইরায় ধসে পড়া একটি বেকারির ধ্বংসস্তূপে রাস্তার বিক্রেতা পাবলো লোয়াইজাকে উদ্ধারে অভিযান চলছে। বিশেষ সরঞ্জামে ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রাণের সম্ভাব্য সংকেত পাওয়ার পর তাঁর স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। উদ্ধারকারীদের ডাকে ভেতর থেকে সাড়া পাওয়ার কথাও জানিয়েছেন স্বজনেরা।
কালিতেও রাতভর উদ্ধার অভিযান চলছে। খালি হাতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর পাশাপাশি ক্রেন, প্রশিক্ষিত কুকুর ও বিশেষ সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শব্দ শনাক্ত করতে নির্দিষ্ট সময় পরপর পুরো এলাকা নীরব রাখা হচ্ছে।
কালির তোরেস দেল লিমোনা আবাসিক কমপ্লেক্সেও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপ সরাতে মানবশৃঙ্খল তৈরি করেছেন। সৈন্য, সরকারি কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও অভিযানে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হাসপাতাল, স্কুল, বাড়িঘর ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণে জরুরি তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েয়া। ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থাও ঘোষণা করেছেন তিনি।
দুর্গত এলাকায় পানি, খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে সাধারণ মানুষও সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন। রক্তদান কেন্দ্রগুলোর বাইরেও দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।
নতুন প্রেসিডেন্টের প্রথম বড় পরীক্ষা
মাত্র তিন দিন আগে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়া দে লা এসপ্রিয়েয়ার জন্য এই ভূমিকম্প বড় ধরনের প্রশাসনিক পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারি ব্যয় কমানো ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।
তাঁর সরকারের রাষ্ট্রীয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ইউনিটের অর্থায়ন কমানোর পরিকল্পনা ছিল। অথচ ভূমিকম্পের পর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ওই ইউনিটই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূমিকম্পটি নতুন সরকারের জন্য শুধু মানবিক বিপর্যয় নয়, প্রশাসনিক সক্ষমতা ও নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিরও কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এএফপি, রয়টার্স ও আল জাজিরা
Posted ১০:৫৪ এএম | বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।