জাতীয় ডেস্ক | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬ | প্রিন্ট | 46 বার পঠিত

জুনিয়র বৃত্তিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও আর্থিক সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ও এককালীন অনুদান দ্বিগুণের পাশাপাশি বৃত্তির সংখ্যা ৯ হাজারের বেশি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে এ-সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং ঝরে পড়া রোধে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
খসড়া প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পথ আরও মসৃণ করতে বর্তমানে যে হারে বৃত্তি দেওয়া হচ্ছে, তার চেয়ে অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কোটা বৃদ্ধি করা হবে। একই সঙ্গে বৃত্তির অর্থের অঙ্ক দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক-১) সাইদুর রহমান জানান, জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো-সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে তা অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে। এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা গেছে, বর্তমানে সারাদেশে ৪৬ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী সরকারি জুনিয়র বৃত্তি পাচ্ছে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে রয়েছে ১৪ হাজার ৭০০ জন এবং সাধারণ কোটায় ৩১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থী। প্রস্তাব অনুযায়ী এ সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৫ হাজার ৪৪০-এ উন্নীত করা হবে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৭ হাজার ৬৪০ এবং সাধারণ কোটায় ৩৭ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী বৃত্তি পাবে। ফলে নতুন করে আরও ৯ হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী বৃত্তির আওতায় আসবে।
খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুল বৃত্তিতে মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ টাকা এবং বার্ষিক অনুদান ৫৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ১২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন শিক্ষার্থী বছরে ১১ হাজার ৯২০ টাকা পাবে, যা বর্তমানে পাঁচ হাজার ৯৬০ টাকা।
অন্যদিকে, সাধারণ বৃত্তি কোটায় মাসিক ভাতা ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬০০ টাকা এবং বার্ষিক অনুদান ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক সুবিধা তিন হাজার ৯৫০ টাকা থেকে বেড়ে সাত হাজার ৯০০ টাকা হবে। এ সুবিধা এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত দুই বছর ভোগ করা যাবে।
প্রস্তাবনায় আরও বলা হয়েছে, বর্তমানে ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির পেছনে সরকার দুই বছরে ব্যয় করে ৪২ কোটি ৪০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। নতুন হার কার্যকর হলে দুই বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১০১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ টাকা। অর্থাৎ, আগের তুলনায় অতিরিক্ত ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ তিন হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় বাড়বে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি মাধ্যমিক-২) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিললে দ্রুতই এ বিষয়ে সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হবে।
Posted ২:৫৯ পিএম | রবিবার, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।