ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

বাগেরহাটের সাত নদীতে তীব্র ভাঙন, বিলীন ঘরবাড়ি-ফসলি জমি

জেলা প্রতিনিধি   |   মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   9 বার পঠিত

বাগেরহাটের সাত নদীতে তীব্র ভাঙন, বিলীন ঘরবাড়ি-ফসলি জমি

বাগেরহাটের সাতটি নদী ও নৌ চ্যানেলের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বলেশ্বর, পানগুছি, ভৈরব, দড়াটানা, পশুর, মধুমতি ও মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের ভাঙনে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শত শত হেক্টর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার সরকারি বেড়িবাঁধের পাশে আশ্রয় নিয়েছে। কেউ কেউ জীবিকার সন্ধানে অন্য জেলায় চলে যাচ্ছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বলেশ্বর নদের শরণখোলার গাবতলা, বগী, বরুইতলা ও মোরেলগঞ্জের ফাসিয়াতলা এলাকায় প্রায় তিন কিলোমিটারজুড়ে ভাঙন চলছে। পানগুছি নদীর মোরেলগঞ্জের বারুইগালি, সন্ন্যাসী ও মিস্ত্রীডাঙ্গা এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার ভৈরব নদীর বারুইপাড়া এবং দড়াটানা নদীর বৈটপুর-বিষ্ণুপুর এলাকাতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

মোংলার চিলা এলাকায় প্রায় ৫০০ মিটারজুড়ে পশুর নদীর ভাঙনে ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। মোল্লাহাট ও চিতলমারী এলাকায় মধুমতি নদীতেও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল ও মোংলা অংশ। রামপালের রোমজাইপুর ও সিংগড়বুনিয়া এলাকায় পাকা সড়ক, বসতবাড়ি ও ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে। পেড়িখালী খেয়াঘাট ও রামপাল উপজেলা সদরের সরকারি কলেজের মাঠও ভাঙনের কবলে পড়েছে।

হুড়কা, ছাড়াখালী ও ওড়াবুনিয়া এলাকায় অর্ধশতাধিক বাড়ি এবং প্রায় ১০০ একর কৃষিজমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

বলেশ্বর নদের মোরেলগঞ্জের ফাসিয়াতলা এলাকার বাসিন্দা ছকিনা বেগম, হারুন হাওলাদার, রেহানা বেগম ও লোকমান ফকিরের পরিবার ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে সরকারি বেড়িবাঁধের পাশে খুপড়ি ঘরে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বলেন, ঘরবাড়ি ও জমি হারিয়ে তাদের থাকার মতো আর কোনো জায়গা নেই। কাজের সুযোগ পেলে পরিবার নিয়ে গাজীপুরে চলে যাওয়ার কথাও ভাবছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মোল্লাহাট, রামপাল ও মোংলা এলাকায় ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে অনেক পরিবার খুলনা, ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে কাজের সন্ধানে চলে গেছে।

সম্প্রতি রামপাল ও মোংলার ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত কুমার পাল বলেন, জেলার বিভিন্ন নদীর ভাঙন রোধে পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে কাজ শুরু হয়েছে। পানগুছি নদীর বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ঠেকাতে ৬৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে পাঁচ বছর মেয়াদি কাজ চলছে।

তিনি বলেন, মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ চ্যানেলের রামপাল ও মোংলা অংশে ভাঙন রোধে টেকসই উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে তিনটি পয়েন্টে কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য এলাকায় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে।

Facebook Comments Box

Posted ১০:৩২ এএম | মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।