ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | 9 বার পঠিত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় মার্কিন বাহিনীকে পর্তুগালের গুরুত্বপূর্ণ লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে পর্তুগাল সরকার আইন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি মেনেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন দেশটির প্রসিকিউটররা।
পর্তুগালের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, বামপন্থী বিরোধী দল লেফট ব্লকের কয়েকজন সদস্যের অভিযোগের ভিত্তিতে এ তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে তদন্তের বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি কর্তৃপক্ষ।
মার্চে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের সময় পর্তুগাল সরকার মার্কিন বাহিনীকে লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে কয়েকটি ট্রানজিট ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেয়। এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই দেশটির বামপন্থী বিরোধী দলগুলোর সমালোচনার মুখে পড়ে সরকার।
যুদ্ধকালীন ব্যবহারে কেন প্রয়োজন ছিল অনুমতি?
পর্তুগাল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের একটি সামরিক চুক্তি রয়েছে। এর আওতায় শান্তিকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র লাজেস ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারে। তবে সংঘাত বা যুদ্ধের পরিস্থিতিতে নিয়ম ভিন্ন। সে ক্ষেত্রে মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারের জন্য পর্তুগাল সরকারের অনুমোদন নিতে হয়।
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় সেই অনুমোদন দেওয়ার বৈধতা নিয়েই এখন তদন্ত চলছে।
পর্তুগালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাওলো রাঙ্গেল এর আগে জানিয়েছিলেন, নির্দিষ্ট শর্তের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রকে লাজেস ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। শর্ত অনুযায়ী, ঘাঁটি থেকে পরিচালিত যেকোনো সামরিক অভিযান আত্মরক্ষামূলক বা প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির হতে হবে। একই সঙ্গে তা প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক এবং কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।
পর্তুগাল সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, অনুমতি দেওয়ার সময় আন্তর্জাতিক আইন এবং দেশের নিজস্ব আইনি বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের
তবে সরকারের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় দেশটির বামপন্থী বিরোধী দলগুলো। তাদের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক কর্মকাণ্ডে পর্তুগালের ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার তার আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন।
লেফট ব্লকের সদস্যদের অভিযোগের পরই প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও আইনি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তদন্তে সেটিই খতিয়ে দেখা হবে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সরকারের সিদ্ধান্ত আইন লঙ্ঘন করেছে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
কেন গুরুত্বপূর্ণ লাজেস বিমানঘাঁটি?
আটলান্টিক মহাসাগরের আজোরেস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত লাজেস বিমানঘাঁটি যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সামরিক যোগাযোগ ও বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ঘাঁটিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পর্তুগালের দীর্ঘদিনের সামরিক সহযোগিতারও অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ লাজেস। ফলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক বিমানকে এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি পর্তুগালের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এখন প্রসিকিউটরদের তদন্তের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে—যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে লাজেস বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে গিয়ে পর্তুগাল সরকার সংশ্লিষ্ট চুক্তি ও আইনি বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করেছিল কি না।
সূত্র: আল-জাজিরা, রয়টার্স
Posted ৭:১৬ এএম | রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Dulal
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।