ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে বিধিনিষেধ আনতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   14 বার পঠিত

জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে বিধিনিষেধ আনতে ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশ

সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (বার্থরাইট সিটিজেনশিপ) সীমিত করার লক্ষ্যে দুটি নতুন নির্বাহী আদেশে সই করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কয়েক সপ্তাহ আগেই দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সংবিধান অনুযায়ী জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার বহাল রেখে ট্রাম্পের আগের উদ্যোগকে আইনবহির্ভূত বলে রায় দিয়েছিল।

নতুন নির্বাহী আদেশ দুটি ট্রাম্পের আগের উদ্যোগের তুলনায় অপেক্ষাকৃত সীমিত পরিসরের। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় সব শিশুই স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেশটির নাগরিকত্ব পেয়ে থাকে।

এর একটি আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিদ্যমান ব্যতিক্রমের পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। বর্তমানে বিদেশি কূটনীতিক ও শত্রু বাহিনীর সদস্যদের সন্তানরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের আওতায় পড়ে না। নতুন প্রস্তাবে কথিত সন্ত্রাসী, নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিদের সন্তান এবং দেশটির নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুকেও এ সুবিধার বাইরে রাখার কথা বলা হয়েছে।

অন্য আদেশে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তানকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে গর্ভবতী নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতাকে ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বলা হয়।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সমালোচনা করেন। তিনি আদালতের সিদ্ধান্তকে ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক’ বলে মন্তব্য করেন এবং জানান, তার প্রশাসন এ বিষয়ে নতুন কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ জানুয়ারি দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দিনেই সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নতুন ব্যাখ্যা দিয়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প। এতে বলা হয়েছিল, অস্থায়ী ভিসাধারী বা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অভিবাসীদের সন্তানরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য হবে না।

তবে চলতি বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ট্রাম্পের ওই উদ্যোগ সংবিধানের নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নয় সদস্যের বেঞ্চের ছয় বিচারপতি ট্রাম্পের অবস্থানের বিপক্ষে মত দেন।

আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতে বলা হয়, কংগ্রেস যদি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সবার পরিবর্তে নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের সন্তানদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান করতে চাইত, তাহলে তা সংবিধানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকত।

অভিবাসন ইস্যুতে কঠোর অবস্থান ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মসূচির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে সুপ্রিম কোর্টের ওই রায় তার দ্বিতীয় মেয়াদের অন্যতম বড় আইনি ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ কিম্বারলি ওয়েহলের মতে, ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশগুলোও আদালতে টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। তার ধারণা, জনসমর্থন কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প হয়তো কট্টর সমর্থকদের আকৃষ্ট করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, ট্রাম্প কার্যত সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করছেন।

Facebook Comments Box

Posted ৬:২৮ এএম | শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।