ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | 2 বার পঠিত

আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির পূর্ব উপকূলীয় জলসীমার দিকে একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী। চলতি বছরে উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক অস্ত্র পরীক্ষার এটি সর্বশেষ ঘটনা।
দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এক বিবৃতিতে জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৫টার দিকে উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ওনসান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের পর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী নজরদারি আরও জোরদার করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
এদিকে জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া সম্ভবত একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে। তবে এটি জাপানের ভূখণ্ড বা জলসীমায় কোনো প্রভাব ফেলেনি।
পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে জোর
২০১৯ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই পিয়ংইয়ং পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্প্রসারণে আরও সক্রিয় হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, কিম জং উনের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তর কোরিয়াকে একটি স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। এর মাধ্যমে দেশটির ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের দাবিকে আরও শক্তিশালী করতে চায় পিয়ংইয়ং।
গত মাসে কিম জং উন নতুন পাঁচ হাজার টন ওজনের একটি ডেস্ট্রয়ারে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষাও তদারকি করেন। দীর্ঘদিন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও বিশেষ জোর দিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। এর অংশ হিসেবে দেশটি পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন নির্মাণ কর্মসূচিও এগিয়ে নিচ্ছে।
পানির নিচ থেকে আইসিবিএম উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা
গত ফেব্রুয়ারিতে ওয়ার্কার্স পার্টির কংগ্রেসে ঘোষিত পাঁচ বছর মেয়াদি সামরিক পরিকল্পনায় কিম জং উন পানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) তৈরির লক্ষ্য ঘোষণা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ সক্ষমতা অর্জিত হলে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে।
রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সম্পর্কও উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহায়তা দিতে পিয়ংইয়ং প্রচলিত অস্ত্র ও সেনাসদস্য সরবরাহ করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এর ফলে কোরীয় উপদ্বীপ এবং বৃহত্তর এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, নিক্কেই এশিয়া, ফ্রান্স২৪।
Posted ১২:৩৭ পিএম | বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।