নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫ | প্রিন্ট | 266 বার পঠিত

জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় দখলের যেই অভিযোগ উঠিয়াছে, উহা গুরুতর। বস্তুত গত বৎসরের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর হইতেই নূতন করিয়া বিভিন্ন দখলের খবর আমরা দেখিয়াছি। বিশেষত গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দানকারী হিসাবে তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং পরে তাহাদের একাংশের নেতৃত্বে গঠিত রাজনৈতিক দল এনসিপির কতিপয় নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এহেন দখলের অভিযোগ উঠিয়াছে। এই ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের ঘটনা গুরুতর। মঙ্গলবার এনসিপির শতাধিক কর্মী আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা ভাঙিয়া ঢুকিয়া সেইখানকার আসবাব ভাঙচুর করিয়া উহার দখল লইয়াছেন। যেইখানে এনসিপি নূতন বন্দোবস্তের কথা বলিতেছে, সেইখানে এহেন কর্মকাণ্ড নিঃসন্দেহে হতাশাজনক।
ইতোপূর্বে খবর হইয়াছে, এনসিপি চরফ্যাসনে আওয়ামী লীগ কার্যালয় দখল করিয়া দলটির ব্যানার লাগাইয়া কার্যক্রম পরিচালনা করিতেছে। এনসিপি নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ কিংবা বৈষম্যবিরোধী ব্যানারে ফুটপাত দখলের খবরও সংবাদমাধ্যমে আসিয়াছে। ইহার বাহিরেও অন্যান্য দখল থাকা অস্বাভাবিক নহে, যাহা সংবাদমাধ্যম পর্যন্ত পৌঁছায় নাই। দখলের সহিত চাঁদাবাজির বিষয়ও উল্লেখযোগ্য, যথায় কেবল এনসিপি নহে, অন্যান্য দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ রহিয়াছে। অনেক এলাকায় আওয়ামী লীগের স্থলে চাঁদাবাজের তালিকায় বিএনপি নেতাকর্মীর নাম উঠিয়াছে। এই অপকর্মের হোতা হিসাবে রাজধানীর দুই-একজন শীর্ষ সন্ত্রাসীর নামও সম্মুখে আসিয়াছে।
গত বৎসর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হইতেই বহুবিধ দখলের খবর সংবাদমাধ্যমে আসিয়াছে। ফুটপাত হইতে শুরু করিয়া পরিবহন খাতও বাদ যায় নাই। ইহার সহিত বেদখল হইয়াছে ভূসম্পত্তি এবং রাজনৈতিক কার্যালয়ও। এই ক্ষেত্রে ইহাও স্মর্তব্য, ৫ আগস্টের পর কিছুদিন পুলিশ বাহিনীর অনুপস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক হইয়া পড়ে। ঐ সময় কতিপয় সুযোগসন্ধানী এই ধরনের দখলের সূচনা করিয়াছিল এবং তথায় রাজনৈতিক সংশ্রবও আমরা দেখিয়াছি। তবে সেই পরিস্থিতি এখন আর নাই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় হইয়া কাজ করিতেছে এবং সরকারও স্থিতিশীল। এই পরিস্থিতিতে আসিয়া যদি এনসিপি নেতার দ্বারা দখলকার্য সম্পাদিত হয়, উহার দায় কে লইবে?
আমরা প্রত্যাশা করিয়াছিলাম, আওয়ামী লীগের পরিণতি হইতে দেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল শিক্ষা গ্রহণ করিবে। বাস্তবে দলগুলির কর্মকাণ্ডে উহা প্রতীয়মান হইতেছে না। এই ক্ষেত্রে দলগুলির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের দায় কম নহে। তাহারা নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করিতে ব্যর্থ হইতেছে কেন? এনসিপির নেতাকর্মীদের জন্য এই ধরনের কর্মকাণ্ড যদ্রূপ দলকে বিপদে ফেলিবে, তদ্রূপ অন্যদের নিকটও উহার নেতিবাচক বার্তা যাইবে। আমরা ইহাও মনে করি, দলবল লইয়া এইভাবে কার্যালয় দখল আইনশৃঙ্খলার জন্যও উদ্বেগজনক। বস্তুত ইতোপূর্বে সারাদেশে যেই ধরনের মব সন্ত্রাস হইয়াছিল, সেইগুলি নিয়ন্ত্রণেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যথাযথ তৎপর দেখা যায় নাই। এই ক্ষেত্রে পুলিশকে অবশ্যই দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হইবে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হইলে উহা সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলিবে।
আমরা দেখিতে চাহিব, চট্টগ্রামের আলোচ্য ঘটনায় পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা লইবে। সেথায় নূতন করিয়া এনসিপি যাহাতে দখল কায়েম করিতে না পারে– উহা নিশ্চিত করাও তাহাদের দায়িত্ব। দলের তরফ হইতেও বিষয়টি আমলে লইয়া সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা লইতে হইবে।
আমরা বিশ্বাস করি, জুলাই অভ্যুত্থান হইতে গড়িয়া উঠা এনসিপির নূতন বন্দোবস্ত জনকল্যাণমুখী হইবে। এই ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের কোনোরূপ অপরাধকে প্রশ্রয় দিবার অবকাশ নাই। নূতন প্রজন্মের দল হিসাবে এনসিপি উহা প্রশমন করিতে পারিলে কেবল নূতন বন্দোবস্তের রাজনীতির প্রত্যাশা করা যাইবে।
Posted ৪:১৩ পিএম | শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৫
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল | Best BD IT
এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
এ বিভাগের আরও খবর
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।