ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

দেশের ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ, রাতেও মিলছে না স্বস্তি

জাতীয় ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   60 বার পঠিত

দেশের ৪৮ জেলায় তাপপ্রবাহ, রাতেও মিলছে না স্বস্তি

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের ৪৮টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। ফলে রাতেও তেমন স্বস্তি মিলছে না, বরং গরমের চাপ দীর্ঘ সময় ধরে অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুধু তাপমাত্রা বেশি হওয়াই নয়, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে ব্যবধান কমে যাওয়াইও অস্বস্তিকর এই গরমের অন্যতম কারণ।

আজ বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ দিনের সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার ব্যবধান ছিল মাত্র ৭ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, সাধারণত দিনের ও রাতের তাপমাত্রার মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকলে রাতের দিকে পরিবেশ কিছুটা ঠান্ডা হয়। কিন্তু বর্তমানে দেশের বেশিরভাগ এলাকায় এই পার্থক্য ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কম। ফলে রাতেও তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না। এ কারণেই মানুষ সার্বক্ষণিক অস্বস্তিকর গরম অনুভব করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলায় সূর্যের তাপে ভূমি ও অবকাঠামো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাতে তাপমাত্রা পর্যাপ্ত পরিমাণে না কমলে সেই সঞ্চিত তাপ বাতাসে থেকে যায়। এতে দিনের গরম রাতেও বজায় থাকে। নগরাঞ্চলে কংক্রিটের ভবন ও পিচঢালা সড়ক এ পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তোলে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণও অনেক বেশি। একই সঙ্গে বাতাসের গতি কম থাকায় গরম বাতাস স্থির হয়ে থাকছে। ফলে প্রকৃত তাপমাত্রার চেয়েও বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকে। আর্দ্রতা বেশি থাকলে শরীর থেকে নির্গত ঘাম দ্রুত শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের স্বাভাবিক শীতলীকরণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং গরম আরও তীব্র বলে মনে হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে দিনের ব্যাপ্তিও দীর্ঘ। দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের তাপ ভূ-পৃষ্ঠে পড়ায় পরিবেশে তাপ জমে থাকছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আজ দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল দিনাজপুরে ৩৮ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকায় গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সাধারণত মে মাসের শেষ দিকে দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে এবং বৃষ্টিপাত বাড়তে শুরু করে। কিন্তু এবার মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় তাপপ্রবাহ দীর্ঘায়িত হয়েছে। আগামী শনিবারের আগে তাপপ্রবাহ থেকে উল্লেখযোগ্য স্বস্তির সম্ভাবনা নেই বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রা কতটা কমছে, সেটিও গরমের তীব্রতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ সূচক। বর্তমানে দিনের তাপমাত্রা বেশি থাকার পাশাপাশি রাতেও তাপমাত্রা উচ্চ অবস্থানে থাকায় মানুষ এক ধরনের ‘অবিরাম তাপচাপের’ মধ্যে রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি এবং খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

এদিকে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার (ডব্লিউএমও) আজকের পূর্বাভাস জানিয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বৈশ্বিক তাপমাত্রা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন ও সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে তাপদাহের প্রকোপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের আরও উষ্ণ আবহাওয়ার একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ৩:০৯ এএম | বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এ বিভাগের আরও খবর

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।