ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে
শিরোনাম >>

বন্দরের উন্নয়নে বিদেশি সহযোগিতা: সম্ভাবনা, শর্ত ও সতর্কতা

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   253 বার পঠিত

বন্দরের উন্নয়নে বিদেশি সহযোগিতা: সম্ভাবনা, শর্ত ও সতর্কতা

আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি, লালদিয়ার চর এবং ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে ছেড়ে দেওয়া হবে। তারা ২৫ থেকে ৩০ বছরের জন্য এসব টার্মিনাল পরিচালনা করবে (সমকাল, ১৩ অক্টোবর ২০২৫)। দেশের বন্দর ব্যবস্থাপনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে যুক্ত করার মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, অথচ জাতীয় পর্যায়ে এর কোনো বিস্তৃত বা উন্মুক্ত আলোচনা হয়নি। এমন একটি কৌশলগত ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বিষয়ে সংসদ, পেশাজীবী মহল বা সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মতবিনিময় না হওয়া স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের উদ্রেক করছে। চট্টগ্রাম, পানগাঁও ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল ২৫ থেকে ৩০ বছরের জন্য বিদেশি পরিচালনার হাতে দেওয়ার পরিকল্পনাকে সময়ের দাবি হিসেবে ব্যাখ্যা করা হলেও, এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বাইরে রেখে নেওয়া হলে জনআস্থা ক্ষুণ্ণ হতে পারে। নৌসচিব বলেছেন প্রয়োজনে চুক্তি প্রকাশ করা হবে, যা ইতিবাচক হলেও ‘প্রয়োজনে’ শব্দটি স্বচ্ছতার বিষয়টিকে যথেষ্ট জোরালো করে না।

তবে বিষয়টি যেহেতু কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং দীর্ঘমেয়াদি, তাই এটি শুধুমাত্র প্রশাসনিক স্তরে চূড়ান্ত না করে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও নতুন সরকার গঠনের পর সংসদে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে অধিকতর যুক্তিসঙ্গত হতো। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মধ্য দিয়ে খোলামেলা আলোচনায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে সিদ্ধান্তটি গণতান্ত্রিক বৈধতা পেত এবং ভবিষ্যতে কোনো বিতর্কের সুযোগ থাকত না। এতে জনআস্থা যেমন দৃঢ় হতো, তেমনি দায়িত্বশীল শাসনের মানদণ্ডও প্রতিষ্ঠিত হতো।

বিদেশি সহযোগিতা গ্রহণের বিষয়টি বাংলাদেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য পরিহারযোগ্য নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রয়োজনীয় ও ফলদায়ক। তবে কৌশলগত খাত পরিচালনার দায়িত্বে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা কতটা থাকবে, আর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ কতটা বজায় থাকবে – এই ভারসাম্য স্পষ্ট না থাকলে দীর্ঘমেয়াদে তা আমাদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা হ্রাস করতে পারে। পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কার জটিল উদাহরন এক্ষেত্রে  বিবেচনায় নেয়া প্রয়োজন। তাই বিদেশি দক্ষতা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশীয় জনবলকে দক্ষ করে তোলা, স্থানীয় অংশীদারদের যুক্ত করা এবং পর্যায়ক্রমে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী পরিকল্পনার ভিত্তিতে যদি এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়, তাহলেই তা দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থের পক্ষে একটি শক্ত ভিত হয়ে উঠতে পারে।

Facebook Comments Box

Posted ৫:৩১ পিএম | সোমবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৫

ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

না ভোটের অধিকার
(429 বার পঠিত)
মোদির নতুন চাল
(420 বার পঠিত)
ইউএসএ থেকে প্রকাশিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সংবাদ এবং তথ্যে আপনার প্রয়োজন মেটাতে

NSM Moyeenul Hasan Sajal

Editor & Publisher
Phone: +1(347)6598410
Email: protidinkar@gmail.com, editor@protidinkar.com

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, অডিও, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি।