বিশ্ব ডেস্ক | সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 144 বার পঠিত

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও শান্তিরক্ষা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন চুক্তির মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর নেতারা। তারা জোর দিয়েছেন, ইসরায়েল গাজায় যা করছে, তা খুবই বিপজ্জনক। যে কোনো সময় যুদ্ধবিরতি ভেঙে যেতে পারে। ভবিষ্যতে গাজার যে কোনো শাসন ব্যবস্থা ফিলিস্তিনিদের হাতেই থাকা উচিত বলে মনে করেন তারা। পাশাপাশি দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানে জোর দিয়েছেন নেতারা। কাতারে দোহা ফোরামের সম্মেলনের প্রাক্কালে নেতারা গণমাধ্যমে এসব মতামত দেন।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জসিম আল থানি বলেছেন, কাতার ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে। ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব ভূমিতে থাকার অধিকার রয়েছে। থানি বলেন, গাজাকেন্দ্রিক অরাষ্ট্রীয় শক্তিগুলোর সঙ্গে কথা বলা ছাড়া সমস্যার সমাধান আশা করা যায় না।
নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে আলজাজিরাকে বলেন, ভয়াবহ যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি। যুদ্ধবিরতি ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। তিনি বলেন, সংকট সমাধানে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের কোনো বিকল্প নেই।
মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি বলেন, উভয় পক্ষ যাতে যুদ্ধবিরতি মেনে চলে, তা নিশ্চিত করার জন্য গাজায় একটি আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন করতে হবে। কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়ার জন্য নয়, এই বাহিনী শান্তিরক্ষার জন্য হওয়া উচিত। জনস্বার্থে রাফাহ ক্রসিং খুলে রাখার আহ্বান জানান তিনি। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মানাল রাদওয়ান দোহা ফোরামে বলেন, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের অবসান ঘটানোর একমাত্র উপায় হলো দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধান। সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা বলেন, গাজায় সংঘটিত ‘ভয়াবহ গণহত্যা’ থেকে মনোযোগ সরাতে আঞ্চলিক উত্তেজনা উস্কে দিচ্ছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রথম ধাপ শেষ করে এখন আমরা দ্বিতীয় ধাপের দিকে যাচ্ছি। গতকাল সফররত জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের নিরাপত্তার দায়িত্ব এখন ইসরায়েলের হাতে। গাজায় তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে শিশুরা। গত মাসে সাত হাজার শিশুর মধ্যে তীব্র অপুষ্টিতে ভোগা ৫০৮ জনকে চিহ্নিত করেছে জাতিসংঘের সংস্থা। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে গাজার পাঁচ লাখের বেশি মানুষ।
গাজার ভবিষ্যৎ নিয়ে নেতানিয়াহু গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ইসরায়েলের পাবলিক ব্রডকাস্টার কেএএন নিউজ এ তথ্য প্রকাশ করে। বৈঠকে গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হার্জোগ নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
গাজায় বিমান হামলায় নিহত ৭
মধ্য গাজার মাঘাজি ক্যাম্পে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। এর আগে উত্তর গাজায় সাত ফিলিস্তিনিকে হত্যা করা হয়। যাদের মধ্যে ৭০ বছর বয়সী এক নারী এবং তাঁর ছেলেও রয়েছেন। এ ছাড়া শনিবার সন্ধ্যায় বাব আজ-জাওইয়ায় ইসরায়েলি সেনারা দুই ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে। যে গাজা সিটির তুফাহপাড়ায় ইয়েলো লাইনের বাইরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে এক শিশু আহত হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় কমপক্ষে ৭০ হাজার ৩৫৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৩৬৭ জনকে হত্যা করা হয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলরের ইসরায়েল সফর নিয়ে বিতর্ক
ইসরায়েলি গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে গতকাল রোববার বার্লিনে বিক্ষোভ হয়েছে। তারা ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানির প্রতিবাদে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সমালোচনা করে। বিক্ষোভটি এমন সময় হলো, যখন মের্জ ইসরায়েলে সফরে রয়েছেন। সফরে মের্জ ইসরায়েলের সঙ্গে ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তি করেছেন। গত মে মাসে চ্যান্সেলরের দায়িত্ব নেওয়ার পর মের্জ প্রথমবারের মতো ইসরায়েল সফর করছেন। তিনি গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা মনে করেন না।
Posted ৩:১০ এএম | সোমবার, ০৮ ডিসেম্বর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Mr. Reporter
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।