মঙ্গলবার ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

শিক্ষার্থীরা গুপ্ত রাজনীতি চায় না: সরকারি দল

জাতীয় ডেস্ক   |   সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   3 বার পঠিত

শিক্ষার্থীরা গুপ্ত রাজনীতি চায় না: সরকারি দল

সরকারি দলের হুইপ রকিবুল ইসলাম বলেছেন, শিক্ষার্থীরা আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি দেখতে চায় না। তারা চায় প্রকাশ্যে সবকিছুই হবে। তিনি বলেন, যদি গুপ্তভাবে ‘মব ক্রিয়েট’ করে ক্যাম্পাসে অশান্তি সৃষ্টি করার পায়তারা শুরু হয়, সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য এইটা কখনোই সুখকর হবে না। ভালো কিছু বয়ে আনবে না।

আজ সোমবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ছাত্রছাত্রীরা অনেক সময় নষ্ট করে ফেলেছেন, তারা আর চায় না ক্যাম্পাস অশান্ত হোক। তারা চায় ক্যাম্পাস শান্ত থাকুক। আর কোনো গুপ্ত রাজনীতি তারা দেখতে চায় না। তারা চায় প্রকাশ্যে সবকিছুই হবে। উন্মুক্তভাবে রাজনীতির চর্চা হবে এবং যদি রাজনীতির কোনো আলোচনা করতে হয়, সবার মতামতের ভিত্তিতেই একটা রূপরেখা তৈরি করা যেতে পারে।’

জুলাই শহীদ নিয়ে বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত
আলোচনায় অংশ নিয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি) বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররা সামনে এসেছিল। কিন্তু সেই আন্দোলনে সব রাজনৈতিক দলগুলো সমর্থন করেছিল। ৫ জুলাই আমরা সমর্থন ঘোষণা করেছিলাম, ৬ জুলাই বিএনপি সমর্থন ঘোষণা করে। একটা সময়, যখন ফ্যাসিবাদীরা বলল-এটা বিরোধী দলের আন্দোলন, বিরোধী দল হাইজ্যাক করছে, তখন কৌশলগত কারণে রাজনৈতিক দলগুলো, আমি ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষ্য দিতে পারি, বিএনপির মহাসচিবের সঙ্গে এ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, আমাদেরকে এমনভাবে অবস্থান নিতে হবে যাতে করে ফ্যাসিবাদীরা পুরানো কৌশলে আন্দোলন ধ্বংস করতে না পারে। তারপরও আমরা দেখেছি কিভাবে তারা নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে পর্যন্ত.. রীতিমতো ব্রাশ ফায়ার করে মানুষ মেরেছে। জুলাই শহীদ নিয়ে বিতর্ক অনাকাঙ্ক্ষিত বলেও জানান জোনায়েদ সাকি।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণসংহতি আন্দোলন ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই সংবিধান সংস্কার পরিষদের প্রস্তাব জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে দিয়েছিল বলেও জানান দলটির তৎকালীন প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, আমরা কখনোই বলেনি, আমরা যা বলেছি তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরা বলেছিলাম ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া রূপান্তর নয়।

‘’হাসিনা বা আওয়ামী লীগ নয়, সমস্যা ফ্যাসিবাদ’
এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেছেন, অবশ্যই রাষ্ট্রকাঠামোর ঘুণে ধরা ব্যবস্থা সংস্কার করে গণভোটের যে রায় সেটাকে বাস্তবায়ন করতে হবে।

জুলাই অভ্যুত্থানের কথা তুলে ধরে আখতার হোসেন বলেন, ‘আমরা এমন একটা বাংলাদেশ চেয়েছিলাম যে বাংলাদেশে গণতন্ত্রের আবহ থাকবে, যে বাংলাদেশে জবাবদিহিতা থাকবে, যে বাংলাদেশে জনগণের পক্ষে কাজ করা হবে, সেই বাংলাদেশটা আমরা যদি অতীতের দিকে তাকিয়ে দেখি, সেই বাংলাদেশ আমরা পাই নাই।’

আখতার হোসেন বলেন, দেশকে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ করায়ত্ব করে রেখেছিল। তখন তাঁরা সবাই মিলে রাষ্ট্র সংস্কারের কথা বলেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, শুধু হাসিনা বা আওয়ামী লীগের সমস্যা নয়, বাংলাদেশের সংবিধানের মধ্যে ফ্যাসিবাদের যে উপাদানগুলো আছে সেগুলো পরিবর্তন করা তাঁদের লক্ষ্য। এজন্য সংস্কার প্রস্তাবগুলো নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই সংস্কারের প্রস্তাবনাগুলো এখন আধারে পড়ে গেছে।

ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে আখতার হোসেন বলেন, বাংলাদেশ এমন আঞ্চলিক স্থানে আছে যেখানে দেশ অনেকগুলো বাস্তবতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বাংলাদেশে শরণার্থীদের ঢল নামানো হতে পারে, সে ধরনের চক্রান্ত আশেপাশে চলছে। দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ওপর পরাধীনতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

‘ফ্যাসিস্টের দোসর ধন্যবাদ জানাতে জনগণ ভোট দেয়নি’
কোনো ফ্যাসিস্ট বা ফ্যাসিস্টের দোসরকে ধন্যবাদ দেওয়ার জন্য জনগণ ভোট দেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনা-৫ (জামায়াত) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা। তিনি বলেছেন, যদি ফ্যাসিস্ট প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদ দিতে পারি, তাহলে শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ দিতে অসুবিধা কোথায়?

বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করে মাছুম মোস্তফা বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, যদি আজকে সেই আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই সংসদে থাকতেন, তিনি চুপ্পু সাহেবকে এই সংসদে কিছুতেই ধন্যবাদ দিতেন না।’

মাছুম মোস্তফা বলেন, আজকে জুলাই সনদ নিয়ে বলা হচ্ছে, জুলাই সনদের প্রতিটা বাক্য, প্রতিটা অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে। দেশের মানুষ মনে করে, এর মধ্যে একটি শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। জুলাই সনদে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে তার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে কেটে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আর গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে কেটে ফেলে জুলাই বাস্তবায়ন করলে জনগণের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন হবে না।

মাছুম মোস্তফা বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়া রহমান যেভাবে সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে সিপাহী জনতার কাতারে দাঁড়িয়েছিলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী আধিপত্যবাদী গোষ্ঠীর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে সেই গণভোটের পক্ষে এসে দাঁড়াবেন।’

‘রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড হয় শক্ত, নয় বাঁকা হয়ে গেছে’
রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড হয় শক্ত, না হয় বাঁকা হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সংসদ সদস্য (নড়াইল-২) আতাউর রহমান। এ সময় তিনি রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ জানানোর কারণে সরকারি দলের কঠোর সমালোচনা করেন।

আতাউর রহমান বলেন, রাষ্ট্রপতির দেওয়া বক্তব্যে অন্তর থেকে কোনো ভালোবাসা তৈরি হচ্ছে না। কারণ এই রাষ্ট্রপতিই বিগত সময়ে ফ্যাসিজমের সকল কার্যক্রমকে বৈধতা দিয়েছেন। যে রাষ্ট্রপতি তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারের অন্ধকারে রেখে হত্যা করাটাকে বৈধ করেছিলেন- সেই রাষ্ট্রপতিকে ধন্যবাদ দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে বেগম জিয়ার আত্মা চরমভাবে কষ্ট পাবে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির ভাষণ শোনার পরে তাঁর মনে হয়েছে- হয় রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড অনেক শক্ত হয়েছে। না হলে, রাষ্ট্রপতির মেরুদণ্ড কেউ বাঁকা করে দিয়েছেন।

গণভোটের রায়কে অগ্রাহ্য করা নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তোলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য সৈয়দ জয়নুল আবদীন। তিনি বলেন, ‘বিএনপির সংসদ সদস্যরা শুধু বলছেন ৫১ পার্সেন্ট, ৫১ পার্সেন্ট, ৫১ পার্স্টেন্ট—তাহলে ৭০ পার্সেন্ট কী? যদি ৫১ পার্সেন্ট হয় সেকেন্ড ডিভিশন, তবে ৭০ পার্সেন্ট হচ্ছে ফার্স্ট ডিভিশন। ফার্স্ট ডিভিশনকে ইগনোর করে কি সেকেন্ড ডিভিশনকে গ্রহণ করা যায়?’

জুলাই সনদকে ‘আননেসেসারি’ বলায় উত্তেজনা
আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সদস্য মঞ্জুরুল করিম তাঁর বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিরোধী দলের উদ্দেশে বলেন, এই সংসদের প্রথম দিন থেকেই আননেসেসারি একটি জুলাই সনদ নিয়ে বিতর্ক শুরু করেছে। তাঁর বক্তব্যের পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান জামায়াতের সদস্য নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় আজকে ট্রেজারি বেঞ্চের সরকার গঠন করেছেন, যারা আজকের এই সংসদে জুলাইকে আননেসেসারি বলা হয়েছে, জুলাই আলোচনাকে, এটি কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

এ সময় সংসদ সদস্যরা হৈচৈ শুরু করলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, এখানে তো বিভিন্ন দলের সদস্যবৃন্দ প্রতিনিধিত্ব করছেন। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো মতভিন্নতা। সুতরাং বাকস্বাধীনতার কারণে যে যার বক্তব্য খোলাখুলিভাবে সংসদে প্রকাশ করতে পারেন। এ সময়ও সদস্যরা হৈচৈ করতে থাকেন। এরপর মাগরিবের নামাজের জন্য অধিবেশনে বিরতি দেওয়া হয়। বিরতির পর চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, তিনি সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল করিমকে বিষয়টি জিজ্ঞাস করেছেন। ওই সদস্য বলেছেন, আননেসেসারি বিতর্ক করা যাবে না-এটা তিনি বোঝাতে চেয়েছেন। প্রয়োজন হলে এটি এক্সপাঞ্জ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি। পরে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, বিষয়টি পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box
×
News Image
বিস্তারিত কমেন্টে…

Posted ১১:১৫ এএম | সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

test
(270 বার পঠিত)
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।